শিরোনাম

প্রথম জাতিসংঘ ভাষণে যা যা বললেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৮:০০:০৫ অপরাহ্ণ - ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭ | ৫৯

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় ১৯ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার জাতিসংঘের ৭২তম সাধারণ পরিষদে তার প্রথম ভাষণ দিয়েছেন। সাম্প্রতিক বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের এ ভাষণের দিকে নজর ছিল সারা বিশ্বের। স্বভাবসুলব ভঙ্গিমায় ইরান, সিরিয়াসহ বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশের প্রতি তীব্র আক্রমনাত্মক মন্তব্য, উত্তর কোরিয়াকে পুরোপুরি ধ্বংস করার হুমকি, জাতিসংঘের সমালোচনা ও প্রশংসা ছিল ট্রাম্পের প্রথম ভাষণে।

ট্রাম্পের এ ভাষণ রাজনৈতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে। অনেকেই বিভিন্ন ইস্যুতে ট্রাম্পের শক্ত অবস্থানের প্রশংসা করেছেন। প্রশংসা এসেছে ট্রাম্পের বিরোধী রাজনীতিকদের কাছ থেকেও। তবে তার বক্তব্যের সমালোচনাও করেছেন অনেকে। বিশেষ করে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনকে উপহাস করে ‘রকেট ম্যান’ বলার নিন্দা করেছেন অনেক মার্কিন রাজনীতিক।

শুরুর কয়েক মিনিট বাদে ট্রাম্পের পুরো বক্তব্যই ছিল ঝাঁঝালো ও আক্রমনাত্মক। প্রায় ৪৯ মিনিটের বক্তব্যের শুরুর দিকে ট্রাম্প হ্যারিকেনে বিধ্বস্ত তার দেশের মানুষের দুর্দশার কথা উল্লেখ করেন। এরপরই ট্রাম্প তার বহুল উচ্চারিত একই সাথে বহুল সমালোচিত ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আমেরিকার মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে আমার প্রথম কর্তব্য হচ্ছে আমেরিকাকে সর্বাগ্রে রাখা, আমাদের মানুষের মান-মর্যাদা, অধিকার ও নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা।’ বিশ্বনেতাদের উদ্দেশ্যে ট্রাম্প বলেন, সবারই উচিত তার দেশকে সবচেয়ে বেশি প্রধান্য দেওয়া।

ট্রাম্প তার ভাষণে বেশ কিছু সময় ধরে ইরানের সমালোচনা করেন। ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান হিজবুল্লাহসহ অনেক জঙ্গিগোষ্ঠীকে পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে। ইরানকে ‘হত্যাকারী’ উল্লেখ করে মধ্যপ্রাচ্যে সন্ত্রাসবাদের জন্যও ইরানকে দায়ী করেন তিনি। এ সময় ৫০টি আরব ও মুসলিম দেশের নেতাদের সাথে সৌদি আরবে ট্রাম্প যে সম্মেলনটি করেছিলেন, তার উল্লেখ করেন।

ইরানের সমালোচনা করতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, গণতন্ত্রের আড়ালে ইরানে আসলে দুর্নীতিবাজ ও একনায়ক সরকার আছে। এ সরকার দেশটির সমৃদ্ধি ও সংস্কৃতি থেকে সরে গিয়ে দেশটিকে একটি অস্থির, ভঙ্গুর অর্থনীতি ও অচল দেশে পরিণত করছে। ইরানের ‘ভালো মানুষদের’ মতো আমরাও দেশটির পরিপূর্ণ সমৃদ্ধি চাই। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেন, কেউ যখন বিধ্বংসী কিছু তৈরি করে, তখন আমরা চুপ করে বসে থাকতে পারি না। ইরানের প্রতি এসব অস্ত্র নির্মাণ বন্ধের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প। ওবামার সময়ে ইরানের সাথে ছয় বিশ্বশক্তির যে পরমাণু চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, সেটিকে আমেরিকার জন্য ‘চূড়ান্ত বিব্রবতকর’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সমাজতান্ত্রিক দেশ কিউবা ও ভেনেজুয়েলার প্রতি তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেন ট্রাম্প। সমাজতন্ত্রকে ব্যর্থ ও নির্মম ব্যবস্থা বলে মন্তব্য করেন তিনি। সমাজতান্ত্রিক আদর্শে বিশ্বাসী ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সরাসরি সামলোচনা করে ট্রাম্প বলেন, ‘একনায়ক মাদুরো একটি সমৃদ্ধ দেশকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছেন। ভেনেজুয়েলার মানুষ না খেয়ে থাকছে, তাদের দেশ ভেঙে পড়ছে। তাদের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ধংসের দ্বারপ্রান্তে। এমন পরিস্থিতি সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য এবং আমেরিকা এসব শুধু বসে বসে পর্যবেক্ষণ করতে পারে না।’

