শিরোনাম

বিশ্ব নেতৃত্ব শেখ হাসিনার বিজয় চায় কেন?

সর্বশেষ আপডেটঃ ০২:৪৮:৩৬ পূর্বাহ্ণ - ২৪ ডিসেম্বর ২০১৮ | ১৫৬

১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলাদেশ বিশ্বের চোখে ছিল বীর বাঙালির দেশ। যদিও মার্কিন পররাষ্ট্র সচিব হেনরি কিসিঞ্জার এই রাষ্ট্রকে অভিহিত করেছিল তলাবিহীন ঝুড়ি অর্থাৎ ভিক্ষুক রাষ্ট্র হিসেবে। সে কথাকে তখন কে পাত্তা দিয়েছে?

বিভিন্ন রাষ্ট্রের কাছে বাংলাদেশের খাতিরদারি ছিল চোখে পড়ার মত। সে দেশের নাগরিকদের অনেক দেশেই ভিসা লাগত না। সে সব দেশে থাকতে চাইলে দূর ছাই’ বলে গলা ধাক্কা দেওয়া হত না। কিন্তু হিসেবটা পালটে গেল ১৯৭৫ সালে। জাতির পিতা শেখ মুজিবকে হত্যা পালটে বাংলাদেশের প্রতি সারা বিশ্বের মনোভাব। বাংলাদেশ পরিচিত হয়ে উঠল হন্তারক দেশ হিসেবে। মুজিব হত্যাকারীরা বলল– সে কী! ভারতেও তো মহাত্মা গান্ধীকে হত্যা করা হয়েছিল। তাহলে কেন এত ছিছিক্কার! এ সব ভারতের কারসাজি। এরপরে শুরু হল মিলিটারি শাসন। বাংলাদেশ পরিচিত হয়ে উঠলো ডিকটেটরের দেশ হিসেবে। এরপর খালেদা-নিজামীর জঙ্গি মৌলবাদী শাসন।

এই দীর্ঘ সময় জুড়ে শিশুরা শিখল – ওই যে ভারত আসছে তেড়েবাংলাদেশ নেবে কেড়ে। বালকেরা শিখল ভারত ভয়ংকর দেশ যারা আমাদের সব দুর্গতির জন্যে দায়ী। যুবকদের দেওয়া হত জিহাদের শিক্ষালড়াই লড়াই লড়াই চাই। বাংলাদেশের অল্প বয়েসীদের সাথে কথা বললেই বোঝা যেত যে তাদের ক্ষোভের অভিমুখ ভারত। সব দুর্গতির জন্যে দায়ী ভারত। তারা ১৯৪৭ জানে না। জানে না দেশভাগের সময় তৎকালীন নেতাদের ব্যর্থতার কাহিনী।

পাহাড় ভারতে রেখেনদীর উৎসমুখ ভারতে রেখেরেলপথ ও অন্যান্য যোগাযোগের দুর্বলতা ঘাড়ে চাপিয়ে সে দেশভাগ মেনে নেওয়া যে মুর্খামি ছিল তা তারা জানে না। কারণ তাদের বলা হত না। শেখ মুজিবুর রহমান এই ব্যাপারটি বিস্তর বুঝেছিলেন। বিভিন্ন সমস্যাকে সারা বিশ্বকে সহজে বোঝাতে পেরেছিলেন। তার ব্যাক্তিত্বকে প্রতিসম্মান জানাতে কোন রাস্ট্রনেতার কার্পন্য ছিল না। এ হেন শার্দুলকে বাঁচিয়ে রাখতে পারেনি বাংলাদেশ।

তাই বহুদিন কোন বাংলাদেশিকে হাতের কাছে পেলে এপারের বাঙালিরা ঝাল ঝাড়ত এই বলে যে একটা রয়াল বেঙ্গল টাইগার ছিল বাংলাতেতোরা তাকে রক্ষা করতে পারলি না। এই সময়ে বাংলাদেশের সারা পৃথিবীতে ভাবমুর্তি কি ছিলজঙ্গি মৌলবাদী বা মধ্যপন্থি ইসলামি দেশ । ছিল সেক্যুলার রাষ্ট্রহল হন্তারক এবং সবশেষে জঙ্গি ইসলামী রাষ্ট্র।

