শিরোনাম

নদ-নদী বাঁচাতে সরকারের ১০০ বছরের ডেল্টা প্লান

সর্বশেষ আপডেটঃ ১০:৩৬:৪৩ অপরাহ্ণ - ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ | ৯২

দেশের নদ-নদী রক্ষায় সরকার শতবর্ষী ডেল্টা প্লান বাস্তবায়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এ শতবর্ষী ডেল্টা প্লান-২১০০ বাস্তবায়নে ২ হাজার ২৮০কোটি টাকা ব্যয়ে ৬৪ জেলার ৮৮টি নদী-ও ৩৫২টি খাল এবং ৮টি জলাশয় খনন প্রকল্পের কাজ দ্রুত করতে চায় সরকার। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম ইনকিলাবকে বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচনী ইশতিহারে ঘোষিত অনুযায়ী পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন পরিকল্পনা ডেল্টা প্লান-২১০০ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রাথমিকভাবে চিহিৃত ৫০টি প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ শুরু হচ্ছে। প্রকল্প গুলো হচ্ছে, পদ্মা, মেষনা, যমুনা ও কর্ণফুলীসহ দেশের প্রধান নদী গুলোর ক্যাপিটাল ড্রেজিংসহ বেসিনভিত্তিক ব্যবস্থাপনা,খনন ও উন্নয়ন এবং ভুমি পুনরুদ্ধার কাজ করা হবে।

পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব কবির বিন আনোয়ার ইনকিলাবকে বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশের জনগণের জীবন ও জীবিকার জন্য পানির চাহিদা পুরণ এবং টেকসই উন্নয়নে ৫ বছরের কর্মপরিকল্পনা পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জন্য আলাদা ভাবে নিয়েছে। এর জন্য শতবর্ষী ডেল্টা প্লান-২১০০ বাস্তবায়নে ২ হাজার ২৮০কোটি টাকা ব্যয়ে ৬৪ জেলার ৮৮টি নদী-ও ৩৫২টি খাল এবং ৮টি জলাশয় খনন প্রকল্পের কাজ করা হবে।’

পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে পানি সম্পদের সুষম ও সমন্বিত ব্যবস্থপনার মাধ্যমে জনগণের জীবন ও জীবিকার জন্য পানির চাহিদা পুরণ এবং টেকসই উন্নয়নে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ৫ বছরের কর্মপরিকল্পনা নিয়েছে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শতবর্ষী ডেল্টা প্লান-২১০০ অনুমোদন দিয়েছেন। ডেল্টা প্লানে ২০৩০ মেয়াদে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রাথমিকভাবে ৮০টি প্রকল্প অন্তভূক্ত রয়েছে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচনী ইশতিহারে ঘোষিত পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। ডেল্টা প্লান-২১০০ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রাথমিকভাবে চিহিৃত ৫০টি প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ শুরু হচ্ছে। প্রকল্প গুলো হচ্ছে, পদ্মা, মেষনা, যমুনা ও কর্ণফুলীসহ দেশের প্রধান নদী গুলোর ক্যাপিটাল ড্রেজিংসহ বেসিনভিত্তিক ব্যবস্থাপনা,খনন ও উন্নয়ন এবং ভুমি পুনরুদ্ধার কাজ।

ছোট নদী ও খাল বিলগুলো খনন প্রকল্প: এর মধ্যে প্রাথমিক জরিপের মধ্যেমে প্রায় ২হাজার ২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে দেশের ৬৪ জেলার ৮৮টি ছোট নদী , ৩৫২টি খাল এবং ৮টি জলাশয় খননের লক্ষ্যে গৃহীত প্রকল্পের পূর্ণ বাস্তবায়ন। এর ফলে প্রায় ১৮০০ কিলোমিটিার নৌ-পথ উম্মুক্ত হবে এবং ১ দশমিক ৩০ লাখ হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধার পাবে সাধারণ কৃষকরা।

মাঝারি নদী গুলো পুন:খননব এবং নদীগুলোর মোহনা ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে, বাঙালী –করতোয়া- হরাসাগর নদী সিস্টেম উন্নয়নের লক্ষ্যে ২ হাজার ৩৩৫কোটি প্রকল্পে ব্যয় করা হবে। এছাড়া ডেপা, করতোয়া নদীর সিস্টেমহস উত্তরাঞ্চলের ১৬টি নদী পুন:খননের আরো গতিশীল করা হবে। ড্রেজিং ও ড্রেজড ম্যাটেরিয়াল ব্যবস্থপনা নীতিমালা-২০১৮: ড্রেজিং ও ড্রেজড ম্যাটেরিয়াল ব্যবস্থপনার বিষয়ে একটি নীতিমালা চুড়ান্তকরণ। সারাদেশের জেলা প্রশাসকের নেতৃত্ব গঠিত জেলা পানি ব্যবস্থপনা কমিটি কার্যকর করে তোলা।

হাওর ও জলাভুমি উন্নয়ন: হাওর ও জলাভুমি উন্নয়ন সংক্রান্ত মাস্টার প্ল্যানের সফল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ও সংস্থার মধ্যে পারস্পরিক বোঝাড়ার ভিত্তিতে সমন্বিত প্রকল্প গ্রহণ।
উপকুলীয় এলাকায় অবস্থতি পোল্ডার গুলো উন্নয়নে ১১৮.০০ কোটি টাকা প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করা এবং বড় বড় প্রকল্প নতুন করে গ্রহণ করা।

জলাবদ্ধতা নিরশনে নিস্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্পে বলা হয়, নোয়াখলী,চট্টগ্রাম শহর.ঢাকা- নারায়ানগঞ্জ-ডেমরা (ডিএমডি) এর জলাবদ্ধতা দুরীকরণ সংক্রান্ত চলমান প্রকল্প গুলো দ্রুত শেষ করা এবং অন্যন্য অঞ্চলের জলাবদ্ধতার নিরসনের লক্ষ্যে নতুন নতুন প্রকল্প গ্রহণ করা।

সেচ প্রকল্প গুলোর পূর্নবাসন ও উন্নয়ন গুলোর মধ্যে রয়েছে, তিস্তা, গঙ্গা-কপোতাক্ষ চেস প্রকল্পগুলো। নদীর তীর সংক্ষেণ, নদীভাঙ্গন রোধ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প গুলো চলমান রয়েছে। সে গুলো দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রণালয়।

সর্বশেষ