শিরোনাম

বিএনপি নেতাদের দুদকে তলবে সরকারের হস্তক্ষেপ নেই : ওবায়দুল কাদের

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৭:৫০:০৩ অপরাহ্ণ - ০৪ এপ্রিল ২০১৮ | ২৯

নিজস্ব প্রতিবেদক : ১২৫ কোটি টাকা ‘সন্দেহভাজন’ লেনদেনের তথ্য পেয়ে আট নেতার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদকের অনুসন্ধানের সিদ্ধান্তে বিএনপির প্রতিক্রিয়ার সমালোচনা করেছেন ওবায়দুল কাদের। বলেছেন, এই সংস্থাটি স্বাধীনভাবে কাজ করছে, এই সিদ্ধান্তে সরকারের হাত থাকার কারণ নেই।
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, দুদক তাদের দলের নেতাদেরকেও ডাকে, মন্ত্রী, সংসদ সদস্যদেরকেও ডাকে। একজন সংসদ সদস্যের কারাদণ্ডও হয়েছে। দুদকে সরকারের হস্তক্ষেপ থাকলে এটা হতো কি না, সে প্রশ্নও রাখেন তিনি।
বুধবার ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছিলেন কাদের। এ সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
১৭ এপ্রিল স্বাধীন বাংলাদেশের প্রবাসী সরকার গঠনের ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উদযাপন প্রস্তুতি কমিটির বৈঠক শেষে এই সংবাদ সম্মেলন করে কাদের।
একটি অনলাইন পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সূত্র ধরে বিএনপি নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, মির্জা আব্বাস, আবদুল আউয়াল মিন্টু, এম মোর্শেদ খান, হাবিব উন নবী খান সোহেল, তাবিথ আউয়ালের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুদক। মোর্শেদ খানের ছেলে খান ফয়সাল মোর্শেদ খানের বিরুদ্ধেও চলছে এই অনুসন্ধান।
একটি গোয়েন্দা সংস্থার বরাত দিয়ে ওই পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, গত এক মাসে বিএনপির এই আট নেতা ১২৫ কোটি টাকা লেনদেন করেছেন। আর এই লেনদেনকে সন্দেহজনক হিসেবে দেখছে গোয়েন্দা সংস্থাটি।
এই খবর প্রকাশের পর সোমবার দুদকের উপপরিচালক সামছুল আলমকে এই বিষয়ে অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেয়ার খবর এসেছে গণমাধ্যমে।
দুদকের এই পদক্ষেপে ক্ষুব্ধ বিএনপি অভিযোগ করছে, বিএনপির বিরুদ্ধে সরকার দুদককে কাজে লাগাচ্ছে।
তবে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ মঙ্গলবার গণমাধ্যমকর্মীদেরকে বলেছেন, এই সিদ্ধান্তের পেছনে রাজনৈতিক কোনো কারণ নেই। তারা অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি সত্য কি না, তা খুঁজে বের করতেই অনুসন্ধান করা হবে।
আর বিএনপির ‘অভয়’ দিয়ে দুদক চেয়ারম্যান এও বলেন যে, ‘কারো প্রতি অন্যায় হোক এটা আমরা চাই না।’
সরকারের নির্দেশে দুদক কাজ করছে-বিএনপি নেতাদের এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘তাদের ব্যাপারে সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ নেই। এখানে তাদের এখনও তদন্তের পর্যায়ে না, তলব করা হয়েছে মাত্র। সেই অবস্থায় তারা বলে সরকারের হাত আছে।’
‘দুদক তদন্ত করছে তাদের ব্যাংক হিসেবের সন্দেহজনক লেনদেনর জন্য ১২৫ কোটি টাকা। ১২৫ কোটি সন্দেহজনকভাবে লেনদেন দুদক তলব করেছে।’