 

১৯৭৫-এর পর জেনারেল জিয়া বন্দুক উঁচিয়ে প্রথমে সংবিধান সংশোধন ও রাষ্ট্রের মূলনীতি পরিবর্তন করলেন যা তার এক্তিয়ারের মধ্যে ছিল না।আত্মস্বীকৃত খুনীদের বিচার করা যাবে না বলে ইনডেমনেটি আইন পাশ করলেন। জামায়াতে ইসলাম ও অন্যান্য নিষিদ্ধ দলকে পুনরুজ্জীবিত করলেন যা বঙ্গবন্ধু নিষিদ্ধ করেছিলেন। এই প্রথম বিশ্বে বিশ্বাসঘাতক ও খুনীদের ডেকে এনে রাষ্ট্র সমাজে পূনর্বাসন করা হল। বাঙালির আত্মপরিচয় বদলে বাংলাদেশি করার মাধ্যমে তিনি বার্তা দিলেন যে ১৯৭১ সাল একটি ভুলবাংলাদেশের মূল ধারা ১৯৪৭।

হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদ এবং খালেদা জিয়াও একই পথ অনুসরণ করলেন। বাংলাদেশ প্রবিষ্ট হল উদ্ভ্রান্ত সেই আদিম যুগে। হিংসাজঙ্গি মৌলবাদদায়হীন সংস্কৃতি মাথাচাড়া দিল বাংলাদেশে। বিকৃতমনা ভয়ঙ্কর লোকদের অধিষ্ঠান তখন বাংলাদেশের তখৎ ই তাউসে। যুদ্ধ বিধ্বস্থ দেশে প্রয়োজন ছিল ন্যূনতম অবকাঠামো গড়ে তোলা যা নিয়ে বঙ্গবন্ধু কাজ করছিলেন। অস্থির অর্থনীতিকে সামলে নিয়েছিলেন।

চালের মূল্য আড়াই গুন বেড়ে গিয়েছিল যা তিনি ক্রমে নামিয়ে এনে স্থিতিশীল অবস্থায় নিয়ে এলেন তার মৃত্যুর বছরে। কিন্তু ক্ষমতায় পৌঁছে জিয়াউর রহমান তার বন্দুক ও উর্দির গুমোরে অর্থনীতি শব্দটাকেই পাঠিয়ে দিলেন কবরস্থানে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলি জিয়া সমর্থকদের বিভিন্ন শিল্প-কারখানাব্যবসার নামে ঋণ দিল। যে ঋণে তারা দেশে চিরঋণী হওয়ার গৌরব অর্জন করল যাকে এককথায় ঋণখেলাপি বলে।

জেনারেল এরশাদ জিয়ার পথই অনুসরণ করেছিলেন। এরশাদের আমলে সামগ্রিকভাবে অর্থনৈতিক উন্নয়ন হওয়া সম্ভব ছিল না সর্বগ্রাসী লুটপাটের জন্য যদিও সরকারি প্রচার মাধ্যমে উন্নয়নের সংখ্যাতত্ত্ব প্রচারিত হত।

কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ চেতনা বিরোধীদের সমস্যা হল ১৯৯৬ সালে। এই আমলে বাংলাদেশে খাদ্য শস্য উৎপাদনের পরিমাণ ১৯০ লাখ থেকে ২৭০ লাখ টনে উন্নীত হয়। কৃষিঋণ বিতরণ পরিমাণ তিনগুণ বৃদ্ধি পায়। দেশের বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হার ক্রমান্বয়ে বেড়ে বার্ষিক ৬.৬%-এ উন্নীত হয়। মুদ্রাস্ফীতি পূর্ণাঙ্গভাবে নিয়ন্ত্রণে রেখে দেশের সার্বিক সঞ্চয় (মোট জাতীয় উৎপাদনের ১৯%) ও বিনিয়োগ (মোট জাতীয় উৎপাদনের ২২%) বাড়ানো হয়। দারিদ্রসীমার নিচে বসবাসরত জনগণের সংখ্যা ৫৩% থেকে ৪৪% এ নেমে আসে। ত্রাহি ত্রাহি ডাক ছাড়ে মুক্তিযুদ্ধ চেতনা বিরোধীরা।

