শিরোনাম

যশোরে মাতুব্বরের মেয়ের অনৈতিক কাজের অশ্লীল ভিডিও ধারণ, যুবক নিখোঁজ

সর্বশেষ আপডেটঃ ১২:৪৩:০৯ অপরাহ্ণ - ২০ অক্টোবর ২০১৯ | ১৪

জনতার প্রতিদিন ডেস্কঃ  যশোরের শার্শার পল্লীতে এক গ্রাম্য মাতুব্বরের মেয়ের অশ্লীল দৃশ্য ভিডিও করায় মহিবুল নামের এক যুবককে গুম করার অভিযোগ উঠেছে এক ইউপি চেয়ারম্যান ও তার ক্যাডারদের বিরুদ্ধে।

শুক্রবার সন্ধ্যায় ওই যুবককে তার বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর থেকে কোন খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

নিখোঁজ মহিবুল শার্শা উপজেলার কায়বা গ্রামের শুকুর আলী ধোবেনের ছেলে। এ ঘটনায় মহিবুলের পিতা অসুস্থ্য হয়ে শয্যাশায়ী এবং আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন তার মা।

জানা গেছে, কায়বা গ্রামের মাতুব্বর ইউপি চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা ফিরোজ হাসান টিংকুর পোষ্য ক্যাডার দাউদের মেয়ের সঙ্গে শুক্রবার অনৈতিক কাজে লিপ্ত হয় পার্শ্ববর্তী সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলার সাতপোতা গ্রামের জনৈক ইব্রাহীম। ওই অনৈতিক কাজের ভিডিও মোবাইলে ধারণ করে মহিবুল। আর এটাই কাল হয়ে দাঁড়ায় তার জন্য।

ভিডিও করার পর বিষয়টি জানাজানি হলে গ্রাম্য মাতুব্বররা অসামাজিক কাজের বিচার না করে উল্টো মহিবুলের উপর দোষ চাপিয়ে দেয়। সে এই অসামাজিক কাজের ভিডিও করেছে কেন -সেই প্রশ্ন তুলে বিচার বসাতে চায় তারা।

এদিকে, অনৈতিক কাজের ভিডিও করায় মহিবুলের পরিবারের কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে চেয়ারম্যান টিংকুর ক্যাডাররা। দাবিকৃত টাকা না দেয়ায় শুক্রবার সন্ধ্যায় চেয়ারম্যানের ক্যাডার দাউদ, ভাবলু, রফিকুলসহ ১০-১২ জন দুর্বৃত্ত অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মহিবুলকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে আসে চেয়ারম্যানের কাছে। এরপর থেকে মহিবুলকে আর পাওয়া যাচ্ছে না।

মহিবুলের পরিবারের দাবি, চেয়ারম্যানের ক্যাডারদের দাবিকৃত দুই লাখ টাকা না দেয়ায় মহিবুলকে গুম করা হয়েছে।

মহিবুলের মা মাছুরা খাতুন জানান, আমার ছেলে মহিবুলকে শুক্রবার সন্ধ্যায় চেয়ারম্যান টিংকুর কাছে নিয়ে যাচ্ছি বলে দাউদ, ভাবলু ও রফিকুলসহ ১০-১২ জন লোক জোর করে ধরে নিয়ে যায়। আমি চেয়ারম্যানের পা ধরে বলেছি, ছেলে অন্যায় করেছে এবারের মত মাফ করে দেন। তারা আমার কোনও কথা শোনেনি। উল্টো বলেছে, তোমার ছেলে যে অন্যায় করেছে তাকে থানা-পুলিশে দিতে হবে। চেয়ারম্যান টিংকুর নির্দেশেই আমার ছেলেকে গুম করে রেখেছে।

এ ব্যাপারে গ্রাম্য মাতুব্বর দাউদ বলেন, আমি কিছু বলবো না, চেয়ারম্যান সব জানে। তিনি বিষয়টি বলতে পারবেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শার্শার কায়বা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাসান ফিরোজ আহম্মেদ টিংকুর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ছেলেটিকে নিয়ে আসার পর তাকে দাউদের মাধ্যমে থানায় পাঠিয়েছি। পুলিশের কাছে দেওয়ার পর আমার দায়-দায়িত্ব শেষ।

শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান জানান, থানায় কোন ছেলেকে কেউ হস্তান্তর করেনি। আমরা কাউকে কারও কাছ থেকে বুঝে নেইনি। কেউ কোন অভিযোগও করেনি। এ ঘটনায় অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সর্বশেষ