শিরোনাম

পরিবেশ দূষণই টেকসই উন্নয়নের পথে বড় বাধা।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৯:৪১:২৯ অপরাহ্ণ - ১০ ডিসেম্বর ২০১৭ | ৪৯

বায়ু দুষণের কারণেই বাংলাদেশ প্রতি বছর এক শতাংশ পরিমাণ মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি হারায় বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটি বলছে, সব ধরনের দুষণ পরিবেশে যে ক্ষতি করে, তা টেকসই উন্নয়নের পথে এখন বড় বাধা।
আজ রবিবার সকালে রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁয় বিশ্ব ব্যাংকের উদ্যোগে ‘বাংলাদেশের পরিবেশগত সমীক্ষা’র প্রাথমিক খসড়া প্রতিবেদনের ওপর আলোচনায় এসব কথা বলা হয়। সমীক্ষাটি আগামী বছরের প্রথম দিকে প্রকাশিত হবে।
আলোচনায় বিশ্বব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. জাহিদ হোসেন বলেন, ‘যখন প্রবৃদ্ধি পরিবেশের ক্ষতি করে অর্জিত হয়, তখন তা টেকসই হয় না। বাংলাদেশের শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি টেকসই করতে হলে পরিবেশ দূষণের ইস্যুটি উপেক্ষা করা যাবে না। পরিবেশ দূষণ রোধে এখনই কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন করতে হবে।
সমীক্ষার প্রাথমিক খসড়ায় বলা হয়, বাংলাদেশে বায়ু দূষণের ফলে প্রতি বছর মোট ডিডিপির এক শতাংশ হ্রাস পাচ্ছে। নন-কমপ্লায়ান্ট শিল্প ও অপর্যাপ্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ ও অঝুঁকিপূর্ণ উপকরণের ফলে নগরের বাতাস এবং ভূপৃষ্ঠস্থ পানি দূষণ হচ্ছে। এক টন সুতায় রং ও ফিনিশিং করতে ২০০ মেট্রিক টন দুষিত পানি নদী বা খালে গিয়ে পড়ে। যা রাজধানীর আশপাশের এলাকার দরিদ্র মানুষের মারাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যার সৃষ্টি করছে।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, ‘পরিবেশ সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির দিক নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়নে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ। কিন্তু মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে প্রায়ই সমন্বয়হীনতা দেখি আমরা, যা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।’
পরিবেশের ক্ষতি করে যে প্রবৃদ্ধি আসে, তা টেকসই হয় না উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সে কারণে পরিবেশ বান্ধব উন্নয়নের দিকে নজর দিতে হবে। দুষণ কমিয়ে আনার চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।
আনোয়ার হোসেন মঞ্জু আরো বলেন, ‘পরিসংখ্যান অনুযায়ী পরিবেশ দুষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আমাদের জিডিপির ৪ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে দুর্নীতির কারণে ক্ষতি হচ্ছে জিডিপির ৩ শতাংশ। সব মিলিয়ে বছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হচ্ছে ৭ শতাংশ। তাই এটা অবশ্যই উদ্বেগের।
অপরিকল্পিত উন্নয়নের কারণে অবাধ দূষণ ছোট-বড় দুই ধরনের শহরকেই প্রভাবিত করছে উল্লেখ করে সমীক্ষায় বলা হয় ঢাকায় ছয় লাখ বাসিন্দা সীসা দূষণের শিকার হচ্ছে, যার ফলে বিশেষ করে শিশুদের আইকিউ নষ্ট হতে পারে এবং তাদের মস্তিষ্কের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।

সর্বশেষ
জনপ্রিয় খবর