শিরোনাম

ঘুশুর ঘুশুর ফুশুর ফুশুর বন্ধ করুন-কর্মকর্তাদের সৈয়দ আশরাফ

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৩:৫২:১৭ পূর্বাহ্ণ - ২৮ এপ্রিল ২০১৮ | ১৬৩

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের ওপর প্রকাশ্যে ক্ষোভ ঝাড়লেন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের মাসিক সমন্বয় সভায় তিনি কর্মকর্তাদের কাজে গোপনীয়তার সংস্কৃতি পরিহার করে স্বচ্ছতা আনার নির্দেশ দেন। এ সময় তিনি ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেন, আমার নির্দেশনা কেন পড়ে আছে? তিনি জানতে চান, রুলস অব বিজনেস অনুযায়ী মন্ত্রীকে পাশ কাটিয়ে কোনো ফাইল যাওয়ার সুযোগ আছে কি-না। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে কোনো সারসংক্ষেপ দেওয়ার আগে খসড়া যেন তাকে দেখানো হয়, সে বিষয়েও নির্দেশনা দেন মন্ত্রী ।
তিনি বলেন, ঘুশুর ঘুশুর ফুশুর ফুশুর বন্ধ করতে হবে। এগুলো করে ফাইল অনুমোদন নেওয়া আর চলবে না। প্রত্যেক কর্মকর্তাকে সৃষ্টিশীল কাজের মাধ্যমে জনপ্রশাসনের সুনাম বাড়াতে হবে। বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পুনর্বণ্টন করতে দীর্ঘদিন আগে নির্দেশ দিলেও কেন বাস্তবায়ন করা হয়নি, তা জানতে চান সৈয়দ আশরাফ। কর্মকর্তাদের বদলি করা হলেও তারা কীভাবে আগের পদে থাকেন, তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। বৈঠকে মন্ত্রী তার দেওয়া ইও নোট বের করে বলেন, গত মাসে এটি তিনি দিয়েছিলেন। এখনও এর থেকে একটি নির্দেশনাও পালন করা হয়নি। এ সময় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী বলেন, এগুলো নিয়ে কাজ চলছে। কিছু নির্দেশনা পালন করা হয়েছে। বাকিগুলো পর্যায়ক্রমে হচ্ছে।
বৈঠকে পেনশন পেতে কর্মকর্তাদের ভোগান্তির বিষয়ে আলোচনা হয়। এ সময় জানতে চাওয়া হয়, পেনশনে কেন ভোগান্তি পেতে হচ্ছে। এ প্রশ্নের জবাবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বলেন, পেনশন নিয়ে এখন প্রায় ১০-১২টি মামলা আদালতে বিচারাধীন। এগুলোর সমাধান না হলে কিছু ক্ষেত্রে পেনশন দিতে জটিলতা হচ্ছে। শূন্য পদ নিয়েও দীর্ঘ আলোচনা হয় ওই সভায়। জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক বলেন, শূন্য পদ নিয়ে জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তরে অনেক সময় বিব্রত হতে হয়। এর সঠিক সংখ্যা নির্ণয় জরুরি। জবাবে সচিব বলেন, শূন্য পদের সঠিক সংখ্যা পাঠাতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তারা পাঠালে একটি সমন্বিত তালিকা তৈরি করা হবে। এ সময় তিনি তার মন্ত্রণালয়ের শূন্য পদের সংখ্যা তুলে ধরলে মন্ত্রী এগুলো দ্রুত বিজ্ঞপ্তি দিয়ে পূরণের নির্দেশ দেন।
বৈঠকে মুজিবনগর কর্মচারীদের নথির বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বলেন, নথি খোঁজার বিষয়ে একটি কমিটি করা হয়েছে। তারা কাজ করছেন। সভার কার্যবিবরণীতে এটি ভুলক্রমে চলে এসেছে। মন্ত্রী কার্যবিবরণী থেকে এটি বাদ দেওয়ার পরামর্শ দেন।
জানা গেছে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কাজে গতি আনতে গত ৩০ মার্চ সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবকে আনুষ্ঠানিক পত্র দেন। পত্রে তিনি উল্লেখ করেন, তার এ মন্ত্রণালয়ে যোগ দেওয়ার পর প্রজাতন্ত্রের বিভিন্ন স্তরের কর্মচারীরা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকান্ডে অস্বচ্ছতার অভিযোগ এনে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বিশেষত নিয়োগ-বদলি আর পদোন্নতিকে ঘিরে এই ক্ষোভ এবং অস্বচ্ছতার অভিযোগ করা হয়। মন্ত্রী তার পত্রে উল্লেখ করেছেন, একই অভিযোগ অনেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যও করছেন। মন্ত্রী জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে অধিকতর স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, গতিশীলতা বৃদ্ধি এবং কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনের সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টি ও তা বজায় রাখতে ছয় দফা নির্দেশনা দেন সিনিয়র সচিবকে। এগুলো হচ্ছে_ প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তারা স্বতঃস্ফূর্ত এবং স্বপ্রণোদিত হয়ে যাতে নিজ দায়িত্ব পালন করতে পারেন সেরূপ কর্মসহায়ক পরিবেশ তৈরি; মন্ত্রণালয়ের কর্মকান্ডের মাধ্যমে সরকারের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করা ও তা সমুন্নত রাখা; মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের জন্য তার দেওয়া ১১ জানুয়ারি ও ২৬ জানুয়ারির নির্দেশনা বাস্তবায়নে করণীয় সম্পর্কিত প্রস্তাবের নথি মন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন; মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাদের মধ্যে কর্তৃত্ব ভাগ করে দেওয়ার জন্য ক্ষমতা হস্তান্তর যুগোপযোগী করার জন্য প্রস্তাবসহ নথি উপস্থাপন; রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে সারসংক্ষেপ পাঠানোর আগে জনগুরুত্বপূর্ণ এবং জরুরি বিষয় হলে তা আলোচনা বা অবহিত করা এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে নথিতে খসড়া উপস্থাপন করে তাতে মন্ত্রীর অনুমোদন নেওয়া।
এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে পদোন্নতির ক্ষেত্রে বাদ পড়া সব কর্মকর্তার তালিকা প্রস্তুত করে প্রত্যেক কর্মকর্তার বিপরীতে পদোন্নতির যোগ্যতা ও অযোগ্যতার বিষয়ে এসএসবির সুস্পষ্ট মতামত বা মন্তব্যসহ আগামী ৩০ এপ্রিলের মধ্যে নথির মাধ্যমে মন্ত্রীর কাছে খসড়া উপস্থাপন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। এ নির্দেশনাগুলোর কোনোটি এ পর্যন্ত বাস্তবায়ন হয়েছে কি-না, তা মন্ত্রী সভায় জানতে চান।
সভার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী সমকালকে বলেন, এটি নিয়মিত সভা। এখানে মন্ত্রণালয় ও এর অধীনের অফিসের কাজকর্মের বিষয়ে পর্যালোচনা করা হয়। এখানে যেসব দিকনির্দেশনা আসে, সেগুলো বাস্তবায়ন করা হয়।

সর্বশেষ
জনপ্রিয় খবর