শিরোনাম

শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ বাড়িয়ে শ্রম আইনের খসড়া অনুমোদন

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৫:২৫:৪৭ অপরাহ্ণ - ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ২২

শিশুশ্রম নিষিদ্ধ, শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ বৃদ্ধি ও উৎসব ভাতা প্রদান এবং অপরাধের শাস্তি কমিয়ে ‘বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইন, ২০১৮’ এর খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সোমবার (০৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে আইনের খসড়ার অনুমোদন দেওয়া হয়।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের বলেন, শ্রমিকদের সুরক্ষা ও উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য ২০০৬ সালে শ্রম আইন করা হয়। পরবর্তীতে ২০১৩ সালে ৯০টি ধারা সংশোধন হয়। আজকেও অনেকগুলো ধারা সংশোধনের কথা বলা হয়েছে। আইএলও কনভেনশন অনুযায়ী, সব কারাখানায় শ্রমবান্ধব পলিসি নিশ্চিত করতে আইনকে আপডেট করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়।

‘আইনে আগে শাস্তি বেশি ছিলো, এখন কমানো হয়েছে, অনেক নতুন সুবিধা দেওয়া হয়েছে,’ বলেন তিনি।

শ্রমিকদের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মতো উৎসব ভাতা প্রদান করার বিধান সংযোজন করা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, কোনো কারখানা বা প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের তাদের স্ব স্ব ধর্মীয় উৎসবের প্রাক্কালে বিধি দ্বারা নির্ধারিত উৎসব ভাতা প্রযোজ্য।

মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কোনো প্রাপ্ত বয়স্ক শ্রমিকের কাজের সময় এমনভাবে ব্যবস্থা করতে হবে যেন আহার ও বিশ্রামের বিরতি ছাড়া ১০ ঘণ্টার বেশি না হয়। তবে সরকার ব্যতিক্রম করলে পরিবর্তন করা যাবে।

উৎসব ছুটি নিয়ে বলা হয়েছে, কোনো শ্রমিককে উৎসবের দিনে কাজ করাতে পারবে। তবে এর জন্য তাকে এক দিনের বিকল্প ছুটি এবং দুই দিনের ক্ষতিপূরণমূলক মজুরি দিতে হবে।

শ্রমিকরা ইচ্ছা করলে যৌথ দর কষাকষির মাধ্যমে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে কাজ করে পরবর্তীতে সাপ্তাহিক ছুটি উৎসব ছুটির সঙ্গে ভোগ করতে পারবেন। সেক্ষেত্রে সাপ্তাহিক ছুটির দিনের কাজের জন্য ভাতা প্রদান করা হবে না।

প্রতিবন্ধী শ্রমিকদের বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, প্রতিবন্ধী শ্রমিকদের বিপজ্জনক যন্ত্রপাতির কাজে বা ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োগ করা যাবে না। আগে শিশু শ্রমিককে বিপজ্জনক কাজে শর্ত সাপেক্ষে নিয়োগ করার বিধান ছিল। সেটাকে সংশোধন করে প্রতিবন্ধী শ্রমিকের কথা বলা হয়েছে।

নারী শ্রমিকদের ব্যাপারে নতুন ধারা যুক্ত করা হয়েছে জানিয়ে তিনি জানান, কোনো মহিলা শ্রমিক সন্তান প্রসবের প্রমাণ পেশ করার পরবর্তী তিন কর্ম দিবসের মধ্যে উক্ত সময়ের জন্য প্রদেয় প্রসূতি কল্যাণ সুবিধাসহ প্রসব পরবর্তী ৮ সপ্তাহ পর্যন্ত অনুপস্থিত থাকার অনুমতি পাবেন। অর্থাৎ মাতৃকালীন ছুটির মতো সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।

কোনো মালিক কোনো মহিলাকে প্রসূতি কল্যাণ সুবিধা থেকে বঞ্চিত করলে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

আইনে শ্রমিকদের অসদাচারণে বলা হয়, বল প্রয়োগ, হুমকি প্রদান, কোন স্থানে বা উচ্ছেদ সংক্রান্ত শারীরিক আঘাত এবং পানি বা বিদ্যুৎ বা গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে মালিককে কোনো নিস্পত্তি নামায় দস্তখত করতে বা কোনো দাবি মেনে নিতে বাধ্য করবে না বা চেষ্টা করবে না। কোনো বেআইনি ধর্মঘটে অংশগ্রহণ বা ঢিমেতালে কাজ শুরু করবেন বা চালু রাখবে না বা এমন বিষয়ে অংশগ্রহণ করবে না।

মালিকেরা চাকরিচ্যুতি বা অসাদাচরণ করলে একবছর কারাদণ্ড ১০ হাজার টাকা জরিমানা। এই সাজা এবং অর্থদণ্ড মালিক-শ্রমিক উভয়ের জন্য সমান।

ধর্মঘট বা লকআউটের ক্ষেত্রে আগের দুই-তৃতীয়াংশের জায়গায় ৫১ শতাংশ সদস্যের সমর্থনের প্রয়োজন হবে। সাজা ১ বছর থেকে কমিয়ে ৬ মাস করা হয়েছে। আর অর্থদণ্ড ৫ হাজার টাকা।

ট্রেড ইউনিয়ন করার জন্য আগের ৩০ শতাংশের জায়গায় ২০ শতাংশ  শ্রমিকের মতামতকে নির্ধারণ করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি একাধিক ট্রেড ইউনিয়নের সদস্য হলে আগে ৬ মাসের কারাদণ্ড ছিল, এখন এক মাস।

‘অপ্রাপ্ত বয়স্কের’ জায়গায় নতুন আইনে ‘কিশোর’ নামে অভিবিহত করা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম বলেন, আগে ১২ বছর পর্যন্ত হালকা কাজের সুবিধা ছিলো। এখন ১৪ থেকে ১৮ পর্যন্ত কিশোরেরা হালকা কাজ করার সুযোগ পাবে। আইন লঙ্ঘন করলে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড দেওয়া হবে।
শ্রমিকের ক্ষতিপূরণের পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে আইনে। মৃত্যজনিত কারণে এক লাখ টাকার স্থলে ২ লাখ টাকা এবং স্থায়ী অক্ষমতা জনিত কারণে এক লাখ ২৫ হাজার টাকার স্থলে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

আইনে মৃত শ্রমিকের অপরিশোধিত মজুরি শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে শ্রমিকের মনোনীত প্রতিনিধিকে প্রদান, শ্রমিক সংগঠন বিদেশ থেকে চাঁদা নিলে সরকারে অবহিতকরণ, রেজিস্ট্রেশন প্রদানের সময়সীমা ৬০ দিনের জায়গায় ৫৫ দিন, বেসামরিক বিমান পরিবহন প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে একটির বেশি ইউনিয়ন প্রদানের সুযোগ, বিশ্রাম ও খাবর জায়গা বরাদ্দ রাখা, শ্রম আদালতে মামলা নিষ্পত্তি সর্বোচ্চ ১৮০ দিন রাখা এবং ত্রিপক্ষীয় পরামর্শক পরিষদ গঠনের জন্য সরকারকে সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রিসভার বৈঠকে শ্রমিকের সংজ্ঞা নিয়ে তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম সাংবাদিকদের শ্রমিক না বলার পক্ষে মত দেন। তখন শ্রম প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটা নিয়ে সাংবাদিকেরা কিছু বলেননি, তারা বললে বিবেচনায় নেওয়া যেতে পারে।

সর্বশেষ
জনপ্রিয় খবর