শিরোনাম

চাল-ডালে স্বস্তি, বাড়ছে পেঁয়াজের দাম

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৮:২৪:১৩ অপরাহ্ণ - ০৫ মে ২০১৮ | ১৫৭

নিজস্ব প্রতিবেদক : চাল-ডালে স্বস্তি থাকলেও রমজান মাস সামনে রেখে পেঁয়াজের ঝাঁজ বেড়ে যাচ্ছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে ১০-১৫ টাকা দাম বেড়ে প্রতিকেজি দেশী পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪৫-৫০ টাকায়। যা এক সপ্তাহ আগেও ৩৫-৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। সাধারণ ভোক্তাদের কথা বিবেচনায় নিয়ে রোজা শুরুর আগে রবিবার থেকে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলার ১৮৪টি স্থানে ভ্রাম্যমাণ বিপণন কেন্দ্রে চিনি, মশুর ডাল, সয়াবিন তেল, ছোলা ও খেজুর বিক্রি করবে রাষ্ট্রীয় বিপণন সংস্থা টিসিবি। এর মধ্যে সয়াবিন তেল ৮৫ টাকা লিটারে, চিনি (দেশি) ৫৫ টাকা, ছোলা ৭০ টাকা, মশুর ডাল (মাঝারি সাইজ) ৫৫ টাকা ও খেজুর ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে এ তথ্য।
এদিকে, রমজান সামনে রেখে চাল-ডালসহ বেশিরভাগ ভোগ্যপণ্যের দাম স্বাভাবিক থাকলেও পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাচ্ছে। পেঁয়াজের সঙ্গে বেড়েছে রসুনের দাম। ব্রয়লার মুরগির ও মাছের বাজার চড়া। আমদানি ও দেশীয় উৎপাদন ভাল থাকার পরও পেঁয়াজের দাম বাড়ায় অস্বস্তি রয়েছে ভোক্তাদের। রোজার মাসে ইফতারির বিভিন্ন খাবারের পদ তৈরিতে ব্যবহার হবে এই পেঁয়াজ। এ কারণে বাড়তি চাহিদা রয়েছে পেঁয়াজের। এই চাহিদাকে পুঁজি করে এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেশনের কারণে মসলা জাতীয় এ পণ্যটির দাম বেড়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এখনই বাজার নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে রমজানে পেঁয়াজের দাম নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে বাজার করতে এসে পেঁয়াজের দাম নিয়ে অনেক ভোক্তা বিরক্তি প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, সারাবছর জুড়ে পেঁয়াজের বাজারে এক ধরনের অস্বস্তি জিইয়ে রাখা রয়েছে। দ্রুত পেঁয়াজের দাম স্বাভাবিক পর্যায়ে নামিয়ে আনার উদ্যোগ নেয়া হলে রোজায় বাজার ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের সঙ্কট তৈরি হতে পারে। খুচরা বাজারে প্রতিকেজি দেশী পেঁয়াজ ৪০-৫০, আমদানি ৩০-৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
রাজধানীর কারওয়ান বাজারে প্রতি পাল্লা (৫ কেজি) দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৯০ টাকা আর আমদানি করা পেঁয়াজ ১৪০ টাকা। সেই হিসাবে দেশি পেঁয়াজের কেজি ৩৮ টাকা আর আমদানি করা পেঁয়াজের কেজি পড়ছে ২৮ টাকা। তবে এই পেঁয়াজ খুচরা পর্যায়ে রাজধানীর অন্যান্য বাজারে প্রতিকেজি ৪৫-৫০ এবং ৩০-৩৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগে কারওয়ান বাজারে কেজিপ্রতি দেশি পেঁয়াজ ছিল ৩৪ টাকা এবং ভারতীয় পেঁয়াজ ছিল ২৫ টাকা।
এই বাজারের পেঁয়াজ বিক্রেতা জামশেদ হোসেন বলেন, মাঝখানে কিছুদিন দাম স্থিতিশীল ছিল। এখন মোকামে দাম বাড়তে শুরু করেছে। পেঁয়াজের পাশাপাশি আমদানি করা রসুনের দামও কেজিতে অন্তত ৩০ টাকা বেড়েছে। পাইকারি পর্যায়ে দাম বাড়ার কারণেই খুচরায় দাম বাড়তে শুরু করেছে বলে বিক্রেতারা জানিয়েছেন। তবে দেশি রসুন আগের মতোই প্রতিকেজি ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দুই সপ্তাহ আগে চীনা রসুন প্রতিকেজি ৮০ টাকা দরে বিক্রি হলেও গত সপ্তাহে তা বেড়ে গিয়ে ৯০ টাকায় বিক্রি হয়। চলতি সপ্তাহে চীনা রসুনের দাম প্রতিকেজি ১১০-১২০ টাকা। রসুনের মতো বিভিন্ন মানের আদার দামও গত দুই সপ্তাহে ৮০ টাকা থেকে বেড়ে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে, রমজান মাস সামনে রেখে এবার চাল, ডাল-ছোলা, ভোজ্যতেলসহ অন্যান্য নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রয়েছে বলে মুদি দোকানিরা জানিয়েছেন। তবে গত এক সপ্তাহে চিনির দাম কিছুটা বেড়েছে।
কাপ্তান বাজারের মুদি দোকানদার আবদুল গনি মিয়া বলেন, গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে চিনির দাম কেজিতে অন্তত ৪ টাকা বেড়ে এখন ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাড়া-মহল্লার দোকানে চিনি বিক্রি হচ্ছে এখন ৬০ টাকায়। এছাড়া বাজারে সবচেয়ে ভালো মানের ছোলা বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি ৭০-৮৫ টাকায়। এছাড়া মানভেদে ৬৪ টাকা ও ৬৫ টাকা দরেও ছোলা পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া খেসারি ডাল কেজিপ্রতি ৫৫ টাকা, ডাবলি ৩৮ টাকা, মসুর ডাল ৫৫ টাকা থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহের মতো বাড়তি দামে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে। তবে আগের মতো কিছুটা বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে শাক-সবজি। কমতে শুরু করেছে চালের দাম। মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৩৮-৪৪ টাকায়। এছাড়া জাতভেদে মিনিকেট ৬০-৬৪, নাজিরশাইল ৬০-৬৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
কারওয়ান বাজারে প্রতিকেজি পটল ৪০ টাকা, ঢেঁড়শ ২৫ টাকা, করল্লা ৪০ টাকা, কাঁচামরিচ ৬০ টাকা থেকে ৮০ টাকা, চিচিঙ্গা ৪০ থেকে ৫০ টাকা, ঝিঙা ৪০ টাকা, শসা ২৫ টাকা, বেগুন ৩৫ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সর্বশেষ