শিরোনাম

“কবি গুরুর সেই অমর ‘বানী’ ভুল প্রমান করাটাই- প্রজন্মের মুক্তিযুদ্ধ”

সর্বশেষ আপডেটঃ ১২:১৩:৪৮ পূর্বাহ্ণ - ২০ আগস্ট ২০১৮ | ১,২৬৯

বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে মানার প্রধান শর্ত স্বাধীনতার মহান স্থপতি আমাদের জাতির পিতা “বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে” তাঁর স্বমহিমায় বরণ করা”।
এতে কোনো প্রকার সন্দেহের অবকাশ না রেখে মুক্তিযুদ্ধকে তাঁর অবিকৃত ইতিহাসে ধারণ করা। এই উচ্চারণের ব্যতিক্রম ঘটলে আমরা কেবল উত্তরোত্তর সংকটেই জর্জরিত হবো।

বিশেষত, আমরা যারা বঙ্গবন্ধুর দলগত কিংবা আদর্শের অনুসারী আমাদের উচিত “জাতির পিতাকে” কোন দল বা গোষ্টিতে গণ্ডিবদ্ধ না রেখে- সৎ ও সত্যের পথে অগ্রসর হয়ে বাংলা ও বাঙ্গালীর সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ শুদ্ধতম সন্তান, বাঙ্গালী শ্রেষ্ঠতম এই মহান নেতাকে সার্বজনীন করা।

জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে “আওয়ামীলীগের সভাপতি” ছিলেন সরকার প্রধান ও ছিলেন । দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে তিনি পরিনত হন জাতির জনকে,,,,,,
কিন্তু জাতির জনক হিসেবে একটি দলের সভাপতি পদে থাকা তিনি তা পছন্দ করেননি।
তাই ১৯৭৪ সালের ১৮ জানুয়ারী ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয় আওয়ামী লীগের দ্বিবার্ষিক কাউন্সিল। সেই কাউন্সিলে তিনি সভাপতি পদ থেকে অব্যাহতি নেন।

আমারা যদি সত্যিই বঙ্গবন্ধুর আদর্শের উত্তরসূরি হয়ে থাকি; তবে বঙ্গবন্ধুর এই উদার মানসিক সিদ্ধান্ত থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে। অন্যথায় যতদিন না এ কাজটি করা সম্ভব হবে; ততদিন সংকট জিইয়ে থাকবে, জাতীয় ঐক্য বিনষ্ট হবেই হবে।

অতএব, আমরা আমাদের মূলে ফিরে যেতে হলে, সকল প্রকার অন্ধত্বের আবরণ খুলে উদারচিত্তে সামনে এগুতে হবে। কারণ জাতীয় ভিত্তিমূলে ফিরে যেতে না পারলে জাতির সংকট কখনোই দূর হবার নয়।

এক-দুটো নির্বাচন বা রাজনৈতিক বাগাড়ম্বরে এ পরিস্থিতির উত্তরণ করা সম্ভব নয়,,,,
আর সে কারণেই প্রয়োজন জাতীয় সংস্কৃতির জাগরণ, যা কুলষিত মননকে পরিচ্ছন্ন করবে।

ইতিহাস বারবার সাক্ষ্য দেয়, “বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের” প্রতি এই বৈরিতায় জাতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে!
লাভবান হয়নি তারাও যারা ইতিহাস হত্যার ভয়ঙ্কর ষড়যন্ত্রের খেলায় মত্ত ছিলো! তাদের এই প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রের যাত্রাপথ কণ্টকাকীর্ণ হয়েছে, জনগোষ্ঠী উত্তরোত্তর বিভাজিত হয়েছে,সকল প্রকার সংকট গ্রাস করেছে সমাজকে।

যার রাজ সাক্ষী “১৯৭৫ থেকে ১৯৯০” সাল!
গুরুত্বপূর্ণ এ সময়কালে রাষ্ট্রযন্ত্র পরিচালিত হয়েছে অবৈধ সেনাপতি শাসকদের হাতে, কিংবা তাদের হাতে গড়ে তোলা হঠাৎ গজানো রাজনীতিবিদের হাতে। বাংলাদেশের সীমানায় নতুন করে আরেকটি ‘পূর্ব পাকিস্তান’ তৈরির চেষ্টা চালান হয়েছে, যে সাম্প্রদায়িকতাকে বিতারিত করা হয়েছিল ত্রিশ লাখ শহীদের আত্মদানের মধ্য দিয়ে, তাকে নতুন করে আবারও জাগরুক করা হয়েছে।

