শিরোনাম

ধর্ষণকারীরা কি ময়মনসিংহের নিষিদ্ধ পল্লী চিনে না.?

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৪:৫৮:২৯ পূর্বাহ্ণ - ১৬ এপ্রিল ২০১৯ | ১২০

মো. মেরাজ উদ্দিন বাপ্পী, ময়মনসিংহঃ দেশে কিছু একটা ঘটলেই আমরা নানা বিচার-বিশ্লেষণ করে পক্ষ নেই, প্রতিবাদেও মিশে থাকে সেই পক্ষপাতিত্বের নিক্তি। কোনো ঘটনার পক্ষ নিলে কেও মাইন্ড করবে না তো, এই ঘটনায় কাওকে ঘায়েল করা যাবে কি না, কাওকে সাইজ করা যাবে কি না ইত্যাদি নানান বিশ্লেষণ শেষে নিজেদের মাপে মিললেই আমরা বিপ্লবী হই। ঘটনার ন্যায্যতার বিবেচনা আসে পরে, সত্য-মিথ্যা আসে পরে।

বাংলাদেশের এই ডিজিটাল সময়ে সারােদেশর মত ময়মনসিংহে ধর্ষণের অভিযোগ বেশি না হলেও কম না। কেঁদে কেটে আমরা হয়ত ধর্ষন থামাতে পারবো না। তবে জারি রাখতে পারবো প্রতিবাদ। চেষ্টা করতে পারবো সুষ্ঠু বিচার, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক সাজা নিশ্চিত করার।

বাংলাদেশের একজন নাগরীক হিসাবে প্রতিটি নারী দের জন্য একটা নিরাপদ দেশ গড়ার দায়িত্ব অবশ্যই আছে আমাদের সবার।

গণমাধ্যম আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সরব হলেও আশ্চর্যজনক প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিভাগীয় নগরী ময়মনসিংহ জেলা শহরের ৪ নং ওয়ার্ড এর বাসিন্দা সাংবাদিক মো: কামাল।

সোমবার ১৫ এপ্রিল রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তিনি অভিন্ন কণ্ঠে ধর্ষণের প্রতিবাদ জানান।

সাংবাদিক মো: কামাল ধর্ষণকারীরদের উদ্বেশে লিখেছেন

আপনি কি ময়মনসিংহের নিষিদ্ধ পল্লী চিনেন না?

বন্ধুরা কিছু মনে করবেনা একটু খারাপ ভাষা লেখতে হলো আমার। গতকাল ময়মনসিংহের বিদ্যাগঞ্জে ছবির এই বৃদ্ধ লোকটি ৯ বছরের শিশুকে ধর্ষন করতে গিয়ে এলাকাবাসীর কাছে খেলেন ধরা।

র‌্যাব-১৪ গিয়ে জনতার হাত থেকে বৃদ্ধ ধর্ষককে উদ্ধার করে কোতোয়ালী থানায় করলেন হস্তান্তর। মামলার প্রস্তুুতি চলছে নিজের চোখে এই লোকটিকে দেখে হতবাক হয়ে গেলাম। দুটি কথা জিজ্ঞেস করলাম।

আপনি কি ময়মনসিংহের নিষিদ্ধ পল্লী চিনেন না? সেখানে প্রায় ৩০০ যৌনকর্মী আপনাদের মতো কমরে জোরওয়ালা ব্যাক্তিদের জন্য অপেক্ষায় থাকে এতো পারেন তাহালে ওখানে কেন যাননা লজ্জা করেনা ৯ বছরের নাতির মত ছোট মেয়েকে ধর্ষণ করতে ময়মনসিংহবাসীর কাছে প্রশ্ন?

জেলার বিভিন্ন স্থানে এভাবে যদি হয় ধর্ষন তাহলে নিষিদ্ধ পল্লী এই নগরীর প্রানকেন্দ্রে রেখে লাভ কি? তাহলে কি এটা বাংলা মদের আস্তানা? দিনরাত মদ খেয়ে মাতালরা অশ্লীল গালি গালাজ করে পথ ঘাটে কখনো আবার মেয়ে মানুষের গায়ে পরে এভাবেই প্রতিদিন চলছে রমেশ সেন রোডের পতিতা পল্লী নগর অভিবাবকদের প্রতি সুধী সমাজের ও সচেতন নাগরীকদের আকুল আবেদন এটাকে অন্য স্থানে স্থানন্তর করুন আর না হয় বন্ধ করে দিন। এই লজ্জা কোথায় রাখি নগরীর প্রানকেন্দ্রে এটা কি করে এখনো থাকে ?

বাংলাদেশে শিক্ষার্থীরা যত সহজে মাঠে নামতে পারেন, পেশাজীবীরা তত সহজে পারেন না। কিন্তু কোনো একটা ঘটনায় নৈতিক অবস্থানের গুরুত্বও কম নয়। ফেসবুকে সম্মিলিত প্রতিবাদেরও একটা প্রভাব আছে।

সাম্প্রতিক সময়ে অনেকগুলো ঘটনায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা গেছে, ফেসবুকে তোলপাড়ের কারণেই। ফেসবুকে তোলপাড়ের ঢেউ লাগে গণমাধ্যমেও। সব মিলিয়ে চাপ সৃষ্টি করতে পারলে ও সে চাপ বজায় রাখতে পারলেই ন্যায়বিচার সম্ভব।

তাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রতিবাদ জারি রাখতে হবে। কেউ রাজপথে নামবেন, কেউ ফেসবুকে প্রতিবাদ করবেন, কেউ গণমাধ্যমে লিখবেন, কেউ টক শো’তে বলবেন।

সব মিলিয়ে প্রতিবাদের ঢেউ তুলতে হবে। প্রতিবাদের সময় যেন ব্যক্তি, গোষ্ঠী, রাজনীতি, ধর্ম নয়; একমাত্র বিবেচ্য যেন হয় ঘটনার ন্যায্যতা। সব অন্যায়ের বিরুদ্ধেই যেন আমরা সবাই অভিন্ন কণ্ঠে প্রতিবাদ জানাই।

সর্বশেষ