শিরোনাম

ভারতে গ্রেপ্তারকৃত বুদ্ধিজীবীদের গৃহবন্দী রাখার নির্দেশ

সর্বশেষ আপডেটঃ ১১:৪০:৫৪ অপরাহ্ণ - ২৯ আগস্ট ২০১৮ | ১৪৭

গ্রেপ্তারকৃত ভারতের পাঁচ বুদ্ধিজীবী ও মানবাধিকারকর্মীকে গৃহবন্দী রাখার নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানায়, বুধবার দেশটির সর্বোচ্চ আদালতের এক আদেশে বলা হয়েছে, আগামী ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গৃহবন্দী থাকতে হবে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের। এদিকে গ্রেপ্তারের বিরুদ্ধে দায়ের করা পিটিশনের জবাব দিতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

ভারতের প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রর নেতৃত্বাধীন পাঁচজন বিচারকের একটি বেঞ্চ গ্রেপ্তারের বিরুদ্ধে দায়ের করা পিটিশনের শুনানি করেন। আবেদনকারীদের আরজি ছিল, মহারাষ্ট্র সরকার গণতান্ত্রিক কণ্ঠ রুদ্ধ করতে চাইছে। আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন বিশিষ্ট আইনজীবী ও কংগ্রেস নেতা অভিষেক মনু সিংভি।

শুনানি শেষে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের গৃহবন্দী রাখার আদেশ দিয়ে আদালত বলেছেন, ‘বিরুদ্ধমত গণতন্ত্রের সেফটি বালব। বিরুদ্ধমত যদি না থাকে, তবে প্রেশার কুকারে বিস্ফোরণ হতে পারে।’

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, কবি ও লেখক ভারভারা রাও, সমাজকর্মী ভারনন গনজালভেজ, আইনজীবী সুধা ভরদ্বাজ, মানবাধিকারকর্মী ও আইনজীবী অরুণ ফেরেইরা এবং সাবেক সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মী গৌতম নওয়ালাখা। তাদের সবাইকে ‘আনলফুল অ্যাক্টিভিটিজ প্রিভেনশন অ্যাক্ট’-এর (ইউএপিএ) আওতায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সন্ত্রাসবাদীদের মোকাবিলায় তৈরি এই আইনে দিনের পর দিন বিনা বিচারে আটক রাখা যেতে পারে।

গত ১ জানুয়ারি দেশটির মহারাষ্ট্র রাজ্যের ভীমা-কোরেগাঁওয়ে দলিতদের সঙ্গে মারাঠা ও পুলিশ বাহিনীর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। এর ঠিক আগের দিন ভীমা-কোরেগাঁও লড়াইয়ের ২০০তম বার্ষিকী উদযাপিত হয়। সেই লড়াইয়ে ব্রিটিশদের পাশে ছিল এলাকার দলিতরা, যারা হারিয়েছিল মারাঠা পেশোয়াদের। রাজ্য প্রশাসন ও পুলিশের বক্তব্য, ভীমা-কোরেগাঁওয়ে দলিতদের সংগঠিত করে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধাচরণে যারা উসকানি দিয়েছিলেন, তাদেরই অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয়।

মহারাষ্ট্রের বিজেপি সরকারের দাবি, দলিত আন্দোলনকারী নেতাদের সঙ্গে মাওবাদীদের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে।

এদিকে এই গ্রেপ্তারে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন ভারতের লেখক-বুদ্ধিজীবীরা। তারা বলছেন, এর মধ্য দিয়ে বিরুদ্ধমত দেওয়ার সুযোগ সংকুচিত করা হচ্ছে। অনেকে এই পরিস্থিতিকে ‘অঘোষিত জরুরি অবস্থা’ বলে অভিহিত করেছেন।

সর্বশেষ