শিরোনাম

বৈশাখকে স্বাগত জানাতে সকাল থেকেই রাজপথে ময়মনসিংহবাসী

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৪:১৫:৩৫ অপরাহ্ণ - ১৪ এপ্রিল ২০১৯ | ৩১

মো. মেরাজ উদ্দিন বাপ্পী,ময়মনসিংহ: বৈশাখের প্রথম দিন আজ। শুভ নববর্ষ। চৈত্র পবনে/মম চিত্ত বনে চৈত্র সংক্রান্তি পালন করে কাল বৈশাখীর হুমকি মাথায় রেখে ধরাধামে বৈশাখের আগমনে মুখরিত বাঙালি জাতি। বৈশাখকে স্বাগত জানাতে সকাল থেকেই রাজপথে নেমে এসেছে ময়মনসিংহবাসী।

 

শিক্ষা ও সংস্কৃতির প্রবেশদ্বার ময়মনসিংহের আকাশে নতুন বছরের ফুটন্ত সকাল বেরিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গেই পহেলা বৈশাখ (১৪ এপ্রিল, রোববার) সকাল সাড়ে ৮টায় শহরের মহাজারাজা রোড এলাকার মুকুল নিকেতন উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে বের করা হয়েছে জেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের উদ্যোগে মঙ্গল শোভাযাত্রা। নগরের প্রধান প্রধান সড়ক ঘুরে শেষ হয় জয়নুল উদ্যানের বৈশাখী মঞ্চে।

 

ময়মনসিংহ জেল সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের আয়োজনে মঙ্গল শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ এমপি। এসময় ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. ইকরামুল হক টিটু, জেলা পরিষদ প্রশাসক ইউসুফ খান পাঠান, জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) শাহ আবিদ হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট জহিরুল হক, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুলসহ শোভাযাত্রায় অংশ নিয়েছেন ছাত্র-শিক্ষক থেকে শুরু ‍করে সর্বস্তরের মানুষ।

সকাল থেকে সরেজমিন ওই এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সবাই বৈশাখের বিচিত্র সাজে নিজেদের রাঙিয়েছেন। মুখে রং তুলিতে লেখা ‘শুভ নববর্ষ ১৪২৬’, এসো হে বৈশাখ। ছেলেরা লাল-সাদা পাঞ্জাবি, মেয়েরা বৈশাখী শাড়ি পরেছেন। অনেকে মাথায় গামছা, আর লুঙ্গি পরে নিজেকে পুরো বাঙালিয়ানা সাজে সাজিয়েছেন। ছোট শিশুরাও অভিভাবকদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে বৈশাখ উদযাপনে। বাঁশি, একতারা, খেলনার ঢোল হাতে নিয়ে উল্লাস করেছেন ময়মনসিংহ নগরবাসী। ব্রহ্মপুত্র নদছোঁয়া জয়নুল উদ্যান, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) বোটানিক্যাল গার্ডেন বা নগরের বিপিন পার্কসহ গোটা ময়মনসিংহ জেলাজুড়েই প্রাণের উচ্ছ্বাসের কোনো কমতি নেই।

 

পহেলা বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রাকে নির্বিঘ্ন করতে সড়কে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। বরাবরের মতো শোভাযাত্রা ঘিরে নেওয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা চার স্তরের নিরাপত্তার বলয় তৈরি করে। র‌্যালির সামনে পিছনে বিপুল সংখ্যক র‌্যাব সদস্য নিয়োজিত ছিলেন। শোভাযাত্রায় সারি করে উল্টা কলসি, পেঁচা, কাঠঠোকরা, কুড়েঘর, মাছ ধরা, পাখ-পাখালি, বাঘ ও বকের প্রতিকৃতি সাজানো ছিল।

 

ময়মনসিংহ জেল সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের আহ্বায়ক অধ্যাপক আমির আহমেদ চৌধুরী রতন বলেন, বাঙালি প্রাণের উৎসব হচ্ছে পহেলা বৈশাখ। ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষ একাত্ম হয়ে দিনটি পালন করে। শুধু নতুন একটি সকাল নয়; যারা আমাদেরকে পেছনে নিতে চায় তাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের দীপ্ত শপথ নেয়ার দিন আজ। আগের বছরের ব্যর্থতাকে পেছনে ফেলে, ভুলগুলো অতিক্রম করে এগিয়ে যেতে হবে।

সর্বশেষ