শিরোনাম

জাতিকে স্বাধীনতাযুদ্ধে উদ্বুদ্ধ করার অবদানস্বরূপ আরও ৫৮ জন পেলেন মুক্তিযোদ্ধা খেতাব

সর্বশেষ আপডেটঃ ১০:৪৮:৪২ পূর্বাহ্ণ - ১২ জুলাই ২০১৭ | ১৭০

একাত্তরে বাঙালির মুক্তিযুদ্ধের সূচনায় শব্দ সৈনিকদের গড়ে তোলা স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র এ দেশের মুক্তিকামী মানুষকে নয় মাস প্রেরণা যুগিয়েছিলো। সেই অবদানের স্বীকৃতিতে এবার স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের ৫৮ জন “শব্দ সৈনিক” শিল্পীকে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে মুক্তিযোদ্ধা খেতাব দিলো বাংলাদেশ সরকার।

ন্যাশনাল ফ্রিডম ফাইটারস কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ১১ জুলাই ২০১৭ ইং তারিখে এ সংক্রান্ত একটি আদেশ জারি করেছে।

এর আগে গত বছরের ১৫ নভেম্বর ১০৮ জন শব্দ সৈনিককে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দিয়েছিলো বাংলাদেশ সরকার। এবার এই স্বীকৃতি দিয়ে ৫৮ জন শব্দ সৈনিককে মুক্তিযোদ্ধা খেতাব দিয়ে গেজেট প্রকাশ করল আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার।

খেতাবপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ব্যঙ্গাত্মক ও শ্লেষাত্মক মন্তব্যে ভরপুর অনুষ্ঠান “চরমপত্র”-এর উপস্থাপক এমআর আখতার মুকুল, ফকির আলমগীর, চিত্রপরিচালক এবং অভিনেতা সুভাষ দত্ত, সংগীতশিল্পী এবং তিমির নন্দী

গত ১২ মার্চ জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) ৪৪তম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মঙ্গলবার (১১ জুলাই) মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করে।

স্বীকৃতি পাওয়া অন্যদের মধ্যে রয়েছেন- চলচ্চিত্রকার জহুরুল হক, মুশতারি শফি, খন্দকার রাজু আহমেদ, কণ্ঠশিল্পীদের মধ্যে রয়েছেন মাহজাবিন বেগম (কুইন), আজহারুল ইসলাম, আবু নওশের, সারোয়ার জাহান (মৃত), রেজওয়ানুল হক (মৃত), হযরত আলী বয়াতি (মৃত), মঞ্জুশ্রী নিয়োগী, মৃণাল ভট্টাচার্য্য, প্রবাল চৌধুরী (মৃত), উমা খান, কল্যাণী ঘোষ, সুজিত রায়, গীতশ্রী চৌধুরী, এম কে কে সিদ্দিক, মোজাম্মেল হক, সাজেদা খাতুন, আমিরুল ইসলাম প্রধান, আবুল কালাম আজাদ, মোহাম্মদ নিয়াজ উদ্দিন, মোশাররফ হোসেন মশু, ধীরেন্দ্রনাথ নমদাস, শমসের আলী প্রধান (মৃত), মালা খুররম, শিবু রায়, শুক্লা ভদ্র, এনামুল হক, চিত্তরঞ্জন ভুইয়া, ফিরোজা চৌধুরী, যন্ত্রশিল্পী সুবল দত্ত (মৃত), মিলন ভট্টাচার্য্য, টেকিনিশিয়ান আমিনুর রহমান, অনুলিপিকার একরামুল হক চৌধুরী, মহিউদ্দিন আহমেদ, রেকর্ডিং সুপারভাইজার এএম শফিউর রহমান দুলু, যন্ত্রশিল্পী পরিতোষ কুমার সাহা, সুবল দত্ত (মৃত), হাজেন চন্দ্র পাহাড়ী (মৃত), আবু বকর সিদ্দিক প্রধান, অনুষ্ঠান সংগঠক মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ, মো. নজরুল ইসলাম (অনু ইসলাম), আ ম শারফুজ্জামান, ফয়েজ আহমদ (মৃত), তবলা বাদক সুব্রত সেনগুপ্ত, কথক ডা. দিলীপ কুমার ধর, সাব-এডিটর ম. মামুন, কবি নিরঞ্জন অধিকারী (সবুজ চক্রবর্তী), শাহ সালাউদ্দিন সাজ্জাদ (মৃত) প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে শব্দ সৈনিকেরা এই বেতার কেন্দ্রটির মাধ্যমে জাতিকে স্বাধীনতাযুদ্ধে উদ্বুদ্ধ করে ও অনুপ্রেরণা জোগান। এছাড়াও, সে সময় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে প্রতিবেশী ভারতে আশ্রয় নেওয়া শরণার্থীদের জন্যে আর্থিক সহযোগিতার ব্যবস্থা করেন।

১৯৭১ সালের ৩০ মার্চ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী চট্টগ্রামের কালুরঘাট সম্প্রচার কেন্দ্রে বোমা ফেলায় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সম্প্রচার ৩ এপ্রিল ভারতের ত্রিপুরা থেকে চলতে থাকে। এরপর, ২৫ মে ত্রিপুরা থেকে বেতার কেন্দ্রটি কলকাতায় স্থানান্তর করা হয়।

 

janatarpratidin.com / Md. Bappy / 12 July 2017

 

 

সর্বশেষ
জনপ্রিয় খবর