শিরোনাম

বলিউডে মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে বাংলাদেশি তারকা

সর্বশেষ আপডেটঃ ০২:৫৩:১১ পূর্বাহ্ণ - ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৭৪

জয়া আহসান কলকাতার সিনেমায় অভিনয় করে নিয়মিত পুরস্কিত হচ্ছেন। সেখানে হিসেব করলে, জয়া আহসান অন্যতম জনপ্রিয় নায়িকা। জয়াকে এক নামেই চেনে। শাকিব খানও কম যান না। তিনি টেক্কা দিয়ে লড়ছেন সুপারস্টার দেব- জিতদের সঙ্গে। কখনো তিনি তাদের ছাড়িয়ে যাচ্ছেন। অনেকে বলছে শাকিব খানের পারিশ্রমিক তাদের চেয়েও বেশি। কলকাতার সিনেমায় ইমরান, মিনাররা গান করছেন। সিনেমা জগতে এসব মানুষ মাত করলেও রিয়েলিটি শোতে চলছে অন্য ক্যারিশমা।

এবারের ক্যারিশমা: ভারতীয় টেলিভিশন চ্যানেল জি বাংলায় প্রচারিত ‘সারেগামাপা’ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের জয় যেন অবধারিত। এরই মধ্যে জাদুকরী কণ্ঠে উপমহাদেশের সঙ্গীতপ্রেমীদের মাত করেছেন বাংলাদেশের প্রতিযোগিরা। ১৫ সেপ্টেম্বর হৃদয় কাঁপানো শিস বাজিয়ে দুই বাংলার তারকা হয়েছেন জামালপুরের অবন্তী সিঁথি। বিচারকদের মধ্যে শ্রীকান্ত আচার্য, শান্তনু মৈত্র, কৌশিকী চক্রবর্তী, মোনালী ঠাকুর ও পণ্ডিত তন্ময় বোসসহ বাকিরা সিঁথির পরিবেশনা শেষে দাঁড়িয়ে যান। বিচারক পণ্ডিত তন্ময় বোস সিঁথিকে ‘শিস প্রিয়া’ উপাধিতে ভূষিত করেন। ‘শিস প্রিয়া জিন্দাবাদ’ বলেও উৎসাহিত করেন তরুণ এ শিল্পীকে। অসাধারণ পরিবেশনায় মুগ্ধ হয়েছেন দুই বাংলার দর্শক। সেই মুগ্ধতার রেশ ছড়িয়ে দিয়েছেন নিজেদের ফেসবুক দেয়ালে। বাংলাদেশের অনেক বিশিষ্ঠ সংগীতশিল্পী এর প্রশংসাও করেছেন। যেমন কুমার বিশ্বজিৎ জানালেন মুগ্ধতার কথা। বললেন, ‘এটা অনেকটা ওয়ানম্যান শোর মতো। একাই গান গাওয়া থেকে শুরু করে বাদ্যযন্ত্র বাজানো। এটা একটা বিরল প্রতিভা। সিঁথি গান করে, হুইসেল বাজায়, কাপ বাজায়। এ কারণেই দ্রুত সবার মনের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে। বেশ পরিচিতি পেয়েছে। গায়কি অনেক ভালো। আমার মনে হয় পরিচিতিটা কাজে লাগিয়ে পেশাদারিভাবে মৌলিক গান করতে হবে।’

অবন্তী সিঁথির রেশ কাটতে না কাটতেই ঢাকার ছেলে মাইনুল আহসান নোবেল তোলপাড় করেছেন মুগ্ধময় পরিবেশনায়।

গেল শনিবার রাতে বাংলাদেশের এ প্রতিযোগী গান গেয়ে ‘সারেগামাপা’ এর মঞ্চ কাঁপিয়েছেন। পেয়েছেন বিচারকদের কাছ থেকে গোল্ডেন গিটার। তার গাওয়া জেমসের কালজয়ী ‘বাবা’ গানটি এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রীতিমতো ‘ভাইরাল’।

