শিরোনাম

নিরবতার রাজ্য ত্রিশালের সাহিত্যিক আবুল মনসুর আহমদ বাড়ি।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০১:৩১:২১ অপরাহ্ণ - ১৮ জুলাই ২০২০ | ১০

শামিম ইশতিয়াক, ত্রিশালঃ

ত্রিশালের কৃতি সন্তানের মাঝে একজন হলো সফল সাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক আবুল মনসুর আহমদ, আবুল মনসুর আহমদের জন্মস্থান ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার ধানিখোলা গ্রামে, কাদামাখা গ্রামে শৈশব কাটানো এই গুনী ব্যক্তির গ্রামের বাড়িটি বর্তমানে এখন এক অন্যতম দর্শনীয় স্থান, পিচঢালা আর মাটির রাস্তার সংমিশ্রণের ধানিখোলায় গড়ে উঠেছে তার স্মৃতিবিজরিত এমপি বাড়ি হিসেবে পরিচিত এক নিরবতার রাজ্য ।

ধানিখোলা বাজার হতে সামনে গেলেই চরকুমাড়িয়া স্থানে অবস্থিত আবুল মনসুর আহমদের বাড়িটি, এখানে গেলে প্রথমেই আপনার চোখে পড়বে স্বচ্ছ জলের পুকুরপাড়ে হরেকরকম ফুল গাছ ও লতাপাতার বেষ্টনীর বাংলো, দুইতলা বিশিষ্ট এই বাংলোটিতে চোখে মিলবে নানান কারুকার্য খচিত সুনিপুণ কারুকার্য, অজান্তেই হয়ত আপনার মনে উকি দিবে শৌখিনতার ছোঁয়া, বাংলোর সামনের বারান্দার সামনেই পুকুরের জলে ভাসমান মাছের খাবি খাওয়া আপনার নজর কখনোই এড়াবেনা, বারান্দার রেলিং ঘেষা ফুলের গাছ আপনাকে দিকে সবুজের ছোয়া।

বাংলোর ডানপাশে সিড়ি দিয়ে উপরে উঠে গেলে আপনি সোজা চলে যাবেন ছাদে, গনিতের খাতায় চৌবাচার অংশ কষে থাকলে আপনি দেখতে পাবেন একটি চৌবাচা, সাদের চারপাশটা জুড়ে দেখা মিলবে হরেক রকমের ফুলগাছ, ছাদের ঠিক মাঝখানে ফাকা স্থানে বসে উপরে তাকালে দেখতে পাবেন পরিস্কার কিংবা মেঘাচ্ছন্ন আকাশ যা আপনার মনকে কিছুক্ষণের জন্য হলেও আকাশের মত বিশালতায় নিয়ে যাবে।

বাংলো হতে বের হয়ে বাইরে গেলে চোখে পরবে স্বচ্ছ জলের পুকুড়ে কংক্রিটের ঘাট, স্বচ্ছ ও ঠান্ডা জলে হাত ডুবিয়ে নিলে আপনি পাবেন শিতলতার পরশ, দূর থেকে জার্নি করে এলে পুকুরের জলে ভেজাতে পারেন গা, ডুব সাতারে কিছুক্ষণের জন্যে হলেও হারাতে পারেন প্রাকৃতিক এয়ার কন্ডিশনে।

পুকুর পাড় হয়ে বা দিকে গেলে আপনি দেখবেন মূল আকর্ষণ, আমগাছে কাঠ টিনের একটি বাড়ি, আপনি চা প্রেমিক হয়ে থাকলে এই সময় আপনার চায়ের তৃষ্ণা আসবেই, ইচ্ছে করবে বৃক্ষগৃহে পা দুলিয়ে চায়ের কাপে চুমুক দিতে, তবে আপনাকে একটু কষ্ট করতে হবে, গাছ বেয়ে উঠতে হবে ঘরে, উঠার জন্য সিড়ি পাবেন না, তবে হ্যা অবশ্যই কেয়ারটেকারের অনুমতি নিয়েই গাছে উঠবেন, অন্যথায় নিজকতৃক ফলাতে গাছে উঠবেন না, হিতে বিপরীত হতে পারে।

বৃক্ষগৃহ দেখার পরে আপনার সামনে পরবে আবুল মনসুর আহমের বাস করা বাড়ি, যা স্থাপিত হয় ১৩৫৪ (বাংলা) সনে, এত সহ কিছুর পরেও আপনার সাথে সঙ্গ দিবে আরেকটা জিনিস তা হলো নিরবতা, লোকালয় ছাড়িয়ে কোলাহল মুক্ত স্থান যারা ভালোবাসেন তাদের জন্য জায়গাটিতে সময় কাটানো হবে সত্যিকার অর্থেই এক সফল ঝটিকা ভ্রমণ যাত্রা।

ত্রিশাল বাজারের ধানিখোলা রোড হতে অটো বা ভ্যানে আপনাকে যেতে হবে ধানিখোলা বাজারে, ভাড়া নিবে ২০টাকা, অথবা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশের বইলর মোড় থেকেও আপনি যেতে পারবে এক্ষেত্রে আপনাকে বইলর মোড় হতে যেতে হবে ধানিখোলা বাজারে, ধানিখোলা বাজার থেকে আপনাকে ভ্যানে যেতে হবে চরকুমাড়িয়ায় ভাড়া নিবে ১০টাকা, রাস্তার পাশেই মন্ত্রী বাড়ি বললে যে কেউ দেখিয়ে দিবে বাংলোটি।
ফিরে আসতে পারবেন একই পদ্ধতিতে।

এখানে ঘুরতে গেলে অবশ্যই সতর্ক থাকবেন পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে, সাজানোগুছানো স্থানটিতে ময়লা ফেলবেন না।

সর্বশেষ
জনপ্রিয় খবর