শিরোনাম

বাবা হওয়ার প্রথম অনুভূতি

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৩:০৩:০৩ পূর্বাহ্ণ - ১৮ জুন ২০১৭ | ২৩৬

আজ বাবা দিবসে আমার ছেলে মো: মেজবাহ উদ্দিন অর্থ’কে নিয়ে কিছু লেখা..
ভাষা ভেদে শব্দ বদলায়। স্থান ভেদে বদলায় উচ্চারণও। তবে বদলায় না রক্তের সেই টান। মাতৃগর্ভ থেকে সন্তান ভূমিষ্ট হওয়ার পর প্রথমবারের মতো বাবা যখন সন্তানের মুখ দেখেন কিংবা কোলে তুলে নেন, সেদিনের সেই অনুভুতি অতুলনীয়, যা আজীবন বাবার হৃদয়ে অবশিষ্ট থাকে।

সন্তানের কাছে বাবা সবচেয়ে বড় বন্ধুর মতো। কারও বাবা পথপ্রদর্শক। অনেকেই বাবাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানায়। অনেক দেশে কার্ডও উপহার দেয়া হয়। যাদের বাবা বেঁচে নেই, তারা হয়তো আকাশে তাকিয়ে অলক্ষ্যে বাবার স্মৃতি হাতড়ায়। আমার বাবা-মা আছেন। এবং আমি নিজেও এখন এক সন্তানের বাবা। আজ আমি বুঝতে পারি আমার বাবা আমার জন্য কতোটা হাড়ভাঙা পরিশ্রমটাই না করেছেন এবং এখনো করছেন।

আমার ছেলে মো: মেজবাহ উদ্দিন অর্থ যেদিন এই পৃথিবীতে এল, সেদিনের প্রতিটি ক্ষণ আমার মনে গেঁথে আছে। জগতের আর কোনো কিছু মনে থাকুক আর না থাকুক। মিড়পুর শেওরাপাড়া (মা, শিশু ও প্রজনন স্বাস্থ্য সেবা ক্লিনিক) ডাক্তারের তত্বাবধানে ছিল অর্থর মা। তারিখটি জুলাই এর ২৯। রাত সাড়ে ৭:৪০ এর দিকে নার্স একটি তোয়ালে জড়িয়ে অস্ত্রোপচার কক্ষ থেকে যখন অর্থকে নিয়ে এলো, আমার চোখেমুখে রাজ্যের বিস্ময়। আমি বাবা হয়েছি। আমার শিশুছেলে এখন আর কল্পনার মধ্যে নেই বাস্তবে আমার সামনে একেবারে নিঃশ্বাস দূরত্বে ধরাছোঁয়ার মধ্যে।

প্রযুক্তির চরম উৎকর্ষের এই যুগে আমরা আগেই জেনেছিলাম আমাদের ঘরে আসছে ছেলে সন্তান অর্থ। নার্স যখন এলো এক নজর চোখ বুলিয়েই ভেতরটা অন্যরকম এক অনুভূতিতে ভরে গেলো। সে অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করে সাধ্য কার? আমি কেনো, জগতের কোনো বাবার পক্ষেই প্রথম বাবা হওয়ার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব না।
আমার জীবনটা এক রকমে চলছিল। অর্থ এসে আমাকে ‘বাবা’ নামের নতুন একটি পরিচয়ে আমূল বদলে দিয়েছে। আমি প্রতিমূহুর্তে অনূভব করি, সন্তানের বাবা হওয়া খুবই সহজ। কিন্তু প্রকৃত অর্থে সন্তানের মনোজগতের মনোময় বাবা হওয়া খুবই কঠিন। আমি প্রথম দিন থেকেই খেয়াল করেছি, অর্থ‘র নির্ভরতা ওর মায়ের ওপরই ষোলআনা। ও যখন আস্তে আস্তে বড় হয়েছে, তখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাবার জন্য একটি স্পেস তৈরি হয়ে গেছে। এখন সেই জায়গাটা দখলে নেওয়ার একটা চেষ্টা প্রতিনিয়ত আমি করে যাচ্ছি।

আমি জানি, আমি যদি সেই স্পেস বা জায়গাটা দখলে নিতে ব্যর্থ হই, তাহলে বাবা হিসেবে আমি ব্যর্থ হব। একজন বাবা সন্তানের কাছে জগতের সবচেয়ে বড় এন্টারটেইনার। তার কাছে হাসিরস্ম্রাট চার্লি চ্যাপলিনও ফেল। বাবারা সন্তানের মনোজগত গঠনের, চরিত্র গঠনের বড় এক সহায়ক। বাবাদের দ্বারাই তারা বেশি অনুপ্রাণিত হয়।

এ কারণে আমি সব সময়ই বাবা হয়ে সন্তানকে ভাল শিক্ষাটা দেয়ার চেষ্টা করি। এখনও পথের ক্লান্তিকে ঝেড়ে ফেলে মনের অসাড়তাকে দূরে ঠেলে হাসি মুখে, হৃষ্ট চিত্তে সন্তানকে আঁকড়ে ধরে প্রাণ ভরে ‘বাবা-বাবা’ ‘আব্বু-আব্বু’ ডাকি।

নতুন প্রজন্মের কাছে মা দিবস, বাবা দিবস ইত্যাদি দিবসগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে জনপ্রিয় হলেও বাবা-মা’র প্রতি সন্তানের শ্রদ্ধাবোধ বেড়েছে। সন্তান শিখেছে মাথা উঁচু করে পৃথিবীতে টিকে থাকতে।

নির্বাহী সম্পাদক : মো: মেরাজ উদ্দিন বাপ্পী

janatarpratidin.com / Md. Bappy / 18 June 2017

 

সর্বশেষ