শিরোনাম

বিএনপি-জামায়াত থেকে দলে কাউকে নেয়া যাবে না: শেখ হাসিনা

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৪:৫৭:৪৯ পূর্বাহ্ণ - ২২ আগস্ট ২০১৮ | ৩০

বিএনপি-জামায়াত থেকে দলে কাউকে নেয়া যাবে না, সাফ জানিয়ে দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বলেছেন, এরা দলের ভেতর ঘাপটি মেরে বসে অপকর্ম করে। কাজেই তাদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

ক্ষমতায় থাকতে তো বটেই আর এখনও এরা আওয়ামী লীগে এসে নেতা-কর্মীদের হত্যা ও অত্যাচার নির্যাতন করে যাচ্ছে বলেও সতর্ক করেন বঙ্গবন্ধু কন্যা।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের শোভাযাত্রা শুরুর আগে গ্রেনেড হামলায় নিহতদের স্মরণে মঙ্গলবার দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জমায়েতে বক্তব্য রাখছিলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি।

২০০৯ সালের জানুয়ারিতে আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর দেশের বিভিন্ন এলাকায় দল ভারী করতে আওয়ামী লীগের নেতারা বিএনপি এমনকি জামায়াত থেকে নেতা-কর্মীদের নিয়ে এসেছেন। আর দলে অনুপ্রবেশের বিষয়টি গত কয়েক মাস ধরেই তুমুল আলোচিত।

যদিও ক্ষমতায় আসার পরেই আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, অন্য দল থেকে কাউকে আনার দরকার নেই। তারপরও এই প্রবণতার চলতে থাকা দলের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমোদন ছাড়া কাউকে নেয়ার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়। সেটিও যখন কাজে আসছে না, তখন ভোটের বছরে নেতা-কর্মীদের এবার প্রকাশ্যেই সতর্ক করলেন শেখ হাসিনা।

এ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যাযজ্ঞের কথাও তুলে ধরেন জাতির জনকের কন্যা। আর বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সামরিক শাসন জারি করে ক্ষমতা গ্রহণ, পরে খালেদা জিয়ার আমলে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের নিষ্পেষণের কথাও উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের বহু নেতা-কর্মী এখনও নানাভাবে নির্যাতন, হত্যার শিকার হয়। বিএনপি-জামায়াত জোটের যারা ঘাপটি মেরে থাকে, তাদের অনেকেই আমাদের দলের সাথে মিশে যায়। দলে ঢুকেই সেখানে গোলমাল করে আমাদের নেতা-কর্মীদের হত্যা করে, আমাদের ওপরই দোষ চাপায়।’

‘যারা আগুন দিয়ে পুড়িয়ে পুড়িয়ে মানুষ মারতে পারে, যারা জাতির পিতাকে হত্যা করতে পারে, যারা শিশু হত্যা করতে পারে, যারা নারী হত্যা করতে পারে, আমরা বিরোধী দলে ছিলাম, সেই বিরোধীদলের র‌্যালিতে প্রকাশ্য দিবালোকে যারা গ্রেনেড হামলা করতে পারে, তারা কখনও কোনো দেশের কল্যাণ করতে পারে না, কারও মঙ্গল করতে পারে না। তারা শুধু রক্ত নিতেই জানে।’

‘কাজেই তাদের সম্পর্কে দেশবাসীকেও সজাগ থাকতে হবে আর আমাদের নেতা-কর্মীদেরকেও বলব, এদের দলে যেন কেউ না ঢুকায়।’

‘এদের উত্থানই হচ্ছে হত্যা, ক্যু, ষড়যন্ত্রের রাজনীতির মধ্য দিয়ে। এদের চরিত্র কখনও বদলাবে না।’

‘এরা সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ দুর্নীতি, মানি লন্ডারিং, এতিমের অর্থ আত্মসাৎ, সেইগুলোই তারা জানে, নিজেরা ভোগ করতে জানে, মানুষকে দিতে জানে না।’

শেখ হাসিনার আজকের বক্তব্যের সিংহভাগই ছিল তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে চালানো গ্রেনেড হামলার আগে পরের নানা বিষয়।

১৪ বছর আগে আজকের এই দিনটিতে গ্রেনেড হামলা থেকে বঙ্গবন্ধু কন্যা রক্ষা পেয়েছেন বলতে গেলে অলৌকিকভাবে। নেতা-কর্মীরা নিজের জীবনের ঝুঁকি উপেক্ষা করে চারপাশ থেকে মানববর্ম তৈরি না করলে তিনি হয়ত আর বেঁচে ফিরতে পারতেন না।

সেদিন আওয়ামী লীগ সভাপতি বেঁচে গেলেও প্রাণ হারান প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভী রহমানসহ ২২ জন। আহত হয় কয়েকশ।

সেদিনের সেই হামলার স্মৃতিচারণ করে নেতা-কর্মীদেরকে ধন্যবাদও জানান আওয়ামী লীগ সভাপতি। বলেছেন, বারবার তার জীবন রক্ষা করতে গিয়ে বহু মানুষ প্রাণ দিয়েছে। এ জন্য তিনি সব সময় কৃতজ্ঞ থাকবেন আর দেশের জন্য কাজ করেই এই দায় শোধ করার চেষ্টা করবেন।

১৯৮১ সালে দেশে ফেরার পর বারবার হত্যা চেষ্টার বিষয়টি তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। বলেন, ‘আল্লাহ বাঁচিয়ে রেখেছেন। আমরা তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায়। চেষ্টা করেছি বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য, দেশকে উন্নত করার জন্য। …যতক্ষণ আল্লাহ জীবন দিয়েছেন, একটাই চেষ্টা এই দেশের মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়ে জাতির পিতার স্বপ্ন যেন পূরণ করতে পারি, সেটাই চাই।’

দীর্ঘ বক্তব্যে গ্রেনেড হামলার পুলিশ এবং সে সময় ক্ষমতাসীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের ভূমিকা, তাদের বক্তব্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব ঘটনাই প্রমাণ করে এর সঙ্গে বিএনপি, সে সময়ের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং তার ছেলে তারেক রহমান জড়িত।

জোট সরকারের আমলে নির্দোষ জজ মিয়াকে ফাঁসিয়ে প্রকৃত হামলাকারীদের বাঁচানোর চেষ্টার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, এখন বিচার চলছে, রায়ও পাওয়া যাবে।

আগস্টকে শোকের মাস উল্লেখ করে এর মধ্যে ঈদুল আযহায় দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানাতে ভুলেননি প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘আমাদের জীবনটাই এমন।’

সর্বশেষ
জনপ্রিয় খবর