শিরোনাম

মিয়ানমারের সহিংসতা, লন্ডন থেকে খালেদা জিয়ার আহ্বান

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৪:০৩:২৩ পূর্বাহ্ণ - ৩১ আগস্ট ২০১৭ | ১৫৫

মিয়ানমারের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যে কয়েক দিন ধরে সহিংসতায় অসংখ্য মানুষ নিহত হওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।

গত (২৮ আগস্ট) গণমাধ্যমে দেয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে অমনোযোগী বাংলাদেশ সরকারের দুর্বল কূটনৈতিক তৎপরতার কারণেই পরিস্থিতি শোচনীয় রূপ ধারণ করেছে।

আমি বাংলাদেশে আশ্রয় পাওয়া রোহিঙ্গাদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি। সেইসাথে রোহিঙ্গাদের প্রতি নির্যাতনের চিত্র অমানবিক, বেদনাদায়ক ও হৃদয়বিদারক বলে মন্তব্য করেন বেগম খালেদা জিয়া।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে তিনি বলেন, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর সে দেশের নিরাপত্তাবাহিনীর গুলিবর্ষণে অসংখ্য মানুষ হতাহতের ঘটনায় আমি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি এবং নিন্দা জানাচ্ছি। রোহিঙ্গারা বসতবাটি, সহায়-সম্বল হারিয়ে প্রাণভয়ে দেশ ছেড়ে বাংলাদেশের সীমান্তে ভিড় জমাচ্ছে। রাখাইন রাজ্যে গ্রামের পর গ্রামে আগুন জ্বলছে।

প্রাণভয়ে রোহিঙ্গারা দিগবিদিক ছুটে বেড়াচ্ছে, গহিন অরণ্যে ঢুকে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধান করছে। আশ্রয়হীন রোহিঙ্গাদের ওপরও মিয়ানমার সীমান্ত রক্ষীবাহিনী অবিরাম গুলি বর্ষণ করে যে নারকীয় পরিবেশ সৃষ্টি করেছে তা বর্ণনাতীত। গুলিবিদ্ধ গুরুতর আহত রোহিঙ্গা যারা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে আসতে সক্ষম হয়েছে তাদের অনেকেই হাসপাতালে মৃত্যুর প্রহর গুনছে এবং কারো কারো মৃত্যু হয়েছে। বাংলাদেশের সীমান্তের ওপারে মিয়ানমার এলাকায় রোহিঙ্গা পুরুষ-নারী-শিশুরা নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য নাফ নদীর বিস্তৃত এলাকাজুড়ে তীরে বসে ভয়ঙ্কর অনিশ্চয়তায় প্রহর গুনছে। এই দৃশ্য অমানবিক, বেদনাদায়ক ও হৃদয়বিদারক।

বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, সুদীর্ঘকাল ধরে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার নিবিড় সম্পর্কে আবদ্ধ। সুপ্রাচীনকাল থেকে পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে যাওয়ার সিংহ দুয়ার হচ্ছে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত। এই দুয়ার দিয়েই দুই অঞ্চলের মধ্যে ভাব, ভাষা, সংস্কৃতি, অর্থনীতি, বাণিজ্য ও কূটনৈতিক আদান-প্রদান উত্তরোত্তর ক্রমবর্ধমানভাবে বিকশিত হয়েছে।

খালেদা জিয়া বলেন, আবহমানকাল ধরে দু’দেশের সম্পর্ক সমমর্যাদায় অভিষিক্ত। আমি বিশ্বাস করি, সম মর্যাদার এই ঐতিহ্যকে সম্মান দেখিয়ে মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। দীর্ঘ দিন ধরে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গারা সমাধানহীন একটি অরাজক পরিস্থিতির মধ্যে নিপতিত থাকলে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ক্রমাগতভাবে অবনতিশীল হতে থাকবে এবং এতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে ঐতিহ্যগত স্থিতিশীলতায় বিরূপ প্রভাব ফেলবে। সুসম্পর্কের আবহমানধারা যাতে কোনোভাবেই বিনষ্ট না হয়, সে বিষয়ে মিয়ানমার সরকারকে সতর্ক ও দায়িত্বশীল হয়ে রোহিঙ্গা সঙ্কটের জরুরি অবসান ঘটাতে হবে।

তিনি আরো বলেন, শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে যেকোনো সঙ্কট আরো ঘনীভূত হয়। যুগ যুগ ধরে রোহিঙ্গারা অত্যাচারিত হচ্ছে, ভূমিচ্যুত হয়ে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে আশ্রয় নিতে আসছে প্রধানত সীমান্তবর্তী বাংলাদেশে। এ ছাড়া আরো কিছু দেশেও রোহিঙ্গারা উদ্বাস্তু হয়ে জীবন যাপন করছে।

গণতন্ত্র ও নাগরিক স্বাধীনতার যুগে জাতি, বর্ণ, ধর্ম সম্প্রদায় ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের নির্মূল করতে সহিংসতা সৃষ্টি অচিন্তনীয় ও বিশ্ববিবেককে গভীরভাবে স্পর্শ করে। কোনো পক্ষেরই প্রাণহানি কাম্য নয়। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, রোহিঙ্গাদের জীবন ও বসবাসের নিরাপত্তা বিধান এবং তাদের ওপর রক্তাক্ত সহিংসতার পুনরাবৃত্তি বন্ধ করতে মিয়ানমার সরকার প্রাজ্ঞ ও দূরদর্শী নীতি নিয়ে অগ্রসর হবে।

জীবন ভয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা পুরুষ-নারী-শিশুদের বাংলাদেশে আশ্রয় এবং তাদের সার্বিক নিরাপত্তা দেয়ার জন্য আমি দায়িত্বরত বাংলাদেশের প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

সর্বশেষ