ট্রাম্পের এই ইটের জবাবে পাটকেল ছুঁড়েছেন নিকোলাস মাদুরো। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে নিজের বক্তব্যে ট্রাম্পকে ‘নব্য হিটলার’ বলে উল্লেখ করেন তিনি। এছাড়া জবাব এসেছে মাদুরোর দেশ থেকেও। ট্রাম্পের বক্তব্যের পর ভেনেজুয়েলার পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘একজন কোটিপতি ব্যবসায়ীর কাছ থেকে সমাজতন্ত্রের সামলোচনা শুনে ভেনেজুয়েলা মোটেও অবাক হয়নি।’

বক্তব্যে নাম উল্লেখ না করলেও কিছু ‘দুষ্টু দেশের’ সমালোচনা করেছেন ট্রাম্প। তার দাবি অনুসারে এ দেশগুলোর নিজেদের প্রতিও কোনো সম্মান নেই, বিশ্বের প্রতিও কোনো সম্মান নেই। এরা সারা বিশ্বের জন্য বিপর্যয় তৈরি করেছে। এদের বিরুদ্ধে বাকি বিশ্বের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান ট্রাম্প।

ট্রাম্পের ভাষণের উল্লেখযোগ্য অংশ ছিল উত্তর কোরিয়া বিষয়ে তার অবস্থান। বিশ্ব নেতাদের সামনে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম মাথা ব্যথার কারণ হয়ে ওঠা দেশটি সম্পর্কে কড়া বার্তাই দিলেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, ‘রকেট ম্যান (উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনকে উপহাস করে) তার নিজের ও পুরো অঞ্চলের জন্য এক আত্মঘাতী মিশনে আছেন। আমেরিকার অনেক ক্ষমতা ও ধৈর্য্য আছে। কিন্তু আমরা যদি আমাদের জনগণ ও বন্ধুদের সুরক্ষা দিতে বাধ্য হই, তাহলে উত্তর কোরিয়াকে পুরোপুরি ধ্বংস করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না। সেটি করার জন্য আমেরিকা প্রস্তুত এবং পুরোপুরি সক্ষম। কিন্তু আশা করছি তার প্রয়োজন পড়বে না।’

বারবার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালানো সত্ত্বেও এখনও যেসব দেশ উত্তর কোরিয়ার সাথে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখে চলছে, তাদেরও একচোট সামলোচনা করেন  ট্রাম্প। আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র ও পরমাণু অস্ত্রের উচ্চাকাঙ্খা বাদ দেওয়ার আগ পর্যন্ত দেশটিকে একঘরে করে ফেলতে বিশ্ব নেতাদের আহবান জানান তিনি।

জাতিসংঘের সমালোচনাও উঠে আসে ট্রাম্পের বক্তব্যে। অতিরিক্ত আমলাতন্ত্রের কারণে প্রতিষ্ঠানটি যথাযথভাবে কাজ করতে পারছে না উল্লেখ করে জাতিসংঘকে আরও কার্যকর করতে আমলাতন্ত্রের বিলোপ দাবি করেছেন ট্রাম্প। বর্তমান মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের নেতৃত্বে জাতিসংঘ সে পথেই আছে বলে প্রশংসাও করেন ট্রাম্প। সিরিয়ায় আইএসের ছেড়ে যাওয়া অংশে জরুরি ত্রাণ সহায়তার জন্য ও বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে শরণার্থীদের প্রতি জাতিসংঘের উদ্যোগের প্রশংসা ঝরেছে ট্রাম্পের কণ্ঠে।

সিরিয়া ও ইরাকে আইএস এখন পরাজিত প্রায়। আইএসের বিরুদ্ধে এ বিজয় আমেরিকার জন্য অনেক লাভজনক বলে মন্তব্য কনে ট্রাম্প।

সর্বশেষ