জোট রাজনীতির অঙ্ক কষার ভুলে ২০০১ সালে ক্ষমতা থেকে সরে যেতে হয় ক্ষমতাসীন দলকে। ক্ষমতায় আসে নন্দী ভৃঙ্গীর দল। এসেই প্রলয়। হিন্দু নির্যাতনের মাধ্যমে পালিত হয় তাদের বিজয় উৎসব। বাংলাদেশ এবারে পুরোপুরি সন্ত্রাসী চেহারা নেয়। ভারতের উত্তর পূর্বে রাজ্যে রাজ্যে জঙ্গি আন্দোলন বৃদ্ধি পায় তুমুলভাবে। বাংলাদেশ হয়ে ওঠে এই জঙ্গিদের প্রতিপালন ক্ষেত্র। প্রশ্ন ওঠে এতে সরকারের লাভ কি ছিলসরকারের লাভ ছিল না। দেশের লাভ ছিল না। কিন্তু ক্ষমতাসীনদের লাভ ছিল।

উত্তর পূর্ব সীমান্ত অঞ্চলে জঙ্গিরা সম্পন্ন মানুষদের অপহরণ করে নিয়ে যেত বাংলাদেশে। তারপরে আর্থিক দাবি। না মিটলে ঝামেলা রাখা কেন!খতম।

ফলে আতঙ্কিত পরিবার ঘটি বাটি বেচে তাদের আর্থিক দাবী মেটাত। এভাবে ত্রিপুরামনিপুরআসামের কত পরিবার যে সর্বস্বান্ত হয়েছে তার ইয়ত্তা নেই। সেই টাকা ভাগ হত তিন ভাগে। জঙ্গিবাংলাদেশের নেতা ও অস্ত্র সরবরাহকারী। বাংলাদেশের তখনকার নেতারা বাংলাদেশের জমি ব্যবহারের অনুমতি দিতট্রেনিং ক্যাম্প বানিয়ে দিত। আর অস্ত্র সরবরাহকারী নেতা কে ছিলেন তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আজ তিনি নির্বাসিত। অস্ত্রের কনসাইনমেন্ট ধরা পড়েছে পরবর্তীকালে।

এরপরের ইতিহাস কিন্তু প্রগতির। সংখ্যাতত্ত্বের বিচারে যাব না কারণ তাতে বুঝতে অসুবিধে হবে। সোজা কথায় বলি – বাংলাদেশের একজন কৃষক সাত বছর আগে সারাদিন খেটে ৩ কিলোগ্রাম চাল কেনার ক্ষমতা রাখত বা আয় ছিল। বর্তমানে তার চাল কেনার ক্ষমতা হয়েছে ১৩ কিলোগ্রাম। অর্থাৎ খাওয়ার পরে উদ্বৃত্ত চাল সে বিক্রি করতে পারে এবং সেই অর্থে পরিধেয় ও অন্যান্য খরচ চালায়। আগে বাংলাদেশকে চাল আমদানি করতে হত। এখন তারা রফতানি করে। এখানেই অর্থনৈতিক উন্নতি দৃশ্যমান’– অর্থনীতিবিদ আতিয়ুর রহমান।

