শিরোনাম

“শেষ বয়সে বীর মুক্তিযোদ্ধা তালেব আলীর ঠাঁই হয়েছে মুরগীর খোয়াড় “

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৩:২০:০৫ পূর্বাহ্ণ - ০৮ নভেম্বর ২০১৮ | ১৫

সরকারের কাছে একটি ঘর নির্মাণ করে দেয়ার আকুতি জানিয়েছেন বিশ্বনাথের বীর মুক্তিযোদ্ধা তালেব আলী। শেষ বয়সে এসে যার ঠাঁই হয়েছে হাঁস-মুরগীর ঘরে।

মুক্তিযোদ্ধা তালেব আলী জানান, ‘আগে বাড়ির পূর্ব দিকের একটি ঘরে বসবাস করতাম। একবার ডাকাতের কবলে পড়ে ভয়ে বড়ভাইয়ের বসতঘরে চলে আসি।’

সিলেটের বিশ্বনাথে জন্ম নেয়া দেশের সূর্যসন্তান জীবনযাপন করছেন খুবই মানবেতরভাবে। উপজেলার সদর ইউনিয়নের তাতিকোনা গ্রামের মৃত ইছব আলীর পুত্র তালেব আলী বর্তমানে বড়ভাইয়ের পরিবারে অনেকটা নিঃসঙ্গ বসবাস করছেন। কেউ খবর রাখছে না এই মুক্তিযোদ্ধার।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মুক্তিযোদ্ধা তালেব আলীর জন্ম ১৯৩২ সালের ১২ মে (জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী) উপজেলার তাতিকোনা গ্রামে। ২৮ বছর বয়সে তিনি দেশমাতৃকার টানে ঝাঁপিয়ে পড়েন মহান মুক্তিসংগ্রামে। মীর শওকত আলীর নেতৃত্বাধীন ৫নং সেক্টরের ভোলাগঞ্জ হতে ছাতক পর্যন্ত অঞ্চলে যুদ্ধ করে দেশকে হায়েনামুক্ত করতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন এই সাহসী সন্তান। তার মুক্তিবার্তা নং ০৫০১০৯০০৩২। গেজেট নং ১৪৬৩। মুক্তিযুদ্ধ শেষে বাড়িতে ফিরে দু’দুইবার বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলেও টিকেনি তার সংসার। বর্তমানে বড় ভাই তৈয়্যব আলীর পরিবারের সাথে বসবাস করছেন তিনি।

সরেজমিনে এই মুক্তিযোদ্ধার খোঁজে গ্রামের বাড়ি উপজেলার তাতিকোনা গ্রামে গেলে দেখা যায়, বড়ভাই তৈয়ব আলীর পাকা বসতঘরের একটি নোংরা ও দুর্গন্ধময় কক্ষে ময়লা বিছানায় শুয়ে আছেন তালেব আলী। যে কক্ষটিকে হাঁস-মোরগের বাসস্থান হিসেবেই ব্যবহার করা হয়। সালাম দিতেই বহু কষ্টে উঠে বসলেন। কথা হলো স্ত্রী-সন্তানহীন জাতির এই সূর্যসন্তানের সাথে।

তিনি জানান, ‘আগে বাড়ির পূর্ব দিকের একটি ঘরে বসবাস করতাম। একবার ডাকাতের কবলে পড়ে ভয়ে বড়ভাইয়ের বসতঘরে চলে আসি।’

হাঁস-মোরগের ঘরে কেন? -এমন প্রশ্নে তালেব আলী বলেন, ‘আর কোনো কক্ষ খালি না থাকায় আমিই স্বেচ্ছায় এই ঘরটিকে বেছে নিয়েছি। নিজের একটি ঘরের জন্য অনেকের কাছে ছুটে গিয়েছি। কোনো সাড়া পাইনি। আমার নিজস্ব জায়গা আছে। সরকার যদি সেখানে একটি ঘর নির্মাণ করে দিত, তাহলে শেষ বয়সে অন্তত নিজের ঘরে বসবাস করতে পারতাম।’

তালেব আলীর বড়ভাই তৈয়্যব আলী জানান, তালেব আলী জোর করেই ওই ঘরে থাকছেন। তবে, তারা তাকে ঠিকমতোই দেখাশোনা করছেন বলে জানান।

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ওয়াহিদ আলী বলেন, বড়ভাইয়ের পাকা বসতঘরে তো তালেব আলীর জায়গা পাওয়ার অধিকার আছে। একটি ভালো কক্ষে অথবা যে কক্ষে বর্তমানে আছে, সেটাকে বাস উপযোগী করে তাকে ভালোভাবে জীবনযাপন করতে দেয়া তার পরিবারের দায়িত্ব। এ ব্যাপারে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমিতাভ পরাগ তালুকদার বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা তালেব আলীর বাড়ী সরেজমিন পরিদর্শন করে এ বিষয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সর্বশেষ
জনপ্রিয় খবর