গোপালগঞ্জের সন্তান নোবেল ছোটবেলা থেকেই গানের সঙ্গে মিতালি গড়েছেন। কোনো গুরুর কাছে শিক্ষা না নিলেও আগে বাংলালিংক নেক্সট টিউবার প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে সেরা ছয়ে এসেছিলেন তিনি। সে যাই হোক, তার মূল পরিচয় সে বাংলাদেশের তারুণ্য দীপ্ত ঝলঝলে এক প্রতিভা।

সিঁথি ও মাইনুল ইসলাম নোবেল ছাড়াও এবার সারেগামাপা’ য় বাংলাদেশ থেকে অংশ নিচ্ছেন মুগ্ধ তানজীম শরীফ, রোমানা ইতি, মেজবা বাপ্পী, আতিয়া আনিসা, মন্টি সিনহা।

জয়যাত্রা এবারই প্রথম নয়: ভারতের রিয়েলিটি শোয়ে বাংলাদেশিদের এই জয়যাত্রা এবারই প্রথম নয়। প্রায় প্রতিবছরই বাংলাদেশ থেকে প্রতিযোগিরা ভারতের গিয়ে তাক লাগাচ্ছেন। প্রায় প্রতিবছর কলকাতার জনপ্রিয় স্ট্যান্ড আপ কমেডি রিয়েলিটি শো ‘মীরাক্কেল আক্কেল চ্যালেঞ্জার’- এ অংশ নিচ্ছেন বাংলাদেশি পারফর্মাররা। শতশত প্রতিযোগীদের টপকে শীর্ষ স্থানে থাকছেন বাংলাদেশের প্রতিযোগী। মীরাক্কেলের মতো প্ল্যাটফর্মে বড় থেকে নিজেদের ঝালিয়ে নিয়েছেন বাংলাদেশের আবু হেনা রনি, ইশতিয়াক নাসের, আনোয়ারুল আলম সজল, জামিল হোসেন, আরমান, পাভেল, হৃদয়। এর মধ্যে অনেকেই এখন বাংলাদেশের শোবিজ অঙ্গনে ক্যারিয়ার গড়ছেন।

‘মীরাক্কেল আক্কেল চ্যালেঞ্জার’- বিজয়ীরা কেমন আছেন খোঁজ নেয়া হল:

আবু হেনা রনি

২০১১ সালের মীরাক্কেল আক্কেল চ্যালেঞ্জার ৬-এর চ্যাম্পিয়ন হন তিনি। এই অনুষ্ঠানের প্রথম ৪০টি পর্বে অংশ নিয়ে তার ২৫টিতে তিনি একক ও যৌথভাবে প্রথম স্থান অধিকার করেন। বর্তমানে তিনি নতুন কৌতুক অভিনেতা তৈরির পাশাপাশি বাংলাদেশে কৌতুকে আরও জনপ্রিয় করার লক্ষে ‘বুনো পায়রা’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন। তিনি বাংলাদেশ কমেডি ক্লাবের উদ্যোগে দেশের ৬৪ জেলায় ৬৪টি কমেডি ক্লাব তৈরি করেছেন এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা থানা পর্যায়েও পৌছে গেছে।

বর্তমানে ফিল্ম, নাটক ও অন্যান্য কাজ নিয়ে ব্যস্ত আছেন। বাংলাদেশে ‘স্বপ্ন যে তুই’ ও ‘পদ্মপাতা’ দুটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করছি। এছাড়া কলকাতায় পিযুষ সাহা পরিচালিত ‘তুই আমার রানি’ নামে একটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। টেলিভিশনেও নিয়মিত উপস্থাপনায় দেখা যায় তাকে।

সজল

ঢাকার ছেলে আনোয়ারুল আলম সজল ছিলেন ‘মীরাক্কেল-৬’সিজন ২০১১-১২ এর দ্বিতীয় রানার্স আপ। মীরাক্কেল থেকে ফিরে সজল ব্যস্ত হয় অভিনয়ে। তবে পুরোপুরি অভিনেতা হতে সজলের সময় লেগেছে প্রায় দু-বছর। ২০১৪ সালে গোলাম সোহরাব দুদুল পরিচালিত ‘হল্লাবাজি’ নাটকে অভিনয় করে সাড়া পায়। এরপর সজল হয়েছেন পুরোপুরি পেশাদার অভিনেতা। কাজ করেছেন সিনেমাতেও, সুযোগ পেলে দেশের বিভিন্ন স্থানে স্টেজ শো করেন। বর্তমানে রেডিও ক্যাপিটালে প্রগ্রাম প্রডিউসার হিসেবে আছেন।

