শিরোনাম

ভাষাশহীদদের স্বরণে প্রশাসক টিটু’র পরিকল্পনায় ‘স্মৃতি অম্লান’

সর্বশেষ আপডেটঃ ০১:২৯:৪৪ অপরাহ্ণ - ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ | ২২

মো. মেরাজ উদ্দিন বাপ্পী, ময়মনসিংহ: ১৯৬৯ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি রাতে তৎকালিন পাকিস্তানী পুলিশের দৃষ্টি এড়িয়ে ময়মনসিংহেরর ছাত্র জনতা পৌরসভার চৌরাস্তার বকুল তলায় একটি অস্হায়ী শহীদ মিনার নির্মান করেন।

২১শের প্রভাতে নগ্ন পায়ে তৎকালিন আওয়ামীলীগ, ছাত্রলীগ ভাষাসৈনিক শামসুল হক, মোস্তফা এম এ, মতিন, সালাম তরফদার, আবুল মুনসুর, কমর উদ্দিন, আফাজ মিঞা শাহজান খান, বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার ছাত্রলীগ সভাপতি নাজিমউদ্দিন আহমেদ, সাঃ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, হামিদুল হক, স্বপন সরকারসহ অন্যান নেতৃবৃন্দ ফুলদিয়ে সেই অস্থায়ী শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের উদ্দ্যেশে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

পরক্ষনেই তৎকালিন পাকিস্তানী পুলিশ টের পেয়ে শহীদ মিনারটি ভেঙ্গে দেয়। সেই চৌরাস্তায় মোড়ের বকুল তলার জায়গাটিকে ময়মনসিংহবাসীর কাছে স্মরনীয় করে রাখতে ময়মনসিংহ পৌরসভার সাবেক মেয়র ও বর্তমান সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. ইকরামুুল হক টিটু ‘স্মৃতি অম্লান’ নামে একটি স্থাপনা নির্মান করেছেন। এ ধরনের স্থাপত্য নিদর্শন ও প্রতীকী উপস্থাপনা দেশের আর কোথাও দেখা যায় না।

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন ও ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের স্মরণে এ ‘স্মৃতি অম্লান’ সড়ক ভাস্কর্যটি স্থাপন করা হয়েছে ময়মনসিংহ পৌরসভা ও জাদুঘরের সামনের চৌরাস্তায় ত্রিভুজ আকারের বকুল তলায়।

ভাস্কর্যের বাম দিকে লম্বা তিনটি ধাপে একটি স্তম্ভ নির্মাণ করা হয়েছে। এর প্রথম ধাপে টেরাকোটায় ভাষা আন্দোলন দৃশ্যমান, দ্বিতীয় ধাপে কালো মার্বেল পাথরটি শহীদদের প্রতি শোক প্রকাশ এবং ফুলের ওপর বর্ণমালা দিয়ে বিজয়ের স্বীকৃতিকে বোঝানো হয়েছে।

জাতীয় স্মৃতিসৌধের আদলে নির্মিত তিনটি স্তম্ভের মাধ্যমে ৩০ লাখ শহীদের স্মৃতি এবং নিচে টেরাকোটায় মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় সাধারণ বাঙালিদের ওপর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নির্মম হত্যাযজ্ঞ ও পাশবিক নির্যাতনের দৃশ্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

সর্বডানের তৃতীয় ধাপে কংক্রিট ও ঢালাই দিয়ে নির্মিত সাতটি ভার্টিক্যাল দিয়ে বোঝানো হয়েছে শহীদদের আইকন হিসেবে সাতজন বীরশ্রেষ্ঠকে। এর পেছনে ভার্টিক্যালের গায়ে টেরাকোটায় মহান মুক্তিযুদ্ধের সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের মুখচ্ছবিও দেয়া হয়েছে। যাতে সহজেই জাতীয় বীরদের চেনা যায়।

গোটা ভাস্কর্যের সৌন্দর্যবর্ধনে ফোয়ারার পাশাপাশি হ্যালোজেন লাইটসহ সাতটি রঙের বাতি স্থাপন করায় সন্ধ্যার পর রঙিন আলোকচ্ছটায় বর্ণিল হয়ে উঠে এলাকাটি, যা দেখে মুগ্ধ হন পথচারীরা। স্মৃতি অম্লান ভাস্কর্যটি মূলত ময়মনসিংহের ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের কালের স্মারক। এর মাধ্যমে ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস স্মৃতিজাগরিত হয়ে ওঠে।

ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. ইকরামুুল হক টিটুর পরিকল্পনায় ‘স্মৃতি অম্লান’ সড়ক ভাস্কর্যটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ২২ লক্ষাধিক টাকা, যা তৈরি করা হয় ইট, কংক্রিট ঢালাই, এসএস স্টিল, মার্বেল পাথর, স্যান্ড স্টোন ও টেরাকোটার সমন্বয়ে। অনিন্দ্য সুন্দর এ ভাস্কর্যের নির্মাণশৈলীর রূপকার বৃহত্তর ময়মনসিংহের সন্তান হাসান মাহদী।

সর্বশেষ