শিরোনাম

“বঙ্গকন্যা যা করেন তা বঙ্গবন্ধুর ন্যায় এই জাতির কল্যাণের জন্যেই করেন।”

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৩:১৩:২৯ পূর্বাহ্ণ - ২১ মে ২০১৭ | ২৪২

এই দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য আপা’র চেয়ে বেশি ভাবনা-চিন্তা করে এই দাবি যারা করেন বা নেত্রীর সমালোচনা করার দুঃসাহস দেখান তাদের নিয়ে মন্তব্য করার মতো রুচি আমার নাই। তবে যেভাবে নেত্রীকে বিশেষায়িত করছেন উনারা আর যে পরিমাণ হাহুতাশ শুরু করেছেন তাতে কিছু কথা না বললে হচ্ছে না।
অসাম্প্রদায়িকতাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে যারা নতুন ধারার সাম্প্রদায়িক আচরণ শুরু করেছেন তারা কতটা মনবতার পূজারী তা নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে আমার যথেষ্ট সন্দেহ আছে। এই দেশের জন্য আমার নেত্রী যে ত্যাগ করেছেন এবং জীবনঝুকির সর্বোচ্চ মাত্রায় যিনি প্রতিটা মুহূর্ত কাটান তাকে নিয়ে মন্তব্য করার আগে একশোবার চিন্তা করা উচিৎ।
ধর্মনিরপেক্ষতার নাম করে যারা শুধু টুপিওয়ালাদের বিরুদ্ধে খড়গ দাড় করাতে চাচ্ছেন তাদের কি ধর্মনিরপেক্ষতা’র সঠিক সঙগা জানা আছে। সেক্যুলারিজম সকল ধর্মের ক্ষেত্রে সমান অনুভূতির কথা বলে, তাহলে কি ইসলাম ধর্মের ক্ষেত্রে সেটার পাল্লা দুর্বল? মহামান্য আদালতকে ধর্মের বাইরে রাখাটাই কি আমাদের জন্যে শ্রেয় নয়? গ্রীক দেবীর মূর্তি হোক বা অন্য কোন ধর্মের প্রতীক হোক আদালত প্রাঙ্গণে নির্দিষ্ট কিছু না থাকাটা কি যুক্তিযুক্ত নয়? সকল বাঙ্গালীর জন্যে সম অধিকার নিশ্চিত করতে তা নিশ্চিত করা সরকারেরই দায়িত্ব।
মুক্তিযুদ্ধে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতির একটি ছিল সামাজিক সুবিচার। সেদিক থেকে দেখলে, এদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ মুসলিম। এই বিশাল অংশের ধর্মবিশ্বাসকে অকারণে আহত করে রাজনৈতিক কোন লাভ নেই। যারা আজ এসব কথা বলছেন তারা কি দায়িত্ব নিয়ে সরকারে থাকা রাজনৈতিক দলের হয়ে কখনো কি সন্ত্রাস ও মৌলবাদ কে পুঁজি করে যারা রাজনীতি করে তাদের বিরুদ্ধে বিপ্লবের ডাক দেবার মতো শক্তি বা সাহস প্রদর্শন করতে পেরেছেন? এই শক্তি বা সাহস শুধুমাত্র জননেত্রী শেখ হাসিনার দল বাংলাদেশ আওয়ামীলীগেরই রয়েছে।
অবশ্য এই হেফাজত যখন শাপলা চত্ত্বরে তান্ডব চালিয়ে পুরো দেশ অস্থিতিশীল করে তুলেছিলো তখন তাদের মোকাবিলা করেছিলো সরকারী বাহিনী আর সরকারদলের নেতাকর্মীরাই। ঠিক সেই সময়ে এই বিপ্লবীরা ঘরে বসে মোবাইল কিংবা ল্যাপটপের কিবোর্ডে অসাম্প্রদায়িক চেতনার আওয়াজ তুলে যুদ্ধ চালিয়েছিলো তারাই আবার পরবর্তীতে আলেম হত্যার ধুয়ো তুলে সরকারের বিরুদ্ধাচরণ করে বিচার দাবি করেছিলো। আজ যখন এদের কোন দাবি পরিস্থিতি বিবেচনায় ও রাষ্ট্রের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্মানুভূতি আর সুবিচারকে বিতর্কের উর্ধ্বে রাখার প্রয়াসে মূর্তি অপসারণে একাত্মতা পোষণ করে তখনো এই একই শ্রেণীর মানুষেরা ধর্মনিরপেক্ষতা ধ্বংসের আওয়াজ তুলে হায় হায় করে।
