শিরোনাম

চিকিৎসকের আত্মহত্যা : স্ত্রী মিতুর ৩ দিনের রিমান্ড

সর্বশেষ আপডেটঃ ১১:৩১:১৫ অপরাহ্ণ - ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ | ৯২

চট্টগ্রামে স্ত্রীর পরকীয়ার কারণে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে আত্মহত্যা করা চিকিৎসক মোস্তফা মোরশেদ আকাশের স্ত্রী তানজিলা হক চৌধুরী মিতুর তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

সোমবার (০৪ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রাম মহানগর আদালত শুনানি শেষে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে ডা. আকাশের মা বাদী হয়ে আকাশের স্ত্রী মিতুসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং আরো তিন/চারজনকে অজ্ঞাত আসামি করে আত্মহত্যার প্ররোচণার দায়ে মামলা দায়ের করেন।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (উত্তর) মো. মিজানুর রহমান মিতুর তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুরের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘তানজিলা হক চৌধুরী মিতুর সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে গত শনিবার আদালতে আবেদন জানানো হয়েছিল। সোমবার শুনানির নির্ধারিত দিনে শুনানি শেষে মিতুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।’

এই মামলায় মিতু ছাড়াও অন্যান্য আসামি হলেন- মিতুর মা শামীম শেলী (৪৯), বাবা আনিসুল হক চৌধুরী (৫৫), বোন সানজিলা হক চৌধুরী আলিশা (২১), মিতুর দুই ছেলে বন্ধু উত্তম প্যাটেল ও ডা. মাহবুবুল আলম (২৮)।

গত শুক্রবার ভোরে স্ত্রীর সাথে ঝগড়ার পর স্ত্রীকে বাবার হাতে তুলে দিয়ে নিজ শরীরে ইনজেকশন পুশ করে আত্মহত্যা করেন ডা. মোস্তফা মোরশেদ আকাশ। এর আগে আত্মহত্যার জন্য স্ত্রীর একাধিক পরকীয়ার সম্পর্কের কথা তুলে ধরে ফেসবুকে ছবিসহ স্ট্যাটাস দেন আকাশ। ঘটনার পর চট্টগ্রামে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। একই দিন রাতে নগরীর নন্দনকানন এলাকা থেকে মিতুকে গ্রেপ্তার করে চট্টগ্রাম নগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের সদস্যরা

উল্লেখ্য, গত কয়েক দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ গণমাধ্যমগুলোতে বেশ আলোচিত সংবাদ; স্ত্রীর পরকীয়ার জেরে স্বামীর আত্মহত্যা। দীর্ঘ ৯ বছর প্রেম, অতঃপর বিয়ে তবু কেন চিকিৎসক আকাশের এমন করুণ পরিণতি হলো, এ বিষয়ে নানা প্রশ্নে সরগরম সোশ্যাল মিডিয়া। সমাজে একজন চিকিৎসকের মূল্য অনেক। আর পারিবারিক দ্বন্দ্বে এভাবে একজন তরুণ চিকিৎসকের আত্মহনন মেনে নিতে পারছেন না কেউই।

সংবাদ মাধ্যমের খবর, স্ত্রী মিতুকে প্রচণ্ড ভালোবাসতেন আকাশ। যে কারণে একাধিক ছেলের সঙ্গে সম্পর্ক আছে জেনেও মিতুকে বিয়ে করেছিলেন আকাশ। সব ভুলে সংসার শুরু করেছিলেন তিনি। বিয়ের পরপরই জানতে পারেন, নিজের চারিত্রিক অবস্থান থেকে একটুও ফেরেননি মিতু। এটা জানার পরেও ৯ বছর চাপা ক্ষোভ, কষ্ট বয়ে বেড়াচ্ছিলেন আকাশ। অবশেষে এত কষ্টের বোঝা আর বইতে না পেরে গত বৃহস্পতিবার রাত ৫টার দিকে নিজের ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়ে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেন ডা. আকাশ। স্ট্যাটাসে তার আত্মহত্যার জন্য সম্পূর্ণরূপে দায়ী করেন স্ত্রী মিতুকে। পাশাপাশি শ্বশুর শাশুড়িকেও দায়ী করেন তিনি। এ খবর গণমাধ্যমে প্রকাশের পর অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, এই যাতনা কেন আকাশ নয়টি বছর বয়ে বেড়ালেন?

মিতুকে তালাক দিয়েই তো অন্যভাবে জীবন শুরু করতে পারতেন চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁও এলাকার এই চিকিৎসক।তখনই যে কথাটি উঠে আসে তাহলো সমাজে দেনমোহর নিয়মের অপব্যবহার। এ ঘটনায় সমাজ বিশ্লেষকদের মত, ধর্মীয় এই রীতির অপব্যবহারের বলি হয়েছেন আকাশ। বিশ্লেষকের এই মতের সঙ্গে মিলে যায় গ্রেপ্তারকৃত স্ত্রী তানজিলা হক চৌধুরী মিতুর স্বীকারোক্তি। আকাশের সঙ্গে সংসার করার তেমন কোনো ইচ্ছা ছিলনা তার।

গত বৃহস্পতিবার (৩১ জানুয়ারি) রাতে নগরীর নন্দনকানন এলাকায় মিতুকে তার খালাতো ভাইয়ের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে সিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট।পুলিশি জিজ্ঞাসায় মিতু জানান, পরিবারের চাপ আর স্বামীর প্রচণ্ড ভালোবাসায় অনেকটা করুণা করে আকাশকে ডিভোর্স দেননি তিনি।

এ বিষয়ে ডা. আকাশের এক আত্মীয় বলেন, ‘বিয়ের পর মিতুকে নিয়ে সুখে ছিল না আকাশ। আমেরিকার কৃষ্টি-কালচারে আসক্ত ছিল মিতু। বিয়ের পর মিতুর অবাধ মেলামেশা আকাশকে কুঁড়েকুঁড়ে খাচ্ছিল। তবু আকাশ মিতুকে ডিভোর্স দিতে পারছিল না। কারণ তার মাথার ওপর ছিল কাবিননামার ৩৫ লাখ টাকার চাপ।মিতুকে ডিভোর্স দিলে আইন অনুযায়ী কাবিনের এতো বড় পরিমাণের অর্থ পরিশোধ করতে হতো আকাশকে।

সেটা দিতে পারছিল না বলেই মিতুর বেপরোয়া স্বভাব চরিত্র এবং চালচলন বাধ্য হয়ে মুখ বুঝে মেনে নিয়েছিল আকাশ। এমনটাই জানালেন আকাশের ওই আত্মীয়। তিনি অভিযোগ করেন, আকাশের কাছ থেকে ডিভোর্স নিয়ে সেই ৩৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়াই ছিল মিতুর উদ্দেশ্য।

সর্বশেষ