শিরোনাম

বঙ্গবন্ধুর খুনি রাশেদকে ফেরাতে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে যাচ্ছে সরকার

সর্বশেষ আপডেটঃ ১২:৩৬:২৫ পূর্বাহ্ণ - ১৪ আগস্ট ২০১৮ | ২৪

বঙ্গবন্ধুর অন্যতম খুনি রাশেদ চৌধুরীকে ফেরাতে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। আরেক খুনি নূর চৌধুরী কীভাবে কানাডায় বসবাস করছেন এ বিষয়ে তথ্য চেয়ে সে দেশের আদালতে যাওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নিল সরকার।

কানাডা মৃত্যুদণ্ডবিরোধী হওয়ায় নূর চৌধুরীকে ফেরানো নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তা থাকায় যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ড থাকায় রাশেদের বিষয়ে আশাবাদী সরকার। সোমবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এসব কথা জানান মন্ত্রী।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর খুনিদের মধ্যে যে দুইজনের কথা বলছেন তাদের মধ্যে একজন আমেরিকায় আছেন। তাকে ফিরিয়ে আনার আলাপ আলোচনা চলছে। এক্ষেত্রে আদালতের আশ্রয় নেব বলে আমরা ইতিমধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সেইভাবে কাজও এগুচ্ছে।’

নূর চৌধুরীকে ফেরানোর বিষয়ে অগ্রগতি কতটুকু-জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আলোচনা ও আইনগত পন্থাসহ বেশকিছু পন্থা অবলম্বন করছি। তাদের কাছে থেকে আমরা নেগেটিভ কোন সিদ্ধান্ত পাইনি। তারা আলোচনায় আগ্রহ দেখিয়েছেন। ফলে আমরা দুই দেশ সেদিকেই এগুচ্ছি।’

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে বিচার শুরু করে আওয়ামী লীগ। এরও ১৪ বছর পর ২০১০ সালের জানুয়ারিতে ফাঁসি কার্যকর হয় পাঁচ জনের।

উচ্চ আদালত ফাঁসির আদেশ দিয়েছিল মোট ১২ জনকে। দণ্ড কার্যকর হওয়া পাঁচ জন বাদে বাকিদের মধ্যে আজিজ পাশা মারা গেছেন বিদেশে। আর আবদুর রশিদ, মোসলেম উদ্দিন, শরীফুল হক ডালিম, রাশেদ চৌধুরী, নুর চৌধুরী এবং আবদুল মাজেদ পলাতক।

বঙ্গবন্ধুর পলাতক খুনিদেরকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের একটি বিশেষ টাস্কফোর্স রয়েছে। কিন্তু তারা বিশেষ কিছু করতে পারছে না। এমনকি সব খুনির অবস্থান সম্পর্কেও তথ্য নেই সরকারের কাছে।

১৫ আগস্ট আসলেই বঙ্গবন্ধুর পলাতক খুনিদের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। ২০১০ সালে পাঁচ খুনির ফাঁসি হলেও এখনও ছয় জনের দণ্ড কার্যকর করা যায়নি তাদেরকে বিদেশ থেকে ফিরিয়ে আনতে না পারায়।

এই খুনিদের মধ্যে নূর চৌধুরীর কানাডায় এবং রাশেদ চৌধুরীর যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের তথ্য আছে সরকারের কাছে। গত ৭ জুন নূর চৌধুরীর বিষয়ে কানাডার আদালতে আবেদন করে সরকার। কিন্তু এ বিষয়ে কোনো অগ্রগতি হয়নি।

খুনিদের ফিরিয়ে আনতে কত সময় লাগবে- জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমি কোনো সময় নির্ধারণ করে দেব না। আমি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু এটা খুব কঠিন হয়ে গেছে এখন।’

বঙ্গবন্ধুর বাকি চার খুনির অবস্থান জানতে পেরেছেন কি না, এমন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যদি এসব তথ্য প্রচার করে দেই তাহলে তাদের অবস্থান তারা পরিবর্তন করবে। সেক্ষেত্রে আমরা যে তথ্যের ভিত্তিতে এগুচ্ছি সেই তথ্যের ভিত্তি আর সঠিক থাকবে না। আমি মনে করি, যখন তাদেরকে পরিস্কারভাবে তাদেরকে টিলটডাউন করতে পারব তখনই আপনারা এ প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করলে ভাল হয়। এর বাইরে আমি এখন আর কিছু বলতে চাই না।’

সর্বশেষ
জনপ্রিয় খবর