শিরোনাম

বাংলাদেশিদের মানবতার বদলে এটাই কি রোহিঙ্গাদের আসল চেহারা?

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৫:৪০:১০ অপরাহ্ণ - ০৫ অক্টোবর ২০১৭ | ২১৫

গৃহিণী হাসিনা বেগম। থাকেন কক্সবাজার শহরের রুমালিয়ার ছড়ার এক ভাড়া বাসায়।

সেদিন বিকাল বেলা! কোন কথা ছাড়াই বাসায় জোরপূর্বক ডুকে পড়ে এক দল রোহিঙ্গা! সংখ্যায় তারা ৩৪ জন মাত্র। গৃহিণী হাসিনা ৩৪ রোহিঙ্গাদের ক্ষুদার্ত মনে করে ভালো রান্না করে পেট ভরে খেতে দেন, হাতে তুলে দেন কিছু পুরনো কাপড়। রোহিঙ্গারা হাসিনাকে এক পর্যায়ে জানিয়ে দিলেন তারা পুরনো কাপড় নিবেন না, আর বাড়ি থেকে চলে যেতে তারা আসেননি, বরং হাসিনাকে চলে যেতে হবে।

পরে চিৎকার করে মানুষ জমা করেন গৃহিণী হাসিনা। তারপরও রোহিঙ্গাদের মনে ভয় ধরেনি, রোহিঙ্গারা বলেন, ‘কক্সবাজর এখন আমাদের দেশ, এবার তোরা বিদায় নে। অনেক দিন ধরে তোরা কক্সবাজারে আছিস, এবার আর সুযোগ নেই, বর্মায়ারা সবাই এসে গেছে’। শেষে প্রশাসনের সহায়তায় তাদের সবাইকে জোর করে পুলিশি সাহায্য ট্রাকে করে উখিয়াতে পাঠানো হয়।

২৫ আগস্ট মিয়ানমারে শুরু হওয়া জাতিগত সহিংসতায় রোহিঙ্গারা যখন দেশ ত্যাগে বাধ্য হয় বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ শুরু করে তখন বাংলাদেশ তাদের জন্য খুলে দেয় সীমান্ত। আর বাংলাদেশের মানুষ যখন সব ভুলে গিয়ে মানবতার ইতিহাস রচনায় শামিল হতে ব্যস্ত, ঠিক তখনি রোহিঙ্গারা তাদের আসল রূপ দেখাতে এভাবেই মরিয়া।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কক্সবাজারে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটা বেশির ভাগ অপরাধ কর্মকাণ্ড ঘটে বার্মিজ নাগরিক রোহিঙ্গাদের দ্বারা, ইয়াবা ব্যবসায়ীদের তালিকাতেও তারা এক নাম্বারে আছে।

কক্সবাজারের মানুষের কাছে ঘূর্ণিঝড় কিংবা সুনামি হিসেবে মূর্তিমান রোহিঙ্গারা ইতিমধ্যে দালাল চক্রের হাত ধরে জেলা ছাড়িয়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছে। তাদের সাথে যোগাযোগ হচ্ছে আগে থেকে বসবাসরত স্বজনদের। আর তাদের হাত ধরেই অপরাধ জগতের হাতেখড়ি হচ্ছে নতুনদের।

বাংলাদেশে এখনো রোহিঙ্গাদের জন্য কর্মক্ষেত্রে বৈধতা নেই বলে তারা বিভিন্ন দালাল চক্রের মাধ্যমে জড়িয়ে যাচ্ছে অন্ধকার কর্মজগতে। তাদেরকে দেশিয় সুযোগ সন্ধানী কতিপয় দালালরা ব্যবহার করছে নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারে। তার প্রমাণ মেলে সম্প্রতি বিপুল পরিমাণ অস্ত্র গোলাবারুদসহ চকরিয়ার খুটাখালিতে মাছের ঘের থেকে র‍্যাব কর্তৃক আটক হওয়া তিনজন সন্ত্রাসী। তারা তিনজনই মিয়ানমারের রোহিঙ্গা।

শুধু দেশিয় দালাল কর্তৃক নয়, রোহিঙ্গারা নিজেরাই জড়িয়ে পড়ছে ছিনতাই, ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধে। সম্প্রতি কক্সবাজারের অন্যতম পর্যটন এরিয়া সুগন্ধা পয়েন্টে মোবাইল ছিন্তাইকালে জনতার হাতে ধরা পড়েছে দু’জন রোহিঙ্গা, তারা দু’জনে নতুন এসেছে। তাদেরকে এই কাজে নামিয়েছে তাদেরই স্বদেশি এক বড় ভাই।

এখানেই শেষ নয়, টেকনাফ ২৫ বছর আগে আসা এক রোহিঙ্গা হুজুর অভিযোগ করেছেন, তার পরিবার রোহিঙ্গাদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ, তিনি আর তার পরিবার টেকনাফে আর থাকতে চাননা।