বাংলাদেশ যত সংকট বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই আরোপিত এবং পরিকল্পিত; রাষ্ট্রের স্থপতিকে হত্যার মধ্য দিয়ে, লাখো শহীদের রক্তস্নাত মুক্তিযুদ্ধকে আঘাত করার মধ্য দিয়ে যার যাত্রা শুরু হয়। আর এভাবেই ১৯৭৫-পরবর্তী শাসকদের হাতে রাষ্ট্রের মহান স্থপতি চরমভাবে উপেক্ষিত হয়েছেন, অপমানিত হয়েছেন; উপেক্ষিত হয়েছে মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, চেতনা ও আদর্শ।

দুর্ভাগ্যজনক এই প্রক্রিয়ায় স্বাধীনতা ও সমাজ প্রগতির চিহ্নিত প্রতিপক্ষরা শক্তি সঞ্চয় করেছে, একাত্তরের পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে তারা সংঘবদ্ধ হয়েছে।

একাত্তরের ইতিহাসের প্রতি বৈরিতা ও পঁচাত্তরের হত্যাকাণ্ডের ঘটনা দুটি বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্বাভাবিক অগ্রযাত্রার মূল প্রতিবন্ধক এটি কেউ অস্বীকার করার কোন সুযোগ নেই। একাত্তরের পরাজিতরাই খোলস বদলে যারা পঁচাত্তরের কুশীলব হয়েছিল, তারা ভেবেছিল রাষ্ট্রপিতার হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে সদ্য স্বাধীন দেশের সকল অর্জন ধূলিস্যাৎ করা সম্ভব হবে। হয়তো তারা এও চেয়েছিল, মুসলমান প্রধান একটি জনপদে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে আধুনিক এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের গুড়াপত্তন করার সাফল্য দেখিয়েছেন, তাকে আঁতুড়ঘরেই গলা টিপে হত্যা করলেই তাদের চাওয়া বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।

শেষ পর্যন্ত ঐ সব পরাজিত শক্তির সে আশা পূরণ হয়নি- “সত্য সত্যই’ সত্য কভুও মিথ্যাধীন কয়াদি নয়! তবুও সত্য জাগবেই” আর তারই ধারাবাহিকতায় এরূপ শত প্রতিবন্ধকতার পরও ইতিহাসের অমোঘ নিয়মেই বাংলাদেশের রাষ্ট্রপিতার হত্যাকাণ্ডের বিচার ঠেকানো যায়নি, যদিও তাকে ঠেকাবার সব চেষ্টাই হয়েছিল। এমন কি বিচার ঠেকানো যায়নি একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী ও মানবতাবিরোধীদের, যারা পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর দোসর হয়ে ধর্মের নামে এ দেশের মাটিতে নির্বিচার গণহত্যা ও নির্বিচার নারী নিগ্রহ করেছিল ১৯৭১ সালে।

দেরিতে হলেও যা ফিরে এসেছে আবারো, ইতিহাসের নিজস্ব শক্তিকে কখনো ঠেকানো যায়নি-! ইতিহাসের নিয়মেই ইতিহাসের অমোঘ শক্তি কশাঘাত করেছে সকল পরাধীন শক্তির মিথ্যার দুয়ারে। সাময়িকভাবে হলেও একাত্তর ও পঁচাত্তরের কুশীলবরা পর্যদুস্ত হয়েছে, বাংলাদেশ আবারো বিশ্বের বুকে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে স্বমহিমায়।

যে সত্যকে সামনে নিয়ে ‘বঙ্গবন্ধু’- হাজার বছরের নিষ্পেষিত, লাঞ্ছিত, ঘৃণিত, অধিকার বঞ্ছিত কথিত রুরের জাতি বাঙ্গালীর কাংখিত আমাদের এই সোনার বাংলার স্বাধীনতার নেতৃত্ব দিয়ে বিশ্বের বুকে একটি লাল সবুজের নতুন ভূখণ্ড এনে দিয়েছিলেন- জাতির পিতা তাঁর প্রথম ভূমিকায় সাফল্য অর্জন করেন।
দ্বিতীয় ভূমিকায় পূর্ণ সাফল্য অর্জনের পূর্বেই তাঁকে হারিয়ে আমরা চিরতরে নিঃস্ব হয়ে যাই।