ধর্মনিরপেক্ষতার সঠিক প্রয়োগকরণ সম্পর্কে অবগত না হয়ে এই ধরণের হাহুতাশকারী সুনাগরিকেরা বাস্তবিক অর্থে কট্টর সরকারবিরোধী মনোভাব পোষণ করেন যা কিনা তাদের প্রতিটা পদক্ষেপেই দৃশ্যমান হয়ে উঠে। এদের মূল উদ্দেশ্য বরাবরই নির্দিষ্ট লক্ষ্যের দিকেই ধাবমান।
সব কথার শেষ কথা হচ্ছে স্বাধীনতার এতো বছর পরে ক্ষমতায় এসে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা যখন বাঙ্গালী জাতির ভাগ্য উন্নয়নে স্বচ্ছতার মধ্য দিয়ে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন তখনই নেত্রীর সিদ্ধান্তকে বিতর্কিত প্রমাণের চেষ্টা যারা করে যাচ্ছেন তাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য কোনভাবেই দেশ ও জাতির জন্যে কল্যাণকর হতে পারে না।
একটা কথা মনে রাখবেন, ৫ই মে হেফাজতের অযৌক্তিক দাবি না মানায় সহিংসতা ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম করেছিলো জননেত্রী শেখ হাসিনা কিন্তু জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে কোন রক্তপাত ছাড়াই তা দমন করেছিলেন। আজ হেফাজতের দাবি যৌক্তিক মনে হওয়ায় তার সাথে একমত প্রকাশ করেছেন। এর মানে এই না যে হেফাজতের কাছে দেশ ইজারা দিয়ে দিছেন। আবার যদি দেশের স্বার্থবিরোধী কোন দাবি হেফাজত উত্থাপন করে তাও নেত্রী মেনে নিবেন এমনটা ভাবার কোন অবকাশ নাই। একবার যেহেতু দমন করে দেখিয়েছেন সেহেতু প্রয়োজনে ঠান্ডা করতে সেই ফর্মুলা আবার প্রয়োগ করতে বঙ্গবন্ধুকন্যা পিছপা হবেন না। আর এসবকিছু যদি আপনাদের কাছে গ্রহণযোগ্য না হয়, যদি আস্থাহীনতা গাঢ় হয় তবে সর্বোচ্চ কিছু করেও আপনাদের আস্থা ফিরিয়ে আনার পরীক্ষা দেয়া মনে হয় না সমীচীন হবে। যারা সব বুঝেও সেকুলারিজম গেলো গেলো বলে আশঙ্কায় থাকবেন তাদের নিয়ে ভেবে উন্নয়নের যাত্রা ব্যাহত করার সময় আওয়ামীলীগের মনে হয় না আছে। যারা এই ‘অসাম্প্রদায়িকতা’ কে পণ্য হিসেবে ঝুলিতে করে বেচে পেট চালান তাদের জন্যে অবশ্য এটা অনেক বড় সুযোগ। এই শ্রেণীর দোকানদাররা বুঝে হোক আর না বুঝে হোক অধিক লাভের প্রত্যাশায় বিপ্লবাত্মক ঝড় তুলে বহির্বিশ্বের মোড়লদের কাছ থেকে কিছুটা সুদৃষ্টি কামনা করবেন এটা অবশ্য স্বাভাবিক। যদি এরকমটাই হয়ে থাকে তবে আপনাদের প্রতি শুভকামনা রইলো। মুনাফা বাগিয়ে নিন কিন্তু সরকারের উন্নয়নের পথে বাধা হয়ে দাড়াইয়েন না। চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি অসাম্প্রদায়িক চেতনা আমার নেত্রীর চেয়ে বেশি কেউ ধারণ করে না আর করবেও না।
আস্থা রাখুন বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার উপর। উন্নত ও সমৃদ্ধশালী দেশ গড়তে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র বিকল্প শুধু এবং শুধুমাত্রই আমাদের প্রিয় নেত্রী শেখ হাসিনা।।

লেখকঃ আশিকুল পাঠান সেতু।
সাংগঠনিক সম্পাদক,
বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।

সর্বশেষ
জনপ্রিয় খবর