ফিরোজ নামের আরেক কোরআনে হাফেজ রোহিঙ্গা জানিয়েছেন, তারা কিছু রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছিলেন, তিনদিন থাকার পর রাতে তার ভাইকে ছুরির আঘাত করে মোবাইল আর নগত অর্থ ছিনিয়ে নিয়ে গেছে নতুন আসা চারজন রোহিঙ্গা। ঘটনাটি ঘটে উখিয়ার কোট বাজারে। পর্যটন নগরী কক্সবাজারে একটু খোঁজ নিলেই এরকম আরো শত শত ঘটনার খবর পাওয়া যাবে যার সবই ঘটাচ্ছে নতুন পুরাতন রোহিঙ্গারা।

গত ২৮ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে হোয়াইক্যং কেরুনতলীতে নতুন করে গড়া উঠা রোহিঙ্গা বস্তিতে বোমাসহ পুলিশের হাতে আটক হয় মিয়ানমার রাখাইনের মংডু থানার ঢেকিবনিয়া গ্রামের জিয়াবুল হকের পুত্র রোহিঙ্গা যুবক শফিকুল ইসলাম (২৫)। হোয়াইক্যং কেরুনতলীতে নতুন করে গড়া উঠা রোহিঙ্গা বস্তিতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআই সোহেল মিয়ার নেতৃত্বে টহলদল একটি বোমাসহ রোহিঙ্গা যুবক শফিকুলকে আটক করে।

অন্যদিকে, কয়েকদিন আগে রোহিঙ্গারা হামলা চালিয়ে এক প্রবাসীকে আহত করেছে। ২৯ সেপ্টেম্বর জুমাবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে সি ব্লকের ১৫৩ নং রুমের মৃত নজির আহমদের ছেলে বাইল্যা মাঝি, তার ছেলে শওকত আলী, আয়াত উল্লাহ ও ফয়েজ মুরব্বীর নেতৃত্বে উত্তর লেদা এলাকার মৃত উলা মিয়ার পুত্র সৌদি প্রবাসী নুরুল আলমকে লোহার রড় দিয়ে পিটিয়ে আহত করে তারা।

স্থানীয়দের আশংকা দিন যত গড়াচ্ছে এরকম হাজারো অপরাধ ঘটাচ্ছে রোহিঙ্গারা। তাদের অনেক অপরাধ এখনো প্রকাশ হচ্ছেনা ইলেকট্রনিক মিডিয়ায়। অন্যদিকে মানবতার খাতিরে অনেক অপরাধী পার পেয়ে যাচ্ছে বলেও ধারণা করছে তারা। তাদের মতে, রোহিঙ্গা নামক শব্দটি সুনামি কিংবা সিডরের ন্যায় আকাশে জমা থাকা একগুচ্ছ কালো মেঘ। আর সেই মেঘেই একদিন যে কোন মুহূর্তে লণ্ডভণ্ড করে দেবে সাজানো ফুল আর মানব ফুলের বাগান।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রোহিঙ্গা প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মোজাম্মেল হক বলেন, ‘যেহেতু তাদের জন্য এদেশে বৈধ কোন কর্মক্ষেত্র সৃষ্টি হয়নি তাই তারা স্বাভাবিকভাবে অবৈধ কাজে জড়িয়ে পড়ছে’।

রোহিঙ্গা প্রতিরোধ কমিটির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোন পরিকল্পনা আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি আরো বলেন, ‘খুব শীঘ্রই আমরা কর্মসূচি ঘোষণা করতে যাচ্ছি। দেশের স্বার্থের জন্য সবকিছু করতে আমরা প্রস্তুত’।

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাইন উদ্দিন খান জানান, ‘রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন অপরাধ সম্পর্কে আমরা যথেষ্ট সজাগ রয়েছি। ইতিমধ্যে অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা ব্যবস্থা নেয়া শুরু করেছি। জনবল কম হওয়ায় কাজে একটু বেগ পেতে হচ্ছে’।

আশার কথা হচ্ছে, ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে সেনাবাহিনী দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে উখিয়া এবং টেকনাফে কিছুটা হলেও শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। এছাড়া জেলার বিভিন্ন পয়েন্টে চেক পোস্ট বসানোর ফলে রোহিঙ্গা ছড়িয়ে পড়া অনেকাংশে কমে গেছে। রোহিঙ্গা বস্তিসমূহে বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা সোর্স।

কক্সবাজার বাসীর আশংকা, রোহিঙ্গাদের নামের পাশের মানবতা নামক শব্দটি সরে যাচ্ছে তাদের কর্মকাণ্ডের কারণে। তাদের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড যেন স্থানীয়দের মানবতার বদলে বিবেকের আসামী না বানায় সেটাই এখন প্রশ্ন!

সর্বশেষ
জনপ্রিয় খবর