এ তো গেল পাপী পেট কা সওয়াল। এবার আসি যোগাযোগ ব্যবস্থায়। ২০০৯ সালে চার লেন হাইওয়ে ছিলো মাত্র ৭৩.৪ কিলোমিটার। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের হিসেব অনুযায়ী কেবল ২০১৬ সাল পর্যন্ত তা ৩৬৮.৬২ কিলোমিটারে উন্নীত হয়েছে। ব্রিজ/কালভার্ট নির্মাণের ক্ষেত্রে ২০০৯ সালে যা ছিলো মাত্র ৯ লাখ ৬৪ হাজার ৯১৯ মিটার। ২০১৬ সালে তা উন্নীত হয়েছে ১২ লাখ ৯১ হাজার ৭০৭ মিটারে। ন্যাশনাল হাইওয়ের ক্ষেত্রে ২০০৯ সালে যা ছিল মাত্র ৩ হাজার ৪৭৭ কিলোমিটার২০১৬ সালে হয়েছে ৩ হাজার ৮১৩ কিলোমিটার। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের উদ্বোধন করা হয় দেশের প্রথম ৬ লেনের ফ্লাইওভার।

পরে ৬ লেন ও নিচে ৪ লেনসহ মোট ১০ লেনে যানবাহন চলাচল-যোগ্য এ ফ্লাইওভারের দৈর্ঘ্য ৬৬০ মিটার ও প্রস্থ প্রায় ২৫ মিটার। মেগাপ্রজেক্টমেট্রোরেল প্রকল্প চালু হলে প্রতি ঘণ্টায় ৬০ হাজারের অধিক যাত্রী বহন করা সম্ভব হবে। ঢাকা-চট্টগ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে ২২০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যর এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েঢাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা নির্বিঘ্ন করতে ৪৭.৬ কিলোমিটার এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ,এছাড়া উত্তরবঙ্গের সাথে যোগাযোগের উন্নতি সাধনে ঢাকা- আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ হচ্ছে। যাতে ব্যয় হবে ১.৬৭ বিলিয়ন ডলার। মেগাপ্রজেক্টের মধ্যে জাতীয় ক্ষেত্রের পাশাপাশি এশিয়া মহাদেশের সাথে আঞ্চলিক যোগাযোগ উন্নত করতে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণ হচ্ছে। যা বাংলাদেশে এই প্রথম।নির্মীয়মান পদ্মা সেতুটির সঙ্গে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ২৩টি জেলার মানুষের স্বপ্ন জড়িত।

২০১১সালের ২৯ জুন বিশ্বব্যাংক পদ্মাসেতুর অর্থায়ন প্রকল্প স্থগিত করে। এই সময়ে শেখ হাসিনা একাই এক অসম্ভব-অকল্পনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েবসেন। আরতাহলো দেশের টাকা দিয়েই তৈরি হবে পদ্মা সেতু।

বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞদের মতামতকে প্রাধান্য না দিয়ে তিনি একাই দেশের এই বৃহৎপ্রকল্পকে সমর্থন দিয়ে কাজ শুরুর নির্দেশ দিলেন। পদ্মাসেতুর যাবতীয় পরীক্ষা পর্ব শেষে এখন পুরোদমে কাজ চলছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন। ২০০১ সালে বিদ্যুৎ উৎপাদন ছিল ৪ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট। এরপরে তা কমতে থাকে। ২০০৫ সালে তা কমে দাঁড়ায় ৩ হাজার ২০০ মেগাওয়াটে। সারা বাংলাদেশ জুড়ে লোডশেডিং। কলকারখানায় বিনা নোটিশে যন্ত্র বন্ধ।

বর্তমান সরকার ২০০৯ সালে যখন দায়িত্ব গ্রহণ করে তখন বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ছিল মাত্র ৪৯৪২ মেগাওয়াট। এ প্রেক্ষাপটে সরকার ২০২১ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ২৪ হাজার মেগাওয়াট। এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের লক্ষ্যে বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়ন বাজেটের আকার ২০০৯ সালের তুলনায় ২০১৮ সালে ৯ গুণের বেশি বৃদ্ধি করা হয়েছে। ধারাবাহিক প্রচেষ্টায় ২০০৯ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের সংখ্যা ২৭ থেকে ১২১টিতে উন্নীত হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা তিন গুণের বেশি বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ১৮৭৫৩ মেগাওয়াটে। আইন শৃঙ্খলা।

