শিরোনাম

“শিল্পকলায় মুক্তবাক থিয়েটারের “কী চাহ শঙ্খচিল” নাটক মঞ্চস্থ”

সর্বশেষ আপডেটঃ ১০:৪৬:২৩ অপরাহ্ণ - ০৮ নভেম্বর ২০১৮ | ৪৬

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি’র আয়োজনে ও একাডেমি’র মহাপরিচালক জনাব লিয়াকত আলী লাকী’র ভাবনা ও পরিকল্পনায় জেলা পর্যায়ে “শিল্পের শহর” কর্মসূচির অংশ হিসেবে গত ০৭ নভেম্বর’১৮, বুধবার, বিকাল ০৪টায়, ময়মনসিংহ জেলা শিল্পকলা একাডেমি’র উন্মুক্ত মঞ্চে মঞ্চস্থ হয় মুক্তবাক থিয়েটারের ৫ম প্রযোজনা প্রখ্যাত নাট্যকার মমতাজ উদদীন আহমদের “কী চাহ শঙ্খচিল”।

নাটকটিতে একাত্তরের একজন বীরঙ্গনা নারীর নির্মম একটি কাহিনী বর্ণিত হয়েছে। গল্পের মূল চরিত্র রৌশনারা। স্বাধীনতা যুদ্ধের একজন নির্যাতিতা নারী রৌশনারা, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে তিনি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে ১২ দিন পর বাড়ি ফিরে আসার পর সেখানেও গভীর ষড়যন্ত্রের স্বীকার হতে হয় তাকে। মানসিক হাসপাতালে থাকাকালীন সময়ের রৌশনের স্মৃতিচারণ কিংবা বলা-না বলা কথামালা নিয়েই এ নাটক। যার আর্তনাদে ভেসে আসে এমন হাজারো বীরাঙ্গনার অচেনা অধ্যায়।

নাটকটির মূল চরিত্র রৌশনারা রূপে দেখা যায় নূছরাত ইমাম বুলটিকে। অপার সম্ভাবনাময়ী এ অভিনেত্রী তার অভিনয়ের মাধ্যমে যেমন হাসাতে পারেন, তেমনি পারেন দর্শক হৃদয়ে কান্নার সঞ্চার ঘটাতে। চলনে-বলনে-পোশাকে কখনো মনে হয়েছে তিনি সত্যিই একজন পাগল, আবার কখনো মনে হয়েছে খুবই সুস্থ স্বাভাবিক একজন মানুষ, কোন রোগ নেই, অসুখ নেই, মাথার ভেতর পাগলামী নেই। নাট্যকার কিংবা নির্দেশকের চাওয়াগুলোকে যথার্থই ফুটিয়ে তুলে দর্শক হৃদয়ে সাড়া জাগাতে সক্ষম বুলটি। এছাড়াও নাটকটিতে প্রায় ৩টি চরিত্র ফুটিয়ে তোলেন হাসিবুর রহমান তুষার।

নাটকটির নির্দেশনা দিয়েছেন প্রতিশ্রুতিশীল তরুণ নাট্যাভিনেতা ও সংগঠক হাসিবুর রহমান তুষার। তিনি বলেন, “নাটকটি মঞ্চে আসার পর দর্শকদের অফুরন্ত ভালবাসা সত্যিই আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে, যা পরবর্তি কাজের পাথেয় হয়ে থাকবে। সকলের ভালবাসা নিয়েই এগিয়ে যেতে চাই।” দুটি সফল মঞ্চায়নের পর নাটকটির ডিজাইনে কিছুটা নতুনত্ব আনার চেষ্টা করেছেন তিনি।

নাটক প্রসঙ্গে নাট্যাভিনেতা ও উপস্থাপক তরু শাহরিয়ার স্বর্গ(শিমুল) বলেন, “সত্যিই অনবদ্য পরিবেশনা ছিলো। তুষার-বুলটি জুটিকে দুজনকে স্যালুট এত রিক্স নিয়ে উন্মুক্ত স্থানে এমন একটি সুুন্দর কাজ সবার সামনে তুলে ধরার জন্য। বুলটি ইজ দ্যা বেস্ট,,,,,মুগ্ধ আমি।” বাংলাদেশ নৃত্যশিল্পী সংস্থা ময়মনসিংহ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক বিশিষ্ট নৃত্যশিল্পী মাকসূদুর রহমান মিল্টন বলেন, “আমার অনেক ইচ্ছে ছিলো নাটকটি দেখার। সবশেষে দেখা হল। অনেক সুন্দর পরিবেশনা ছিলো। আমার কাছে কেন জানি মনে হলো তুষার-বুলটি দুজনই সেরা। অভিনন্দন তাদের।”

গত ০৭ সেপ্টেম্বর’১৮ উদ্বোধনীর মধ্য দিয়ে পাদপ্রদীপের আলোয়ে দর্শকদের সামনে মঞ্চের আসে ‘কী চাহ শঙ্খচিল’। পরবর্তিতে ০১ অক্টোবর’১৮ শহরের বিদ্যাময়ী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মিলনায়তনে ২য় মঞ্চায়ন সম্পন্ন হয়।

সর্বশেষ
জনপ্রিয় খবর