জামিল

নোয়াখালীর ছেলে হিসেবে পরিচিত হলেও তার জন্ম ও বেড়ে ওঠা সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে। ‘মিরাক্কেল আক্কেল চ্যালেঞ্জার- ৬’ এর চূড়ান্ত পর্বের প্রতিযোগী ছিলেন তিনি। দেশে ফিরে জামিল এখন অভিনয়ে মনোযোগী। নিয়মিত নাটকে অভিনয় করছেন, আর দেশের বড় বড় কর্পোরেট শোতে অংশ নিয়ে মঞ্চ মাতাচ্ছেন। জামিল অভিনয় করেছেন ‘আয়নাবাজি’ ছবিতে। এছাড়া তার ‘রং ঢং’ নামের একটি ছবি রয়েছে মুক্তির অপেক্ষায়। তবে অভিনেতা পরিচিতি পেতে জামিলের প্রায় তিন বছর ঘাম ঝরাতে হয়েছে।

কমর উদ্দিন আরমান

মীরাক্কেল-৯ (২০১৫-২০১৬) এর আসরে দ্বিতীয় রানারআপ হয়েছিল কক্সবাজারের ছেলে কমর উদ্দিন আরমান। শুধু জোকস নয়, আরমান মীরাক্কেলের দর্শকদের মন জয় করেছিলেন তার গান দিয়ে। দেশে ফিরে মীরাক্কেলের তারকা খ্যাতি অন্যান্যরা অভিনেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেতে চাইলেও আরমান চাওয়াটা বেশ ব্যতিক্রম। তিনি গায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেতে চান। একটি গানের অ্যালবাম প্রকাশ করার জন্য কাজও শুরু করেছেন। আর দেশ-বিদেশে স্টেজ শো করে বেড়াচ্ছেন। তবে নাটকেও দেখা গেছে।

পাভেল

‘মীরাক্কেল’- এর নবম আসরে ফেসবুক ভোটে প্রথম কিন্তু চূড়ান্ত রায়ে দ্বিতীয় রানারআপ হয়েছিলেন সাইদুর রহমান পাভেল। জন্ম চাঁদপুরে হলেও পাভেল ঢাকার ছেলে হিসেবেই পরিচিত। মীরাক্কেলের মঞ্চ জয় করে পাভেল এখন উপস্থাপনা, স্টেজ শো ও টুকটাক অভিনয় করছেন। তবে তিনি নিজেকে কখনোই কমেডিয়ান হিসেবে পরিচিতি পেতে চাননা। পাভেলের মতে, তিনি একজন অভিনয় শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেতে চান।

হৃদয়

মীরাক্কেলের নবম আসরে চতুর্থ হয়েছিলেন এমদাদুল হক হৃদয়। তিনি ঢাকার ছেলে। মীরাক্কেল জয় করে হৃদয় এখন বাংলাদেশের টিভি চ্যানেলগুলোতে নিয়মিত উপস্থাপনা করছেন। রেডিওতেও কাজ করছেন।

‘ড্যান্স প্লাস’র সেরা আটে বাংলাদেশের হৃদি: স্টার প্লাসের জনপ্রিয় ড্যান্স রিয়েলিটি শো ‘ড্যান্স প্লাস’ সিজন থ্রিতে বাংলাদেশের হৃদি শেখ পারফর্ম করছেন। সবার মাঝে সাড়া ফেলে দিয়েছিলেন তিনি। হৃদির গ্রুপ ‘হাউজ অব সুরাজ’ পৌঁছেছিল টপ ৮-এ। এরই মধ্যে রিদি মিউজিক ভিডিওতে অংশ নিয়েছেন। সম্প্রতি নিজের কাজের চাহিদা ও তার অনুসারীদের জন্যই দেশে আলাদাভাবে নাচ শেখাচ্ছেন।

সর্বশেষ
জনপ্রিয় খবর