শিরোনাম

কিশোরগঞ্জ-১ঃ আসনে সৈয়দ আশরাফকেই নৌকার প্রার্থী করছেন শেখ হাসিনা

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৯:৪৫:২৫ অপরাহ্ণ - ১১ নভেম্বর ২০১৮ | ৩৮৯

স্বাস্থ্যগত অবস্থা যাই হোক কিশোরগঞ্জ-১ (কিশোরগঞ্জ সদর-হোসেনপুর) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের কোন বিকল্প ভাবছে না আওয়ামী লীগ। এই আসনে সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের পক্ষে প্রধানমন্ত্রী তাঁর দৃঢ় অবস্থানের কথা জানিয়ে দিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুস্পষ্টভাবে বলে দিয়েছেন, “আশরাফের শ্বাস থাকা পর্যন্ত কিশোরগঞ্জ-১ থেকে যেন কেউ মনোনয়ন চাইতে না আসে। আশরাফ অসুস্থ থাকলে প্রয়োজনে আমি গিয়ে তার পক্ষে ভোট করবো।”

আওয়ামী লীগের একাধিক দায়িত্বশীল নেতা বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, ‘দলের প্রতি আনুগত্য এবং ত্যাগের স্বীকৃতি হিসাবে সৈয়দ আশরাফকেই কিশোরগঞ্জ-১ আসনে মহাজোটের প্রার্থী করছেন শেখ হাসিনা।’

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম কিশোরগঞ্জ-১ (কিশোরগঞ্জ সদর ও হোসেনপুর) আসনের টানা চার বারের সংসদ সদস্য। বাংলাদেশে সৎ ও স্বচ্ছ রাজনীতির আদর্শ এই নেতা দীর্ঘদিন ধরে থাইল্যান্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এই অসুস্থতার জন্য তিনি জাতীয় সংসদ থেকেও ছুটি নিয়েছেন। তাঁর এই অসুস্থতা নিয়ে নানা কথা আলোচিত হলেও হাইকমান্ডের বার্তা এতটাই শক্ত যে সেখানে দল বা জোটের কারও ভিন্ন কোনো চিন্তার কোনো অবকাশ নেই।

দলীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, অসুস্থতার কারণে শারীরিক অনুপস্থিতি থাকলেও কিশোরগঞ্জ-১ আসনে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম অপ্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী। দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড, প্রশাসনিক দায়িত্বে দৌঁড়ঝাপ দৃশ্যমান নয় অথচ কেবল এই আসনে নয় দলের ভেতরে-বাইরে জনপ্রিয়তায় ঈর্ষণীয় এমন রাজনীতিবিদ কোন দলেই সাম্প্রতিককালে দেখা যায়নি। সৈয়দ আশরাফের এই কারিশমার রহস্য কারো জানা নেই। বিষয়টি সবার কাছেই বিস্ময়কর।

১৯৯৬ সালের ১২ই জুনের নির্বাচনে প্রথম বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালের ২৯শে ডিসেম্বর তৃতীয় বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম মহাজোট সরকারের মন্ত্রীসভায় লাভ করেন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব। এ সময়ে টানা দুইবার তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের গুরুত্বপূর্ণ পদ অলঙ্কৃত করেন। এর আগে ওয়ান ইলেভেন পরবর্তী সময়ে দলের ক্রান্তিলগ্নে দলের হয়ে অসাধারণ ভূমিকা পালন করায় তিনি আবির্ভূত হন ‘সফলতার প্রতীক’ হিসেবে।

বিশ্লেষকদের মতে, স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম একজন নির্লোভ, দেশপ্রেমিক ও আত্মত্যাগী নেতা হিসেবে আমৃত্যু জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিশ্বস্ত সহচর ছিলেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পরিবার-পরিজনসহ বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর ক্ষমতাসীন খুনি মোশতাক চক্রের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ না করায় তাঁকে কারাবরণ করতে হয়। এর মাত্র কিছুদিন পর ৩রা নভেম্বর মধ্যরাতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে সৈয়দ নজরুল ইসলামসহ জাতীয় চার নেতাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

সৎ পিতার সৎ সন্তান হিসেবে যুক্তরাজ্যের মূলধারার রাজনীতিতে জায়গা করে নেওয়া সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার ডাকে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফিরে এসেছিলেন। রাজনীতিতে অবিস্মরণীয় এই প্রত্যাবর্তনের পর একজন ভদ্র, বিনয়ী ও অজাতশত্রু রাজনীতিবিদ হিসেবে দলের সবার শ্রদ্ধা ও স্নেহ কুড়াতে বেশি সময় নেননি সৈয়দ আশরাফ।

অতিকথন ও ক্ষমতার দম্ভ সৈয়দ আশরাফকে স্পর্শ করতে পারেনি। একজন উদার পশ্চিমা গণতান্ত্রিক রাজনীতিবিদের মতোই তিনি নীরবে নিভৃতে পথ হেঁটেছেন। তদবিরবাজ, মতলববাজ, সুবিধাবাদীরা যেমন তাঁর কাছে ভিড়তে পারেননি, তেমনি দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, ক্ষমতার অপব্যবহারে নুন্যতম কলঙ্কের ছিটেফোটাও তাঁর গায়ে লাগেনি। স্বভাবতই বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাও তার প্রতি আস্থা হারাননি।

সৈয়দ আশরাফের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর এই দৃঢ় অবস্থানের পর শুক্রবার (৯ নভেম্বর) একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য কিশোরগঞ্জ-১ আসনে সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের পক্ষে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করা হয়।

সর্বশেষ
জনপ্রিয় খবর