এই বিষয়টি পুরোপুরি পরিসংখ্যান দিয়ে বিবৃত করা সম্ভব নয়। কোন অপরাধ কত শতাংশ কমেছে সে কথা ক্রাইম কনফারেন্সে আলোচিত হয় ঠিকইকিন্তু প্রকৃত চিত্র তা থেকে উঠে আসে না। বর্তমান সরকার ২০০৯ সালে ক্ষমতা দখলের সাথে সাথে বিজিপি অর্থাৎ সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর বিদ্রোহের সম্মুখীন হয়েছিল। যে দেশে মৌলবাদ ও সামরিক বিদ্রোহ ও শাসন এতদিন পাশাপাশি হেঁটে এসেছে সে দেশে সামরিক বিদ্রোহ দমন আকাশকুসুম কল্পনা ছিল। কিন্তু সরকারের দৃঢ় অবস্থানের জন্যে সীমান্ত রক্ষীরা ব্যারাকে ফিরতে বাধ্য হয়।

একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় কার্যকর করার বিরুদ্ধে বর্তমান বিরোধী দলীয় জোট সারাদেশে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। তারা শত শত গাড়িতে আগুন দিয়েছে এবং ভাংচুর করেছে হাজার হাজার গাড়ী। সেই ঢাকা আমি নিজে চোখে দেখেছি। আমার চিকিৎসক বন্ধুর মা পেট্রোল বোমার আঘাতে ঝলসে কাতরাচ্ছেন হাসপাতালে। আমি বিমানবন্দরে নেমেছি। আমাকে শহরে আনা হয়েছে একটি অ্যাম্বুলেন্সে যার উইন্ডস্ক্রীন পাথরের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত। একটা অরাজক এবং অস্থিতিশীল পরিস্থিতি। সেই পরিস্থিতি সরকার তীব্র কঠোরতায় সামলে নিতে পেরেছিলেন।

এবারে আসি পূর্ব আলোচনায়। জঙ্গি পরিস্থিতি। পূর্ববর্তী সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলাদেশ হয়ে উঠেছিল জঙ্গি শাহীর আঁতুর ঘর। ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চল তখন জঙ্গি তৎপরতায় উত্তাল। বাংলাদেশের ভিতরে বাংলা ভাই। চারিদিকে ইসলামের নামে জিহাদি ঝাণ্ডা উড়ছে। সেই সময় জঙ্গিদের প্রতি জিরো টলারেন্স নিয়ে জঙ্গি নিধনে নামলেন বর্তমান সরকার। সম্পূর্ণ শান্ত হল ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চল। বাংলাদেশের ভিতরে জঙ্গি কার্যকলাপ চলে এল সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে। ২০০৫ এর পূর্ববর্তী সরকার তাদের ২০০১ এর বিজয় উৎসব পালন করেছিলেন সংখ্যালঘু নির্যাতন করেতাদের ঘর বাড়ি পুড়িয়ে দেশছাড়া করে। এখন এই ধরনের ঘটনার উল্লেখ প্রায় নেই বললে চলে। সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছে বর্তমান সরকার।

পঞ্চম দৃশ্যমান উন্নয়নের বিষয়- শিক্ষা। ২০০৫ পূর্ব সরকার ক্ষমতায় এসে শিক্ষার হার ৬৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪৪ শতাংশে নামিয়ে এনেছিল। দেশের বর্তমানে শিক্ষার হার ৬৯ শতাংশ। বর্তমান সরকার প্রতি বছর মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে বই বিতরণ করেছে। ২০১৫ সাল থেকে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিশুরাও ব্রেইল পদ্ধতির বই পাচ্ছে। প্রথম শ্রেণী থেকে ডিগ্রী পর্যন্ত ১ কোটি ২১ লাখ ৭৮ হাজার ১২৯ জন শিক্ষার্থীকে বৃত্তি ও উপবৃত্তি দেওয়া হচ্ছে।

