শিরোনাম

দীর্ঘদিনের করোনায় বেকারত্ব বেড়েছে ,আয় কমেছে!

সর্বশেষ আপডেটঃ ১২:৪৪:২৮ অপরাহ্ণ - ১৬ জুলাই ২০২০ | ১৫

আমাদের দেশে প্রতি বছর শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা যে হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে, কর্মসংস্থান সে হারে সৃষ্টি হচ্ছে না। ধারনা করা হচ্ছে ২০-২১ অর্থ-বছরে দেশে আরও প্রায় ১৪ লাখ বেকার সৃষ্টি হবে। করোনা পাদুর্ভাবের কারণে এমনিতে পোশাক কারখানায় শ্রমিক ছাঁটাইয়ের হুংকার চলছে। বিদেশ থেকে কর্ম হারিয়ে যোগ দিবে আরও হাজার হাজার রেমিট্যান্স যোদ্ধা। সরকারের একার পক্ষে বেকারত্ব হ্রাস করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এজন্য প্রয়োজন সরকারি-বেসরকারী সকলের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা। ব্যক্তিগত উদ্যোগও ব্যাপকভাবে প্রাধান্য দিচ্ছে বর্তমান সরকার। আওয়ামী লীগ সরকার ব্যাপক প্রচষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে দেশে ক্রমবর্ধমান এই বেকার সমস্যা সমাধানের জন্য। ঠিকঠাকমত এগুচ্ছিল, ঠিক এই মূহুর্তে বিশ^ব্যাপী করোনাভাইরাসের প্রভাব দেশকে আরো থমকে দিয়েছে। আমরা পিছিয়ে পড়েছি অন্তত দশ বছর।
এদিকে করোনার কারণে বেসরকারি অনেক প্রতিষ্ঠান কর্মী হ্রাসের পরিকল্পনা ধীরে ধীরে বাস্তবায়ন করছে। ফলে দেশে চরমভাবে কর্মহীনতার পথে ধাবিত হচ্ছে। আই এল এ- আঞ্চলিক কর্মসংস্থান নিয়ে এক প্রতিবেদন পেশ করেছে তাতে বলা হয়েছে- এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের উচ্চশিক্ষিতদের মধ্যে বেকারত্বের হার সর্বাধিক। যেমন- ১ম পাকিস্তান ১৬.৮ শতাংশ, ২য় বাংলাদেশ ১০.৭ শতাংশ, ৩য় ভারত ৮.৪ শতাংশ, ৪র্থ শ্রীলঙ্কা ৭.৯ শতাংশ, ৫ম ব্রুনাই ৭.৫ শতাংশ, ৬ষ্ঠ ফিলিপাইন ৭.৫ শতাংশ, ৭ম ইরান ৭.৪ শতাংশ, ৮ম মঙ্গোলিয়া ৭.০ শতাংশ, ৯ম লাওস ৬.৯ শতাংশ এবং ১০ম ফিজি ৫.১ শতাংশ। এই সমীক্ষা থেকে আমরা খুব সহজেই ধারনা নিতে পারি বাংলাদেশে বেকারত্ব প্রবল আকারে দাড়িয়েছে।
এদিকে আবার বাংলাদেশের বেকারত্বকে ৩ ভাগে ভাগ করা যায়। যথা- প্রাথমিক শিক্ষার বেকারত্বের হার ৩.৫ শতাংশ, মাধ্যমিক পর্যায় ৮.০ শতাংশ, উচ্চ শিক্ষিতের মধ্যে বেকার ১০.৭ শতাংশ।
বাংলাদেশের তরুণ-তরুণীদের বড় একটি অংশ আবার নিস্ক্রিয়। তারা কোন রকমের শিক্ষায় যুক্ত নন, কোন প্রশিক্ষণ নিচ্ছে না, আবার কাজও খুঁজছে না। দেশে এমন তরুণ-তরুণীদের সংখ্যা ২৭.৪ শতাংশ। অপরদিকে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া অনেক শিক্ষার্থী টিউশনি করে নিজের খরচ চালায়। করোনায় দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় তারা পড়েছে বিপাকে। অনেকে আবার বাড়িতে চলে আসলেও তাদের মেছ ভাড়া দিতে হচ্ছে। ফলে এই পরিস্থিতিতে পড়ছে তারা বিপাকে। পড়ুয়াদের মধ্যে এদের সংখ্যাই বেশি। এরাও একশ্রেণীর বেকারত্বের মধ্যে পড়ে।
সরকারের এদের কথাও চিন্তা করা হবে। আবার যখন খুলবে তখন দেখা যাবে তারা আগের টিউশনি হারিয়ে ফেলছে। কারণ অনেক অভিভাবক হয় কর্মহীন হয়ে পড়ছে, না হয় অনেকের আয় কমে গেছে। অভিভাবকদের কর্মহীন বা আয় কমে গেলে টিউশনি করে যারা তাদের লেখা পড়ার খরছ চালাত- তারা বেকারত্বয়ের সম্মুখীন হচ্ছে। আবার যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার প্রায় শেষার্ধে এরাও নতুন করে বেকারের তালিকায় নাম লেখাবে। এক্ষেত্রে দুপক্ষই পড়ছে অদ্ভুদ সংকটে। অন্যদিকে করোনার কারণে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি না থাকাতে অনেকে সরকারি চাকরির বয়স হাঁড়াতে যাচ্ছে। এমতাবস্থায় সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে এরকম বেকারদের কর্মের সুযোগ সৃষ্টি করা দরকার। পরিবেশ -পরিস্থিতি, অর্থের জোগান,অভিজ্ঞতা ও ঝুঁকির মধ্যে না যেয়ে বেশির ভাগ তরুণ অন্যের তৈরীকৃত কর্মে নিজেকে নিয়োজিত করতে চায়।
তাই বেকার তরুণদের বেকারত্ব ঘোঁচানোর জন্য কিছু দেশপ্রেমিক বিত্তশালীরা যদি এগিয়ে এসে শিল্পকারখানা গড়ে তুলতে পারেন তবে আশা রাখি। এবারের ২০-২১ বাজেটেও বেকারদের কর্মসংস্থানের বিষয়টি বাংলাদেশের সরকারের সেই দুঃসাহসিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গৃহীত এক অভিযান! বেকারত্ব হ্রাস পাওয়া মানে দেশ এগিয়ে যাওয়া, জিডিপি বৃদ্ধি পাওয়া।এরই মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনারবাংলা গড়া যাবে।

-মো: রকিবুল ইসলাম রকিব

সর্বশেষ
জনপ্রিয় খবর