শিরোনাম

রায় প্রত্যাখান করে কর্মসূচি ঘোষণা বিএনপির, মঙ্গলবার সারাদেশে বিক্ষোভ

সর্বশেষ আপডেটঃ ০২:৩৭:০০ অপরাহ্ণ - ২৯ অক্টোবর ২০১৮ | ১২৯

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় রায় প্রত্যাখান করে একদিনের প্রতিবাদ বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি।

সোমবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করছি যে, এই রায় কোনোমতেই ন্যায়বিচার নয়। বেগম জিয়া ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এটা সম্পূর্ণভাবে একটা ফরমায়েশী রায়। সরকার যা বলছে, যা চেয়েছে এবং সরকারের মন্ত্রীরা যা বলছেন, সেগুলোর প্রতিফলন এই রায়ের মধ্য। তাই আমরা এই রায় প্রত্যাখান করছি। একই সঙ্গে আমরা মনে করছি, জনগণ যা চাচ্ছে, তার বাইয়ে আরেকটি নির্বাচন করতে চাচ্ছে সরকার।’

মির্জা ফখরুল বলেন, রায়ের প্রতিবাদে মঙ্গলবার সারাদেশে জেলা সদর ও মহানগরগুলোতে বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। কর্মসূচিতে বিএনপি, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও দেশের সকল মানুষকে অংশগ্রহণ করার জন্য আমি আহ্বান জানাচ্ছি।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় রায়ের বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘শুধু রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে, বেগম জিয়াকে রাজনীতি ও আসন্ন নির্বাচন থেকে দূরে সরিয়ে দেয়ার জন্য একটি সাজানো মামলায় সম্পূর্ণ বেআইনীভাবে এবং কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণ ছাড়াই তাকে সাজা দেয়া হয়েছে।’ অসুস্থ থাকা অবস্থায় কোনো মামলায় বিচারের রায় দেয়া আইনবিরোধী বলেও মন্তব্য করে তিনি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে আরেকটি মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে সাজা দেয়া হয়েছে। এই বিচারকার্য একতরফাভাবে চলছে। অসুস্থ হওয়ার পরে বেগম জিয়া আদালতে আসতে পারছিলেন না। এরপর বেগম জিয়ার বিচার করার জন্য আদালত বসানো হয় কারাগারে!’

পরে রায়ের প্রতিবাদে নয়াপল্টন দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ঢাকা মহানগর উত্তর-বিএনপির নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। বিক্ষোভ মিছিল থেকে বেগম জিয়াকে দেয়া ৭ বছরের সাজা প্রতিবাদে বিভিন্ন স্লোগানে রাজপথ মুখরিত করে তুলেন।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আরো পড়ুন : আইনজীবীর প্রতিক্রিয়া

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সাজা দেয়া হয়েছে অপর তিন আসামি হারিছ চৌধুরী, জিয়াউল ইসলাম মুন্না ও মনিরুল ইসলাম খানকেও।

একই সাথে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে রাজধানীর কাকরাইলে সুরাইয়া বেগমের কাছ থেকে কেনা ৪২ কাঠা জমি রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থাপিত অস্থায়ী বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক ড. আখতারুজ্জামান আজ সোমবার এ রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণার সময় আসামিপক্ষের কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না। উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর মোশাররফ হোসেন কাজলসহ আরো কয়েকজন প্রসিকিউটর।

আজ বেলা সাড়ে এগারটায় আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়। রায় ঘোষণা শেষ হয় দুপুর সোয়া ১২টায়।

এর আগে গত ২৩ অক্টোবর আদালত বর্জন করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় অর্থের উৎসের বিষয় পরিষ্কার হওয়ার জন্য অতিরিক্ত সাক্ষ্য (এভিডেন্স) চেয়ে আবেদনের বিষয়ে আদেশ না পেয়ে আদালত বর্জন করেন তার আইনজীবীরা। সেদিন বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো: মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চে খালেদা জিয়ার আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী বলেন, এই মামলায় অর্থের উৎসের বিষয়ে অতিরিক্ত এভিডেন্স চেয়ে আবেদনে যে আদেশ দিয়েছেন ওই আদেশের বিরুদ্ধে আমরা আপিল বিভাগে যাবো।

জবাবে আদালত বলেন, সেটা আপনাদের ব্যাপার। এরপর এ জে মোহাম্মদ আলী বলেন, আপিল বিভাগের সিদ্ধান্ত আসা পর্যন্ত মামলার শুনানি মুলতবি করেন। জবাবে আদালত বলেন, মুলতবির আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হলো।

এ সময় এ জে মোহাম্মদ আলী বলেন, সে ক্ষেত্রে আমরা শুনানিতে অংশগ্রহণ করছি না। আমরা শুনানি থেকে বিরত থাকছি।

এরপর খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা আদালত থেকে বেরিয়ে আসেন। তাদের মধ্যে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী ছাড়াও খালেদা জিয়ার আইনজীবী আবদুর রেজাক খান, জয়নুল আবেদীন, ব্যারিস্টার নওশাদ জমির, আমিনুল ইসলাম, এ বি এম ওয়ালিউর রহমান খান, এ এইচ এম কামরুজ্জামন, ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী, মো: আখতারুজ্জামান, আইয়ুব আলী আশ্রাফী, আনিছুর রহমান খান, ফাইয়াজ জিবরান মঈন, গোলাম আকতার জাকির, সালমা সুলতানা প্রমুখ।

চ্যারিটেবল মামলার আজকের রায় প্রসঙ্গে খালেদা জিয়ার আইনজীবী ব্যারিস্টার মো: সানাউল্লাহ্ মিয়া বলেন, এগুলো সব একতরফা রায়। এই একতরফা রায়ের বিষয়ে কি করবে না করবে সে বিষয়ে সিনিয়র আইনজীবীরা সিদ্ধান্ত নিবেন।

তিনি আরো বলেন, ‘এটা (জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট) প্রাইভেট ট্রাস্ট। এখানে সরকারের কোনো টাকা নেই, এটা মামলাই হয় না। আজকে জোর করে সাজা দেয়া হয়েছে। সরকারের হস্তক্ষেপের কারণে এই সাজা। এর বাইরে এ মূহূর্তে আমরা কিছু বলতে পারবো না।’

এই সাজার বিষয়ে আপিল করা হবে কিনা জানতে চাইলে খালেদা জিয়ার এই আইনজীবী বলেন, ‘সেটা এ মূহূর্তে বলতে পারবো না। রায় পাইনি এখনো। রায় পাওয়ার পর এ বিষয়ে সিনিয়র আইনজীবীরা সিদ্ধান্ত নেবেন।’

সর্বশেষ