২৬ হাজার ১৯৩ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ এবং ১ লাখ ২০ হাজার শিক্ষকের চাকুরি জাতীয়করণ করা হয়েছে।মাধ্যমিক পর্যায়ে সহকারি শিক্ষকদের পদমর্যাদা ৩য় শ্রেণী থেকে ২য় শ্রেণীতে উন্নীত করা হয়েছে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের পদমর্যাদা ৩য় শ্রেণী থেকে ২য় শ্রেণীতে উন্নীত করা হয়েছে।সারাদেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৩ হাজার ১৭২ টি কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে। ২০ হাজার ৫০০টি মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন করা হয়েছে।

পর্যায়ক্রমে সব স্কুলে মাল্টিমিডিয়া শ্রেণীকক্ষ চালু করা হবে। এক হাজার ৪৯৭টি স্কুলে ল্যাপটপ,মাল্টিমিডিয়াসাউন্ডসিস্টেম ও ইন্টারনেট মডেম সরবরাহ করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে আরও ৩ হাজার ৯৩০টি স্কুলে একই ধরণের উপকরণ বিতরণ করা হচ্ছে।

রাষ্ট্রবাংলাদেশের আগেও অনেক গঠিত হয়েছেভবিষ্যতে হয়তো হবেও। রাষ্ট্র স্থাপন করা যত কঠিন তার চেয়েও কঠিন রাষ্ট্র বিরুদ্ধ শক্তিতাদের আন্তর্জাতিক প্রতিভূকে পরাজিত করে রাষ্ট্র টিকিয়ে রাখা। রাষ্ট্র রক্ষার অর্থ তার সীমান্ত অক্ষুণ্ণ রাখা নয়। এর অর্থ যে মৌলিক আদর্শের ভিত্তিতে রাষ্ট্র গঠিত হয়েছিল তা অক্ষুণ্ণ রাখা।

কিন্তু যখন রাষ্ট্রের মৌলিক আদর্শ ছিন্নভিন্ন হয় তখন রাষ্ট্র বিপন্ন হয়ে পড়ে। কাজেই বাংলাদেশের রাস্ট্ররক্ষার দায় কারকারণ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় দায়হীনতা থাকতে পারে না। এই দায়বদ্ধতা শুধু বাংলাদেশের ভোটারদের। কিন্তু বিশ্বজনমতের একটা মূল্য আছে। তলা বিহীন ঝুড়ি’ আজ উন্নয়নের ঘুড়ি’ – এই তীব্র পরিবর্তন দেখে কেউ উদাসীন থাকতে পারে না।প্রায় তিন দশক আগে নিজের জীবন-সংগ্রামের বর্ণনা দিতে গিয়ে নিজের ওরা টোকাই কেন (১৯৮৯) গ্রন্থে শেখ হাসিনা লিখেছিলেন, “আমার চলার পথটি কখনোই সহজ নয়। বহু চড়াই-উৎরাই পার হতে হচ্ছে।

নানা সমস্যা চোখে পড়ে। দুঃখ-দারিদ্র্যক্লিষ্ট আমাদের সমাজ জীবনের এই দিকগুলি সবাই চিন্তা করুক। সমাজ ও দেশ উন্নয়নের কাজে রাজনৈতিক ও মানবিক চেতনায় সবাই উজ্জীবিত হয়ে উঠুকএটাই আমার একমাত্র আকাঙক্ষা।“ বাংলাদেশ দুর্ণিবার গতিতে এগিয়ে চলেছে উন্নয়নের শিখরের দিকে। তাই সারা পৃথিবী আজ তাকিয়ে আছে এই উন্নয়নের কাণ্ডারীর দৃপ্ত বিজয় দেখার জন্যে।

লেখকঃ অমিত গোস্বামী

সর্বশেষ