শিরোনাম

স্বাধীনতা যুদ্ধের ঘটনা

সর্বশেষ আপডেটঃ ১২:৩৭:৪৫ অপরাহ্ণ - ১৬ জুলাই ২০২০ | ৪৪

পাক হানাদার বাহিনী গফরগাঁও থেকে বর্তমান পাগলা থানার টাংগাব ইউনিয়নের বাশিয়া গ্রামে গিয়ে উপস্থিত হয়। ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে একটি প্রাইমারি স্কুলে উপস্থিত হয়ে থেমে যায়। পাশে একটু দূরে এক বাড়িতে ইদারা থেকে পানি তুলছিলো ১৮ বছর বয়সী সুন্দরী নামের একটি মেয়ে। কলাগাছের পাতা দিয়ে বেড়া দেওয়া ছিলো। পাতা শুকিয়ে যাওয়ায় দূর থেকে দেখা যায়।
চোখ পরলো পাক সেনা ও রাজাকারদের। ক্যাপ্টেনের ইশারায় ধরে নিয়ে আসা হলো সুন্দরী কে। সুন্দরী কাঁদছিলো রাজাকাররা সুন্দরীকে বোঝাচ্ছিলো আমাদের কাজ করো। তোমাকে ছেঁড়ে দেবো। সুন্দরী কাজ করতে আরম্ভ করলো। পাক সেনার ক্যাপ্টেনের আচরণে সুন্দরী থমকে যায় কিন্তু কিছু বলতে পারে না। সুন্দরী হানাদার দের পাক সেনাদের খাবারের আয়োজনে মন দেয়। ধীরে ধীরে সে নদের তীরের দিকে যেতে থাকে। ব্রহ্মপুত্র নদ ছিলো উন্মত্ত। নদে ¯্রােত ছিলো প্রচন্ড। এর মাঝেই দ্রæত ব্রহ্মপুত্রের বুকে ঝাঁপ দেয় সুন্দরী। গর্জে উঠে হানাদার দের রাইফেল স্টেনগান। সুন্দরীর দেহটা ক্ষতবিক্ষত হয়ে পানির উপরে উঠে আসে। লালে লাল হয়ে যায় পানি। সুন্দরীর শাড়ী টা রক্তাক্ত পানির উপর ভাসতে থাকে। একসময় সুন্দরী বিলিন হয়ে যায় তাকে আর দেখা যায় না। ছুটে আসে সুন্দরীর বাবা মা। নদের পার দিয়ে দৌড়াতে থাকে। অনেকেই বলে ব্রহ্মপুত্র আর কালিবানার নদীর সংযোগ স্থলে নামতে দেখেছে সুন্দরীর বাবা মা কে।
ডিসেম্বর মাস। দেশ স্বাধীন হয়। সুন্দরী শহীদ হয় কিন্তু তার বাবা মায়ের কোনো সংবাদ পাওয়া যায় নি। অনেকেই বলেন সুন্দরীর বাবা মার সলিল সমাধি হয়েছিলো।
আমি বলি সুন্দরীর মতো তারাও বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদ মাতা পিতা। শ্রদ্ধা তাদের সকলের প্রতি।
মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল
সাধারন সম্পাদক, ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগ

এ বিভাগের জনপ্রিয় খবর

সর্বশেষ
জনপ্রিয় খবর