শিরোনাম

বঙ্গবন্ধুর আদর্শের দুই সৈনিক ছাত্রলীগ থেকে মন্ত্রী ও এমপি

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৩:১২:১১ পূর্বাহ্ণ - ২২ জানুয়ারি ২০১৮ | ৭৬

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছাত্র থাকা অবস্থায় শুধু ছাত্র না সকলের অধিকারের কথাই ভাবতেন। বৃহত্তর ময়মনসিংহের বঙ্গবন্ধুর আদর্শের দুইজন সৈনিক এক জন বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এম,পি, আরেক জন বীর মুক্তিযোদ্ধা নাজিম উদ্দিন আহমেদ এমপি।

বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলা পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ ( বর্তমান বাংলাদেশ) এর সভাপতি নাজিম উদ্দিন আহমেদ ও সাধারন সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। এই মহান দায়িত্ব পাওয়ার পরথেকে দুইজন মিলে জামালপুর, টাংগাইল, শেরপুর, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ ও ময়মনসিংহ সদর এর সকল শিক্ষা প্রতিষ্টানে ছাত্রলীগ কে সংগঠিত করার জন্য কাজ করেন।

একের পর এক ভিবিন্ন স্কুল, কলেজ, থানা কমিটি করে করে সংগঠিত করতে থাকেন। যখনই বঙ্গবন্ধুর যে নির্দেশ আসে তা বাস্তবায়ন করার জন্য দিন /রাত ছাত্রলীগের কাজ করে। ১৯৭০ সালের দিকে দেশের অবস্তা খারাপ হতে থাকে। সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও রফিক উদ্দিন ভুইয়া’র সাথে পরামর্শে করে ছাত্রলীগ কে ময়মনসিংহ জেলাতে জাতিরজনকের ঘাটি হিসাবে রুপান্তরিত করতে থাকেন।

১৯৭১ সালের ৭ মার্চের জাতিরজনকের সেই ভাষনের পরই শুরু হয়ে যায় মুক্তিযুদ্ধ। জাতিরজনক এর নির্দেশ এসেছে যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে যাপিয়ে পরো পাকিস্তানী হায়েনার বিরুদ্ধ এ। ওই সময় দুই ছাত্রনেতা মুক্তিযোদ্ধে যাবেন তাই আগে ট্রেনিং করতে যেতে হবে ভারতে। যোদ্বে যাবেন তরুন এই ছাত্রলীগ নেতারা, পরামর্শ করছেন কি করা যায়, আর যোদ্বে যাওয়ার প্রস্তুতি চলছে একতালে। আওয়ামীলীগ এর সাথে পরামর্শ করে একমত হলেন মুক্তিযোদ্বে যাওয়ার আগে ময়মনসিংহ জেলায় পাকিস্তানী পতাকা আগুনদিয়ে পুড়াতে। যেমন কথা তেমন কাজ তারিখ নির্ধারন করা হলো পাকিস্তানী পতাকা আগুন দিয়ে পুড়ানোর।

আগের দিন ময়মনসিংহ শহরে মাইকিং করা হলো, আগামীকাল ময়মনসিংহ টাউন হল মাঠে পাকিস্তানী পতাকা পুড়ানো হবে। শহর জুড়ে কি এক ভুতরে পরিবেশ হয়ে গেলো। ময়মনসিংহ শহরে পাকিস্তানী সৈনিকরা টহল বৃদ্ধি করে দিলো, মানুষ আতংকিত হয়ে যাচ্ছে।
কে পরাবে পাকিস্তানী পতাকা ?
কে দিবে পাকিস্তানী পতাকায় আগুন ?
আর অন্য পাকবাহিনী ময়মনসিংহ টাউন হলকে গেরাও করে রেখেছে। পরের দিন সকাল থেকে কোন মানুষ যাচ্ছে না টাউন হলের দিকে শত শত পাকবাহিনী বন্দুক, মেশিনগান নিয়ে প্রস্তুুতি নিয়েছে। মাইকিং এর সময় অনুযায়ী ময়মনসিংহ জেলার আওয়ামীলীগ নেতারা আসতে থাকেন টাউনহলের দিকে।

