শিরোনাম

শিশু রাফিয়ার মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধান, বিচার চাই

সর্বশেষ আপডেটঃ ১২:৩৭:৩৭ পূর্বাহ্ণ - ৩০ আগস্ট ২০১৮ | ১৭

২৬ আগস্ট বিকাল তিনটায় ঔপন্যাসিক মাহমুদ বাবু তার চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ুয়া কন্যা রাইফাকে গাইনী ডাক্তার শিলা সেনের কাছে নিয়ে যান। রাফিয়ার পেটে তীব্র ব্যাথা। আগে ২২ তারিখ ঈদের দিন সামান্য ব্লিডিং হয়েছিলো। ডা: শিলা রাফিয়ার কিছু টেস্ট দেন। সন্ধ্যা ৭ টায় রিপোর্ট দেখে ডা: শিলা বললেন, “এপেনডিকসের সমস্যা। প্রাইমারি অবস্থা। চিকিৎসায় সেরে যাবে।” তিনি স্যালাইন, এন্টিবায়োটিক এবং আরো কিছু ওষুধ দিয়ে নিজের চিকিৎসা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘শিলাঙ্গণ’এ ভর্তি করলেন।
সারারাত এই চিকিৎসা কোন সুফল বয়ে আনেনি। রাফিয়া যন্ত্রণায় ছটফট করছে। বাবু ভাই ১২/১ টার দিকে ফোন দিয়ে বিস্তারিত জানিয়ে রোগীকে দেখার অনুরোধ করলে ডা: মনির বলেন, “আমার অন্য শিডিউল আছে, আমি সন্ধ্যায় আসবো।”
ডা: মনির কিন্তু সন্ধ্যায় এলেন না। সাড়ে ৯ টায় আসলেন। নেতিয়ে পরা রাফিয়াকে দেখে তখনও জরুরি পদক্ষেপ না নিয়ে আাল্ট্রাসনোগ্রাম করতে স্বদেশ হাসপাতালে ডা: গাজী’র কাছে পাঠালেন।
রাফিয়াকে বেড থেকে নামানোর সময় দাড় করাতে চাইলে শরীর ঢলে পরে। মেয়ের চোখ দিয়ে কেবল পানি ঝরে। কথা বলতে পারেনা।
রাত এগারোটায় আল্ট্রা রিপোর্ট নিয়ে এসে মাহমুদ বাবু দেখতে পান ডা: মনির চেম্বার ছেড়ে বাসায় চলে গেছেন।
বাধ্য হয়ে বাসার সামনে গিয়ে বারবার নক করার পর মনির জানালেন, তিনি বেডরুমে চলে গেছেন। আবারও অনুরোধ করলে তিনি দরোজায় দাড়িয়ে রিপোর্টটা একরার চোখ বুলিয়ে বললেন, “কাল দুপুরে ওটি করে দেবো।”
এই দ্বিতীয় রাতে রাফিয়া নড়াচড়া প্রায় বন্ধ করে দেয়। কথাও বলতে পারছিলো না। চোখ গড়িয়ে শুধু জলধারা বইছিলো। পরিবারের লোকজন বুঝতে পারছিলো ওর ভেতরের ধ্বংসলীলা।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে দেখে শিলাঙ্গণের ম্যানেজারকে দিয়ে ওই ক্লিনিকের সার্জন ডা: মনিরকে রাত বারোটার পর বারবার ফোন দিলেও ধরছিলো না। অসহ্য যন্ত্রণাময় সময়ের শেষ প্রান্তে শেষ রাতে ডা: মনির ফোন ধরলেন এবং ভোরে ক্লিনিকে এলেন। ম্যানেজারকে দিয়ে অজ্ঞান করার ওষুধ আনালেন। তৃতীয় দিন ভোর ছয়টার পর রাফিয়াকে ওটিতে নেওয়া হলো যখন সে প্রায় নেই নেই অবস্থায়!

ওটি থেকে বেরিয়ে ডা: মনির বললেন, “অবস্থা ক্রিটিক্যাল ছিলো। অপারেশন সাকসেসফুল!!! ”
এর কিছুক্ষণ পর রোগির পরিস্থিতি অবনতি হলে কয়েকজন মিলে তাকে পাম্প করতে থাকে।

আরও কিছুসময় পরে ডা: মনির বেরিয়ে এসে বলে, “রোগীকে আইসিইউতে পাঠান।” ডা: মনীর আগেই প্রান্তনস্পেশালাইড হাসপাতালে কথা বলে রেখেছিলো।
এম্বুলেন্স রেডি!

দশটার দিকে প্রান্ততে নেওয়ার আগেই সম্ভবত রাফিয়া নেই! শিলাঙ্গণে থাকতেই ওর পালস্ পাওয়া যাচ্ছিলো না।

বারোটাট দিকে প্রান্ত হসপিটালের স্টাফরা রাফিয়াকে নিয়ে যেতে বলেন।
ওদিকে বেলা এগারোটার দিকে মাহমুদ বাবুর পরিবারের কয়েকজন শিলাঙ্গণে গিয়ে দেখে তালাবদ্ধ। ভিতরে স্টাফ না থাকলেও বাড়তি সতর্কতা! সম্ভাব্য বিপদের প্রস্তুতি?????

মাহমুদ বাবু শোকে স্তব্ধ।
আমরাও স্তব্ধ।

ভাবছি, এভাবে আর কত প্রাণ হরণ করলে এইসব কসাইখানাগুলোর চালকদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে ওঠবে?

Abul Kalam Al Azad -এর পোস্ট থেকে কপি।

সর্বশেষ
জনপ্রিয় খবর