শিরোনাম

বিএনপি ধ্বংস ছাড়া মানুষের কল্যাণ করতে পারে না: প্রধানমন্ত্রী

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৩:১৫:২৪ পূর্বাহ্ণ - ৩১ আগস্ট ২০১৭ | ১১০

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বিএনপি ধ্বংস ছাড়া মানুষের কল্যাণ করতে পারে না। জাতীয় নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে ততই তাদের নানা ধরনের অজুহাত শুরু হয়েছে।’

অাজ বুধবার বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পঁচাত্তরের পর যারাই ক্ষমতায় এসেছে বাংলাদেশকে পিছিয়ে দিতে চেষ্টা করেছে। কারণ তারা দেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না। যারা রক্ত দিয়ে স্বাধীনতা এনেছে তারাই ছিল ক্ষমতাসীনদের কাছে উপেক্ষিত। দেশটাকে তারা ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যেতে চেষ্টা করেছে।’

এ সময় তিনি বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের বিভিন্ন দুঃশাসনের চিত্র তুলে ধরেন। নির্বাচন ঠেকানোর নামে বিএনপি জোটের নাশকতার বিবরণও দেন তিনি।

মানুষ হত্যার রাজনীতির সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটাই (বিএনপি’র) তাদের রাজনীতি। এটাই তাদের কাজ। তারা মানুষের কল্যাণ করতে পারে না। কিন্তু মানুষকে ধ্বংস করতে পারে। মানুষের ওপর অত্যাচার করতে পারে। মানুষকে নির্মমভাবে তারা খুন করে যায় নির্বিচারে। যখন জনগণ প্রতিরোধ করেছে তখন খালেদা জিয়া ঘরে ফিরে গেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ২০০৮ সালে নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করেছি বলেই জাতির পিতা হত্যার বিচারের রায় আমরা কার্যকর করতে পেরেছি। ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলা, মানি লন্ডারিং মামলার বিচার করেছি, শাস্তি পেয়েছে তার ছেলে (খালেদা জিয়ার)। তিনি বলেন, তাঁর সরকার টানা দ্বিতীয় মেয়াদে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে বলেই আজকে দেশে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে। তাইতো সারাবিশ্বে আজকে বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।

সরকার প্রধান বলেন, আমরা প্রতিবেশী সকল দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে প্রতিটি সদস্যা আমরা সমাধান করেছি। আজকে বিশ্বে বাংলাদেশ উন্নয়নের ক্ষেত্রে সকলের কাছে বিস্ময়। এটা আমরা করতে পেরেছি একটাই কারণে যে জাতির পিতার আদর্শ নিয়ে তাঁর নীতি অনুসরণ করে তার প্রদর্শিত পথে এই দেশ পরিচালনা করছি। যখনই একটু ভালো কাজ করি আমার শুধু মনে হয় নিশ্চই আমার আব্বার আত্মাটা শান্তি পাবে। যে তাঁর দেশের মানুষ ভালো আছে।