এক এক করে টাউন হলে ছাত্রলীগ এর দায়িত্বে থাকা সভাপতি নাজিম উদ্দিন আহমেদ ও সাধারন সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ও টাউনহলে এসে হাজির হয়েছেন জীবন বাজী রেখে। একটি বুলেট তাদের জীবনযেতে পারে, জীবনের মায়া না করে বঙ্গবন্ধুর ঢাকে যোদ্বে নিজেদের জীবন দেওয়ায় প্রস্তুত তারা। এই শত শত পাকবাহিনীর বন্দুকের নলের সামনে তারা প্রস্তুতি নিচ্ছেন পতাকা পুড়াতে।

আওয়ামীলীগ নেতারা বক্তৃতা দিচ্ছেন পাকিস্তানীদের বিরুদ্ধ এ। প্রতিটি সেকেন্ড ছিলো তাদের বন্দুকের সামনে, কে এই পাকিস্তানী পতাকা পুড়বে। নাজিম উদ্দিন আহমেদ পাকিস্তানী পতাকা নামাতে থাকেন, সৈয়দ আশরাফ ও সহযোগীতা করছেন পতাকা নামাতে।

নাজিম উদ্দিন আহমেদ পাকিস্তানী পতাকা হাতে নিয়ে দাড়িয়ে আছে আর সৈয়দ আশরাফ পকেট থেকে লাইটার বেড় করেদেন। নাজিম উদ্দিন ভাই সকলকে তুয়াক্কা নাকরে আগুন জ্বালিয়ে দিলো পাকিস্তানী পতাকাতে, দাও দাও করে পুড়ছে পাকিস্তানী পতাকা।

নাজিম উদ্দিন আহমেদ এর পাশেই দাড়িয়ে সহযোগীতা করছেন আশরাফ ভাই। এই বুঝি গুলি করলো পাকবাহিনী, আর এই দুই ছাত্রলীগ নেতার মাথায় শুধু কাজ হলো পাকিস্তানী পতাকা পুড়ালেই হবে না, উত্তলন করতে হবে বাংলাদেশের মানচিত্র সহ পতাকা।

একদিকে পুড়ছে পাকিস্তানী পতাকা আর অন্য দিকে নাজিম ভাই আর আশরাফ ভাই উত্তলন করছেন বাংলাদেশের পতাকা।

ময়মনসিংহ জেলাতে এই প্রথম বাংলাদেশের পতাকা উত্তলন করা হলো টাউন হলের মাঠে। ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি – ” নাজিম উদ্দিন আহমেদ” ও ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক। – ” সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ” একটি ইতিহাসের নাম বলে আমি মনে করি। প্রকৃত দেশ প্রেম ছাড়া এই কাজটি কি করা সম্ভব ছিলো ? না, নিজের জীবনের চেয়ে দেশকে না ভালোবাসলে কোনদিনই সম্ভব না।

সেই ” সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ” এখন বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় মন্ত্রী ও বাংলাদেশের আওয়ামীলীগ দুইবারের সাধারন সম্পাদক এর দায়িত্ব পালন করেছেন।
সেই ” নাজিম উদ্দিন আহমেদ ” আজ ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুর উপজেলার সংসদসদস্য, সাবেক সাধারন সম্পাদক ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামীলীগ ও ময়মনসিংহ জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডেরের দুইবারের দায়িত্ব পালন করেছেন।

নাজিম উদ্দিন আহমেদ ও সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এর বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ময়মনসিংহ জেলা শাখার একজন কর্মী হয়ে আমিও নিজেকে ধন্য মনেকরি।
জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।

লেখক : কামরুজ্জামান কাওসার, ১৪৮ ময়মনসিংহ ৩ গৌরীপুর এ,পি,এস তরুন মজিব সৈনিক সাবেক ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের নেতা,  ময়মনসিংহ জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ কৃষিবিষয়ক সম্পাদক।

সর্বশেষ
জনপ্রিয় খবর