শিরোনাম

প্রতারক প্রেমিকা আটক,প্রেমিক সেনাসদস্য ৮লাখ টাকার প্রতারণার স্বীকার !

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৪:০৫:৪৯ অপরাহ্ণ - ১১ মার্চ ২০১৮ | ১৬০

মোবাইলে প্রেমিকা আর সাক্ষাতে প্রেমিকার বড় বোনের অভিনয় করে এক সেনাসদস্যের স্বজনদের চাকরি দেয়ার কথা বলে আট লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে মিনারা খাতুন(৪০) নামে এক নারী। এ অভিযোগে গত বৃহস্পতিবার রাতে ওই নারীকে আটক করেছে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর থানা পুলিশ।

মিনারা ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার পাকাটি পূর্বপাড়া গ্রামের মো. শহীদুল্লাহর স্ত্রী। এ ঘটনায় প্রতরণার শিকার হোসেনপুর পৌরসভার হনুমানতলা গ্রামের হোসাইন আলীর ছেলে মো. এনামুল হক জুয়েল বাদী হয়ে হোসেনপুর থানায় একটি মামলা করেছেন।

জুয়েল বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সৈনিক পদে কর্মরত রয়েছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, ওই নারী প্রতারক চক্রের সদস্য। প্রেমের ফাঁদে ফেলে লোকজনের সঙ্গে প্রতারণা করাই তার পেশা।

পুলিশ ও অন্যান্য সূত্রে জানা গেছে, সেনা সদস্য এনামুল হক জুয়েলের সঙ্গে প্রায় চার বছর আগে ঘটনাচক্রে মোবাইল ফোনে পরিচয় হয় মিনারা খাতুনের। ফোনে তিনি নিজের নাম স্বর্ণা বলে পরিচয় দেন এবং ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রী বলে জানান। এভাবেই ফোনে কথা বলে বলে জুয়েলের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে কথিত স্বর্ণার। এক পর্যায়ে মিনারা(স্বর্ণা) তার প্রেমিক জুয়েলকে জানায়, তার এক ভাই জেলা প্রশাসক ও আরেক ভাই সচিবালয়ে বড় পদে চাকরি করেন। তাঁদের চাকরি দেওয়ার ক্ষমতাও রয়েছে।

ভালো একটি সুযোগ ভেবে বছরখানিক আগে জুয়েল তার ছোট বোন ইতি আক্তার ও মামাতো ভাই বুলবুলকে চাকরি দেওয়া যাবে কি-না জানতে চায়। মিনারা জানায়, দুজনকে চাকরি দিলে ১০ লাখ টাকা দিতে হবে। তার কথা মতো ডাচ-বাংলা ব্যাংকের ২৩১১৫১৪১৯২২ নম্বর হিসাবে ছয় লাখ টাকা জমা দেন জুয়েল। পরে স্বর্ণার বড় বোন সেজে মিনারা টাকা উঠানোর জন্য জুয়েলের বাড়ি থেকে তার এটিএম কার্ড নিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওই টাকা উঠিয়ে কার্ডটি ফেরত দেন। এর পর গত বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি জুয়েলের বাড়ি থেকে নগদ আরো দুই লাখ টাকা নিয়ে যান মিনারা। বাকি দুই লাখ টাকা চাকরি হওয়ার পর পরিশোধ করতে হবেও বলে জানিয়ে দেওয়া হয় সেনাসদস্য জুয়েলকে।

কিন্তু দীর্ঘদিনেও চাকরি না হওয়ায় জুয়েল ফোনে তার প্রেমিকা স্বর্ণার(ছদ্মনাম) কাছে টাকা ফেরত চান। তখন থেকেই শুরু হয় টালবাহানা। এক পর্যায়ে জুয়েল প্রতারণা শিকার হয়েছেন বলে বুঝতে পারেন। কয়েকদিন আগে জুয়েল তার প্রেমিকাকে ফোন করে জানান, তার এক ভাগ্নের একটি চাকরি দরকার, কোনো সুযোগ আছে কি-না। প্রেমিকা তাকে জানায়, ফায়ার সার্ভিসে লোক নিচ্ছে, সেখানে ব্যবস্থা করে দেওয়া যাবে। এজন্য চার লাখ টাকা লাগবে।

সেনাসদস্য জুয়েল জানান, তিনি স্বর্ণাকে বিশ^াস করেছিলেন। এ জন্যই আট লাখ টাকা তাকে দেওয়া হয়। কিন্তু স্বর্ণাই যে বড় বোন নাদিরা সেজে তার কাছ থেকে টাকা নিয়েছে, সেটি বুঝতে তার অনেক দেরি হয়ে যায়। পরে চার লাখ টাকা নিতে স্বর্ণাকে ফোন করেন তিনি। যথারীতি বড় বোন নাদিরা সেজে স্বর্ণা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় টাকা নিতে আসে তার বাসায়। এ সময় তাকে আটক করে পুলিশে দেওয়া হয়।

হোসেনপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরাফাতুল ইসলামের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, কয়েকদিন আগে সেনাসদস্য জুয়েল পুরো বিষয়টি পুলিশকে জানিয়ে সহযোগিতা চান। আমরা তাঁকে এ ধরণের একটি ফাঁদ পাতার পরামর্শ দিই। নাদিরা ওই ফাঁদে ধরা দেয় এবং তাকে আটক করে পুলিশ। তিনি জনান, জিজ্ঞাসাবাদে নাদিরা চাকরি দেওয়ার নামে জুয়েলের সঙ্গে প্রতারণা করে আট লাখ টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেছে। তাছাড়া স্বর্ণা সেজে ফোনে সেনাসদস্যের সঙ্গে প্রেম করার কথাও স্বীকার করেছেন ওই মধ্যবয়স্ক নারী।

এ ঘটনায় আর কে কে জড়িত রয়েছে? এমন প্রশ্নের উত্তরে এ পুলিশ কর্মকর্তা জানান, তদন্তের স্বার্থে আপতত ওই নামগুলো জানানো যাচ্ছে না। তবে এরা সংঘবদ্ধ একটি প্রতারক চক্রের সদস্য। দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের ফাঁদে ফেলে মানুষের সঙ্গে এভাবেই প্রতারণা করে আসছিল।

সর্বশেষ