সাম্প্রতিক বন্যার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে বন্যা হয়েছে আমরা আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়েছি একটা মানুষও যেন কষ্ট না পায়। ফসল নষ্ট হয়েছে। আমরা বিদেশ থেকে পয়সা দিয়ে আমরা খাদ্যশস্য কিনে নিয়ে আসছি। যেন প্রত্যেকটি মানুষের ঘরে ঘরে আমরা খাদ্য পৌঁছে দিতে পারি। যারা গৃহহারা তাদের ঘরবাড়ি করে দেব। রোগের প্রাদুর্ভাব যেন না দেখা দেয় তার জন্য আগাম আমরা প্রস্তুতি নিয়েছি, ওষুধপত্র কোন কিছুর যেন অভাব না থাকে। এখন বন্যায় যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তারা যেন পুনরায় চাষবাস করতে পারে তারজন্য যা যা করার সব ব্যবস্থা আমরা করে রেখেছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা এই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। আজকে জাতির পিতা আমাদের মাঝে নেই। তাঁকে আমাদের কাছ থেকে কেড়ে নেয়া হয়েছে। কিন্তুু তাাঁর আদর্শ এবং নীতি নিয়েই আমরা এই দেশকে বিশ্ব দরবারে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করতে চাই। বাংলাদেশকে হবে বিশ্বের উন্নত সমৃদ্ধ দেশ। যে স্বপ্ন নিয়ে জাতির পিতা এদেশকে স্বাধীন করেছিলেন- ক্ষুধা মুক্ত, দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা। ইনশাল্লাহ খাদ্যের অভাব এখন নেই কিন্তু বাংলাদেশ একদিন ক্ষুধা মুক্ত, দারিদ্র মুক্তভাবে গড়ে উঠবে। এই শোক দিবসে এটাই আমাদের প্রতিজ্ঞা। যে এই দেশকে আমরা জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ করবো। তবেই তাঁর আত্মা শান্তি পাবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘উচ্চ আদালত এখন বিভিন্ন বিষয়ে স্বপ্রণোদিত হয়ে অনেক রায় দেয়। অনেকে অনেক বিষয় নিয়ে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়। কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর এই উচ্চ আদালত কোথায় ছিল? তাদের বিবেক কি তখন বন্দী ছিল?’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিভিন্ন দেশ বঙ্গবন্ধুর খুনিদের আশ্রয় দেয়নি। আমি জানি না যারা বাংলাদেশে তখন বিবেকবান ছিলেন হাতেগোনা কয়েকজন ছাড়া বাকিরা তো কোনো কথা বলেননি। বিদেশিদের মতো বিবেক কয়জন দেখিয়েছে?’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বেইমান-মুনাফিক মোশতাক বঙ্গবন্ধুকে খুন করে তিন মাসও ক্ষমতায় থাকতে পারেনি। বেইমানরা বেশি দিন থাকতে থাকতে পারে না। মীর জাফর সিরাজ-উদ-দৌলার সঙ্গে বেইমানি করে টিকতে পারেনি, বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে বেইমানি করে মোশতাকও টিকতে পারেনি।
আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘এটা খুব স্পষ্ট যে, মোশতাকের ডান হাত ছিল জিয়া। কর্নেল ফারুক তার ইন্টারভিউতে স্পষ্ট করে বলেছে। সায়েমকে হটিয়ে জিয়া পরবর্তী সমযে রাষ্ট্রপতি হন। জিয়া মুক্তিযোদ্ধা সেনা অফিসারদের খুন করেছে।’ জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে বঙ্গবন্ধু হত্যার পথ রুদ্ধ করে দেয় বলেও মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা।

আবেগাপ্লুত কণ্ঠে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা কি এই দেশের নাগরিক না? আমাদের কি বিচার পাওয়ার কোনো অধিকার ছিল না। আজ আমার কাছে অনেকেই স্বজন হারানোর বিচার চান। একদিন এই বিচার চাওয়ার অধিকার পর্যন্ত আমাদের কাছ থেকে কেড়ে নেয়া হয়েছিল। ২১ বছর পর ক্ষমতায় এসে আমরা এই বিচারকাজ শুরু করি। প্রথমবার শেষ করতে পারিনি, দ্বিতীয় দফায় এসে এটা সম্পন্ন করেছি।’

বঙ্গবন্ধুর খুনিদের জিয়াউর রহমান রক্ষা করেছিলেন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খুনিদের বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দিয়ে জিয়া পুনর্বাসন করেছিলেন। তাদের যোগ্যতা কী? যোগ্যতা হলো তারা খুনি। তারা খুন করে জাতির পিতাকে, শিশুকে, নারীকে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘পঁচাত্তর পরবর্তী সময়ে বঙ্গবন্ধু নামে কেউ ছিল এটাও ভুলিয়ে দেয়ার অপচেষ্টা হয়েছে। টেলিভিশনে বঙ্গবন্ধুর ছবি দেখানো হতো না। অন্যদের সঙ্গে কোথাও বঙ্গবন্ধুর ছবি থাকলে তা ঢেকে রাখা হতো।’

ইতিহাস বিকৃত করে শহীদদের রক্তের প্রতি অবমাননা করেছিল বলেও জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী ও তার ছোট বোন শেখ রেহানার সঙ্গে কী অমানবিক আচরণ করা হয়েছিল এর বিবরণও দেন তিনি।

বঙ্গবন্ধুর বলিষ্ঠ নেতৃত্বের প্রশংসা করে তার কন্যা বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু দেশের মানুষের ভাগ্যের উন্নয়নের জন্য সংগ্রাম করে গেছেন। এদেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে, স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছেন।’ ফাঁসির মুখেও তিনি নতি স্বীকার করেননি বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ দক্ষিণ ও উত্তর যৌথভাবে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে। সভায় বক্তব্য রাখেন- আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক, অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল ফারুক খান, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, উত্তরের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান প্রমুখ।

ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ দক্ষিণের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আকতার হোসেন এবং উত্তরের সহ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আজিজুল ইসলাম রানা যৌথভাবে সভা পরিচালনা করেন।

সর্বশেষ