শিরোনাম

ভ্যালেন্টাইনস ডে’র নাম বদলে ‘বোন দিবস’ দেয়া হবে হিজাব

সর্বশেষ আপডেটঃ ১২:১৫:১৩ পূর্বাহ্ণ - ১৫ জানুয়ারি ২০১৯ | ১২৩

ভ্যালেন্টাইনস ডে’র নাম বদলে ‘বোন দিবস’ করেছে পাকিস্তানের একটি বিশ্ববিদ্যালয়। উৎসবটিকে পশ্চিমা সংস্কৃতি থেকে আমদানি হিসেবে চিহ্নিত করে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি কর্তৃপক্ষ ছাত্রীদের মধ্যে হিজাব আর শাল বিতরণ করবে বলে খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

পাঞ্জাব প্রদেশের ফয়সালাবাদের ইউনিভার্সিটি অফ এগ্রিকালচার (ইউএএফ) জানায়, তরুণদের মধ্যে প্রাচ্য সংস্কৃতি ও ইসলামী ঐতিহ্যের সংমিশ্রনের জন্য তারা এই উদ্যোগ গ্রহণ নিয়েছে।

‘আমাদের সংস্কৃতিতে নারীদের বেশি ক্ষমতা দেয়া হয়েছে এবং তারা বোন, মা, কন্যা ও স্ত্রী হিসেবে যথার্থ সম্মান পান’, বিশ্ববিদ্যালয় ওয়েবসাইটে দেয়া বিবৃতিতে বলেন ভিসি জাফর ইকবাল।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আমদের সংস্কৃতি ভুলতে চলেছি এবং পশ্চিমা সংস্কৃতি আমাদের সমাজে শেকড় বিস্তার করছে।’

১৪ ফেব্রুয়ারি ‘ছাত্রীদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের লগো ছাপানো স্কার্ফ, শাল এবং গাউন বিতরণের কথা ভাবা হচ্ছে’, বলা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে।

ইউএএফের মুখপাত্র কামার বুখারি সোমবার এএফপিকে বলেন, তারা ১৪ হাজার ছাত্রীর মধ্যে অন্তত এক হাজার জনকে হিজাব বিতরণ করার জন্য অনুদান খুঁজছেন।

‘বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এসব হিজাব বিতরণ করবে, সহপাঠী ছাত্ররা নয়,’ বলেন তিনি।

তরুণ পাকিস্তানিদের মধ্যে ভ্যালেন্টাইনস ডে ক্রমেই আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এদিন তারা তাদের পছন্দের মানুষদের কার্ড, চকলেট এবং গিফট দিয়ে থাকে।

কিন্তু, ঐতিহ্যগতভাবে মুসলিম দেশটিতে নারীরা তাদের অধিকারের আদায়ে এখনও সংগ্রাম করে যাচ্ছে। সেখানে অনেকেই ভ্যালেন্টাইন ডে’কে পশ্চিমা দেশ থেকে আমদানি করা উৎসব মনে করে।

২০১৬ সালে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট মামনুন হোসেন বলেছিলেন, মুসলিম প্রধান দেশটিতে এই উৎসবের কোনো স্থান নেই। এর বদলে তরুণদের লেখাপড়ায় মনোযোগ দিতে বলেন তিনি।

এরপর সামাজিক মাধ্যমে জনপ্রিয় পাকিস্তানি তরুণী কান্দিল বালুচ প্রেসিডেন্ট মামনুনের ওই বক্তব্যকে খণ্ডন করে একটি ভিডিও পোস্ট করেন। বিভিন্ন সময়ে বিতর্কের জন্ম দেয়া কান্দিল বালুচকে ওই বছরই হত্যা করেন তার ভাই।

২০১৭ সালে ইসলামাবাদ হাইকোর্ট প্রকাশ্যে ভ্যালেন্টাইনস ডে পালন নিষিদ্ধ করে। একই সঙ্গে সরকারি কর্মচারীদের জন্য এটি উদযাপন নিষিদ্ধ। গত বছর দেশটির টিভি ও রেডিওতে দিনটি উদযাপনকে উৎসাহিত করতে নিষেধ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সামাজিক মাধ্যমে ইউএএফ-এর উদ্যোগকে প্রত্যাখ্যান করে সমালোচনা করেছে বলে জানায় এএফপি। এটি হিন্দুদের ‘রাখি বন্ধন’ উৎসবে পরিণত হতে পারে বলে মন্তব্য করেন কেউ কেউ।

সর্বশেষ