শিরোনাম

“বাংলাদেশ ছাত্রলীগ” এবং “বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ” একই মায়ের সংগ্রামী দুই সন্তান

সর্বশেষ আপডেটঃ ০২:৫৭:১৫ পূর্বাহ্ণ - ৩০ জুলাই ২০১৭ | ৬৪৯

লেখক, ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি- মোঃ রকিবুল ইসলাম রকিব। একই মায়ের গর্ভের দুই সন্তান- “বাংলাদেশ ছাত্রলীগ”, “বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ” এই দুটো সংগঠন “বাংলাদেশের” বিভিন্ন লড়াই সংগ্রাম আর অর্জনের জন্য এত ত্যাগ, এত রক্ত দিয়েছে যা পৃথিবীর কোন রাজনৈতিক সংগঠন দেয় নাই। এই দুটো দলকে ধ্বংস করার জন্য দেশে বিদেশে অনেক ষড়যন্ত্র করা হয়েছে, অনেক নেতা কর্মীদের হত্যা করা হয়েছে। আমাদের জাতির জনক “বঙ্গবন্ধু” সহ জাতীয় চার নেতাকেও হত্যা করা হয়েছে। সত্যিকার অর্থে বাঙালি জাতিকে পুরোপুরি নেতৃত্ব শূন্য করে দেয়ার ঘৃণ্য পায়তারা করছে। এত্ত কিছুর পরেও এই দুটো সংগঠন এখনো প্রচন্ড গর্ব ও অহংকারে মাথা উঁচু করে চলছে অবিচল। ১৯৭১ সালের ৩ মার্চ বঙ্গবন্ধু ছাত্রলীগের সমাবেশে বলেছিলেন, “দানবের সঙ্গে লড়াইয়ে যে কোনো পরিণতিকে মাথা পেতে বরণের জন্য আমরা প্রস্তুত। ২৩ বছর রক্ত দিয়ে এসেছি। প্রয়োজনবোধে বুকের রক্তগঙ্গা বইয়ে দেব। তবু সাক্ষাৎ মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়েও বাংলার শহীদদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি করব না।” তাই তো মহান মুক্তিযুদ্ধে আমাদের প্রাণের সংগঠনের ১৭ হাজার বীর যোদ্ধা তাদের বুকের তাজা রক্তে এঁকেছেন লাল-সবুজের পতাকা, এঁকেছেন ৫৬ হাজার বর্গমাইলের এক সার্বভৌম মানচিত্র।সেসব বীর যোদ্ধারাই আমাদের অনুপ্রেরণা, আমাদের শক্তি, আমাদের সাহস। “বাংলাদেশ ছাত্রলীগ”, “বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের” পাশে থেকে সর্বদাই বিদ্যার সঙ্গে বিনয়, শিক্ষার সঙ্গে দীক্ষা, কর্মের সঙ্গে নিষ্ঠা, জীবনের সঙ্গে দেশপ্রেম এবং মানবীয় গুণাবলির সংমিশ্রণ ঘটিয়ে ভাষার অধিকার, শিক্ষার অধিকার, বাঙালির অধিকার প্রতিষ্ঠা, দুঃশাসনের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থান, সর্বোপরি স্বাধীনতা ও স্বাধিকার আন্দোলনের ছয় দশকের সবচেয়ে সফল সাহসী সারথির নাম “বাংলাদেশ ছাত্রলীগ”।