বর্তমান সরকারের আমলে দুদক পুরোপুরি স্বাধীনভাবে কাজ করছে বলেও দাবি করেন কাদের। বলেন, ‘একই সময়ে দেখলাম আমাদের আওয়ামী লীগের একজন সংসদ সদস্য (বিএইচ হারুন), তাকেও দুদক তলব করেছে। আইন কিন্তু সবার জন্য সমান।’
‘বিচার বিভাগ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনসহ রাষ্ট্রীয় এই প্রতিষ্ঠানগুলো এই সরকারের আমলে, শেখ হাসিনার আমলে যে স্বাধীনতা ভোগ করেছে এটা বোধহয় বাংলাদেশে নজীরবিহীন। অতীতের কোনো সরকারের আমলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো এই মর্যদা এই কর্তত্ব এই স্বাধীন করতে পারেনি।’
দুর্নীতি দমন কমিশনের করা মামলায় সরকার দলের সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি যে নিম্ন আদালতে দণ্ডিত হয়েছে, এই বিষয়টিও স্মরণ করিয়ে দেন ওবায়দুল কাদের। বলেন, ‘আপিলচলছে, তিনি আপি করেছেন, উচ্চ আদালতে যেটা সিদ্ধান্ত নেবে সেটাই সিদ্ধান্ত। ক্ষমতায় আওয়ামী লীগ, আওয়ামী লীগের এমপি দণ্ডিত।’
বিএনপির সমালোচনাকে অযৌক্তির উল্লেখ করে ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘এখানে সরকার ইন্টারফেয়ার (হস্তক্ষেপ) করেনি, নিজের লোকের ব্যাপারে। সেখানে বেগম জিয়ার দণ্ড হওয়ার পর বলা হচ্ছে এটা সরকারের হস্তক্ষেপ।’
‘আজকে আমাদের প্রেসিডিয়াম মেম্বার, আমাদের মন্ত্রীরা দুদকের মামলায় হাজিরা দিচ্ছেন। এখন মামলা চলছে, চলমান, প্রেসিডিয়াম মেম্বারের বিরুদ্ধে মামলা চলছে। আমরা যদি ইন্টারফেয়ার করি তাহলে আমাদের দলের সর্বোচ্চ নীতিনীর্ধারক পর্ষদ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা চলছে কীভাবে?’
আদালতে দণ্ডিত ও চিহ্নিত দুর্নীতিবাজদের বিএনপির সদস্য হতে নিষেধাজ্ঞার দিয়ে সাত ধারা বাতিলের কথাও তুলে ধরেন কাদের। বলেন, ‘আসলে বিএনপি এমন একটা দল, যে দল বেগম জিয়ার দণ্ডে ১০দিন আগে তড়িঘড়ি করে রাতের অন্ধকারে এক কলমের খোঁচায় তাদের গঠনতন্ত্র থেকে ৭ ধারা বাদ দিয়ে দিয়েছে। সাত ধারা বাদ দিয়ে তারা নিজেরাই এখন দুর্নীতিগুস্থ দল।’
‘তাদের সাত ধারায় ছিল দুর্নীতি করলে দুর্নীতিপরায়ণ কোনো বিএনপির নেতা হতে পারবে না, কুখ্যাত ব্যক্তি সংসদ সদস্যও হতে পারবে না, জাতীয় পর্যায়েও কোনো নেতা হতে পারবে না। রাষ্ট্রপতির আদেশ নম্বর ৮ বলে, যদি কেউ দণ্ডিত হয় তাহলে সে বিএনপির নেতা হতে পারবে না। এই যে হতে পারবে না এখন এটা তাদেরই সংবিধান ৭ ধারা তুলে দিয়ে তারা নিজেরাই এখন দণ্ডিত।’
‘এটা সংবিধান (গঠনতন্ত্র) থেকে তুলে দিয়ে তারা এখন অবাধে নেতা হওয়ার অধিকার আছে। চেয়ারম্যান দণ্ডিত, ভাইস চেয়ারম্যান দণ্ডিতে, এটা জায়েজ করার জন্য তারা এটা তুলে দিয়েছে। যে দল এটা অনুশীলন করে, কথায় কথায় সবকিছুতেই বলবে সরকারের হাত রয়েছে।’
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, মোহাম্মদ নাসিম, আবদুল মান্নান মান্নান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন, যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ
জনপ্রিয় খবর