শিরোনাম

ভর্তিযুদ্ধ: বিশ্ববিদ্যালয়ে আসন বেড়েছে ১ লাখের বেশি

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৩:৩২:৫২ অপরাহ্ণ - ২০ জুলাই ২০১৭ | ১৭৮

প্রতিবছরের মতো এবারও ভর্তিযুদ্ধে নামতে যাচ্ছে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী। উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর লাখ লাখ শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যায়। এ ভর্তি পরীক্ষা আসলে মেধাবীদের যুদ্ধ। তবে এবার তাদের প্রতিযোগিতা কিছুটা হলেও কম হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ গত বছরের চেয়ে এ বছর আসন সংখ্যা বেড়েছে প্রায় এক লাখ ১৫ হাজার।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন থেকে পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৩৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও ৯২টি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট আসন সংখ্যা ছয় লাখ ৩৬ হাজার তিনশ ৪৩টি। এর মধ্যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আসনসংখ্যা চার লাখ ৪৭ হাজার তিনশ ৪৩টি, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে এক লাখ ৮৯ হাজার। গত বছর পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় মিলিয়ে মোট আসন ছিল পাঁচ লাখ ২১ হাজার ছয়শ।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট আসনের প্রায় অর্ধেক আসনই রয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোতে। এর সংখ্যা তিন লাখ ৯৯ হাজার। অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসন সংখ্যা প্রায় ৬৭ হাজার। এছাড়া শীর্ষ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) এক হাজার ৩০টি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই হাজার দুইশ, জগন্নাথে প্রায় তিন হাজার, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে চার হাজার সাতশ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে চার হাজার ছয়শ, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক হাজার একশ ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে এক হাজার দুইশ আসন রয়েছে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের জন্য।

পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে আসন আছে চার হাজার তিনশ ৪৪টি। আর অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মোট আসনের সংখ্যা প্রায় ৫০ হাজার, যা গত বছর ছিল সাড়ে ১১ হাজার।

এ বছর ১০টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নেয় ১১ লাখ ৮৩ হাজার ৬৮৬ জন শিক্ষার্থী। আগামী ২৩ জুলাই এই পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হবে। এরপরই শুরু হবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিযুদ্ধ। গত কয়েক বছরের ফল মূল্যায়ন করে দেখা গেছে, এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ প্রাপ্তির চাইতে মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কলেজ এবং প্রকৌশল ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আসন সংখ্যা কম থাকে। গত বছর জিপিএ ৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৫৮ হাজার দুইশ ৭৬। অথচ পাবলিক উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে আসন সংখ্যা ছিল ৫২ হাজার। তাই সর্বোচ্চ ফল পেয়েও অনেকেরই এসব প্রতিষ্ঠানে পড়ার সুযোগ হয়নি।

এ বছরও আসন সংকট রয়েছে কিনা জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, ‘যারা এইচএসসি পাশ করে, তাদের সবাই উচ্চশিক্ষায় যায় না। অনেকেই বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত হয়, অনেকে দেশের বাইরে পড়তে যায়। এছাড়া শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটে চলে যায়। কারণ, দেশে এখন এই বিষয়ে চাহিদা বেড়েছে। ফলে বিভিন্ন বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বরং আসন খালি থেকে যায়।’

সর্বশেষ