শিরোনাম

‘ছোটো ছেটো গুনাহ থেকেই বড় গুনাহের সৃষ্টি’

সর্বশেষ আপডেটঃ ১০:১৭:৫২ অপরাহ্ণ - ০২ এপ্রিল ২০১৯ | ৫২

আমরা সবাই জানি প্রতিদিন আমাদের গুনাহের অন্ত নেই। এখন এই গুনাহ তো একটু পরেই আরেকটা। কোনদিকের ফাঁকফোকর থেকে যে আমরা গুনাহগার হয়ে যাচ্ছি তার কোনো ইয়ত্তা খুঁজে পাওয়া আসলেই দুষ্কর। অনেকেই ভাবেন আমার এত এত গুনাহের মধ্যে একটা দুটা গুনাহ হতে বাঁচার চেষ্টা হয়তো আসলেই বৃথা। কি হবে এত এত পাপের ভীড়ে এই দু একটা গুনাহ বাঁচিয়ে?

আমি এক্ষেত্রে নারীদের কিছু বলতে চাই। নারীরা চাইলেই কিছু কিছু ছোট বিষয় অথচ বড় গুনাহ হতে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখতে পারেন একটু চেষ্টা করলেই। যেমন- ভ্রু না উঠানো, চুল ঢেকে চলা, সতর ঢেকে চলা, বাইরে পর্দা সহকারে বের হওয়া, সাজগোছ করে সবাই দেখে এমনভাবে বাইরে না যাওয়া, শরীরের গঠন বোঝা যায় এমন টাইট জামাকাপড় না পরা, ছেলেদের মতো জিন্স-শার্ট-প্যান্ট না পরা। এছাড়াও শব্দ হয় এমন নুপূর পরিধান না করা, সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য শরীরের লোম না তোলা, সেলফি তুলে গনমাধ্যমে না ছড়ানো ইত্যাদি।

এগুলো আমার মনে হয় না একটা নারীর পক্ষে মেনে চলা খুব বেশি কঠিন। আপনি বা আমি কেউই জানি না যে আল্লাহর রহমত কোনদিক দিয়ে আমাদের উপরে আসবে। আপনার আমার কোন কাজটিতে তিঁনি খুশি হয়ে যাবেন সেটা আমাদের সবারই অজানা। তাই আমরা গুটিকয়েক গুনাহ হতে যদি নিজেকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টটুকু অন্তত করি তাহলে দেখা যাবে ধীরে ধীরে আপনার মধ্যে গুনাহ করার আগে ভয় কাজ করবে। যেটা আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয়।

যখন আপনি জানেন একটা নারীর জন্য ১০ জন পুরুষ জাহান্নামী হবে। তাদের মধ্যে আপনার প্রিয় মানুষই আছে চারজন। তখন আমার মনে হয় তাদের নাজাতের কথা চিন্তা করে হলেও আপনার উচিত আরেকটু সাবধানে চলা।
এছাড়াও আপনি যদি জেনে থাকেন জাহান্নামীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যা হবে নারীদের। তাহলে আপনার মধ্যে সেই ভয়টাও কাজ করা উচিত এটা ভেবে যে- ‘আমার এহেন কাজকর্মের জন্য আমি নাজাত পাবো?’ আর যখনই এই চিন্তাটা আপনি মন থেকে করবেন, আপনি গুনাহের পথে হাটার আগেই ফিরে আসতে পারবেন।

ছোটো গুনাহকে কখনও ছোটো মনে করবেন না। বিন্দু বিন্দু পানি থেকে যেমন বড় মহাসাগরের সৃষ্টি হয়, তেমনি ছোটো ছেটো গুনাহ থেকেই বড় গুনাহের সৃষ্টি হয়। আসুন আমরা সকলেই চেষ্টা করি ছোটো কাজ তথা বড় গুনাহ হতে নিজেদের বাঁচিয়ে রাখার।

সংগ্রহীত

সর্বশেষ