“বাংলাদেশ ছাত্রলীগ” মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান,মহান মুক্তিযুদ্ধে এই “ছাত্রলীগের” ছিলো প্রচন্ড ত্যাগ আর গর্বের অবদান। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে স্বাধীন বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধুর হাতকে শক্তিশালী করে দেশ গঠনে ছাত্রলীগের অবদান ছিলো অসামান্য । বাঙালি জাতির জন্য শেখ মুজিবুর রহমান একটি স্পন্দনের নাম,একটি অনুভূতির নাম। এই ছাত্রলীগই কিন্তু চিরদুঃখী বাঙালি জাতির প্রাণের পুরুষ হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক “শেখ মুজিবুর রহমান”কে “বঙ্গবন্ধু” উপাধিতে ভূষিত করে ছিলো। যখন “বাঙালি জাতি, বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধু” সমার্থক শব্দে পরিণত হয়েছিল, ঠিক তখনই বাঙালি জাতির হাজার বছরের ইতিহাসের উজ্জ্বলতম নক্ষত্রটিকে নিভিয়ে দিতে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট হিংস্র হায়েনারা আঘাত হানে।যার প্রত্যক্ষ মদদ দিলেন খন্দকার মোশতাক আর বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান। এই ছাত্রলীগই বঙ্গবন্ধুর পরম রক্ত বঙ্গ কন্যা শেখ হাসিনাকে ১৯৮১ সালে স্বদেশে ফিরিয়ে আনার জন্য অগ্রণী ভূমিকা রেখেছিলো এবং পরবর্তীতে দেশরত্নের হাতকে শক্তিশালী করে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে সর্বোদ্যত ছিলো। “বাংলাদেশ ছাত্রলীগের” শুধু ত্যাগ,আদর্শ,চেতনা আর অর্জনই ছিলো কিন্তু বিচ্যুতি ছিলো না। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের অকৃত্রিম ভেলায় চড়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বারংবার “গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের” সরকার ক্ষমতায় এসেছে যাঁর ধারাবাহিকতা আজোও বিদ্যমান। তাই তো বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে ধ্বংসকল্পে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের গৌরব অধ্যায় ও ভূমিকাকে অন্যায়ভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু এই “ছাত্রলীগ” কখনো অন্যায় আবদার বা বিচ্যুত নীতির কাছে মাথা নত করেনি বরং অহংকারের শতভাগই দেখিয়ে এসেছে। এই তো “ছাত্রলীগ” আর এটাই আওয়ামী উজ্জীবিত “বাংলাদেশ ছাত্রলীগ”। আজ আবারও উদ্ধত হয়েছে নব হানাদার,আমার মানচিত্রকে ছিঁড়ে খেতে চায় বাঙালির শাশ্বত আদর্শকে বিচ্যুতদের উদ্ভট দ্যুতিতে উল্টো রাঙাতে চায়। এরা দোসর,এরা আবারো আমাদের অহংকারের ছাত্রলীগের গৌরবকে পশ্চাতে দৌড়াতে চায়। ছাত্রলীগকে বিচ্যুত অনুচরদের অনলে পুড়িয়ে “আওয়ামী লীগের” ভাঙন বা ধ্বংস দেখতে চায়! মনে রাখবেন যাঁরা বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা কে ভয় পায় তাঁরাই “বাংলাদেশ ছাত্রলীগে” ভাঙন চায়। কিন্তু ঐ সব নাম-ব্যারিস্টার কুট-মৌলবিরা হয়তো এখনো “ছাত্রলীগের” গর্জন শুনেনি বা ভুলে গেছে, হয়তো আজো “ছাত্রলীগ” মুদ্রার উল্টো পিঠ দেখেনি। “বঙ্গবন্ধুর” এই স্বাধীন বাংলাদেশে যতদিন একজন আদর্শিক ছাত্রলীগ কর্মীও বেঁচে থাকবে ততদিন এদেশের মানচিত্রে কোনো আদর্শ বিচ্যুত মৌলবাদের স্থান হবেনা। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ তার সোনালি অতীতের মতো সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়বে।আর অনাগত প্রজন্মের লড়াই হবে সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে আর মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে ধারণ করে, সকল অশুভ শক্তিকে পেছনে ফেলে দেশগড়ার প্রত্যয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের “রূপকল্প-২০২১” বাস্তবায়নে প্রযুক্তি নির্ভর দক্ষ ছাত্রসমাজ তৈরিতে “বাংলাদেশ ছাত্রলীগ” কাজ করছে ও আজীবন করবে। এ দেশ “আদর্শ-চেতনার” দান এ দেশ “ছাত্রলীগের” দান “বঙ্গবন্ধু” আনিলো স্বাধীনতা বঙ্গকন্যা করিলো বিনির্মাণ সত্যি বঙ্গবন্ধু “বঙ্গকন্যা” “ছাত্রলীগ” মহান সুমহান “বাংলাদেশ ছাত্রলীগ” প্রাণ ফিরে পাক আদর্শ জাগাক হারাক সকল কপট মন্দ এ দেশ “বাংলাদেশ”—–নয় পাক/হিন্দ। তবুও পাশাপাশি থাক আওয়ামীলীগ, ছাত্রলীগ দু’দল আজন্মই অভিন্ন একই অনুভূতির সন্তান। ভালো থেকো “বাংলাদেশ আ’লীগ” ভালো রেখো “বাংলাদেশ ছাত্রলীগ” দেশরত্নের হাতেই সুরক্ষিত থাক একই মায়ের সংগ্রামী দুটি সন্তান “জয় বাংলা-জয় বঙ্গবন্ধু”

সর্বশেষ
জনপ্রিয় খবর