সেই ধারাবাহিকতায়, দীর্ঘ ছয় বছর পর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে পিতার রেখে যাওয়া সকল স্বপ্নকে সত্যি করবার সে ধীর প্রত্যয়ে তারই রক্তের উত্তরাধিকার আজকের বাংলাদেশের সফল মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন, জননেত্রী, বিদ্যানন্দিনী, বিশ্বনেত্রী ‘শেখ হাসিনা’ সকল ষড়যন্ত্রকে উপেক্ষা করে, ১৯’ বার মৃত্যুর মুখামুখি হলেও একজন মহিলা মানুষ হিসেবে যে ভাবে’ আমাদের দেশকে পৃথিবীর বুকে একটি উন্নত মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে ইতিমধ্যে প্রমান করতে সক্ষম হয়েছেন-
বর্তমান বাংলাদেশের এমন দ্রুত অগ্রগতি দেখে পূর্বের ন্যায়ে বিশ্বের তথাকথিত সাম্রাজ্জবাদীরা রীতিমত ঈর্ষান্বিত হয়ে; দেশীয় একাত্তর ও পঁচাত্তরের কুশীলব তথা এদের পরবর্তী প্রজন্ম কর্তৃক আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অনভিপ্রেত পরিকল্পিত সংকটে আরোপন করতে চাচ্ছে !!

শুধু তাই নয় বিদেশের মানুষের কাছে আমাদের দেশকে বারবার প্রশ্নবিদ্ধ করছে! যার দরুন দেশের সামগ্রিক অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্থ করে আমাদের অর্জিত সকল উন্নয়নকে ম্লান করার মাধ্যমে পরাজিত শক্তির পুনঃউত্থান! লাখো শহীদের রক্তস্নাত মুক্তিযুদ্ধে অর্জিত লাল সবুজের পতাকাকে ইতিহাস থেকে মুছে দিয়ে পাকি স্বপ্নের নয়া জাল বুনার ঘৃণ্য পাঁয়তারা করছে।
আর কারা এই সব ষড়যন্ত্র করছে, কাদের ইন্ধনে হচ্ছে তা বর্তমান প্রজন্ম জানতে হবে ও জনগণকে জানাতে হবে।

আমি বিশ্বাস করি- ডিজিটাল বাংলাদেশে সকল পরাধীন শক্তি একত্রিত হয়ে নিরন্তর বিষবাষ্প ছড়ালেও নতুন প্রজন্মের বৃহৎ অংশ মুক্তিযুদ্ধের অবিকৃত ইতিহাসের প্রতি আস্থাশীল হয়ে উঠেছে।
বাংলাদেশের মানুষেরা বিকৃত ইতিহাস থেকে বেরিয়ে এসে ন্যায় ও সত্যের পক্ষ অবলম্বন করতে আগ্রহী হয়েছে। আমি মনে করি, নতুন প্রজন্মের এই মনোজাগতিক উত্থান ইতিহাসেরই আরেক আশীর্বাদ।

আমাদের পূর্ববর্তী প্রজন্মের অগ্রজরা একটি ভাষার জন্য একটি দেশের জন্য এতো রক্ত দিতে, এতো সম্ভ্রম হারাতে পারে?  তাহলে আমরা বর্তমান আধুনিক যুগের অত্যাধুনিক মানুষ হয়ে এ যুগে আমাদের কোন রক্ত দিতে হবে না, সম্ভ্রম হারাতে হবেনা শুধুমাত্র আমাদের পুরনো সকল ব্যর্থতা ও কলঙ্ক থেকে শিক্ষা নিয়ে ন্যায় ও সত্যকে স্বীকার করার মাধ্যমে- রাষ্ট্রকে সমৃদ্ধিশালী ও বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা বিনির্মাণ সম্ভব।

কাজেই, শুধু সরকার নয়; দেশের জনগণেরও সার্বিক পরিস্থিতির মূল্যায়ন ও বিবেচনা করা জরুরি।

১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারী বঙ্গবন্ধু স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে আবেগঘন কণ্ঠে বলেছিলেন  “ সাড়েসাত কোটি সন্তানের হে বিমুগ্ধ জননী রেখেছ বাঙালী করে মানুষ করনি“…..! কবি গুরু তুমি দেখে যাও; আমার বাঙ্গালী আজ মানুষ হয়েছে; বাংলাদেশ আজ স্বাধীন হয়েছে! আমার জীবনের সাধ আজ পূর্ণ হয়েছে!
আমি বলবো আমার পিতার বাঙ্গালীদের ওপর অঘাধ বিশ্বাসের ফলে কবি গুরুর এই তিক্ত কথার ভুল প্রমান করতে পারেননি…….!!
– ফলাফল সরূপ ১৯৭৫ এর ১৫ আগষ্ট!!
বারবার চেষ্টা করেও কবি গুরুর এই কথার ভুল প্রমান করতে আমরা ব্যর্থ হয়েছি!
আর একবার চেষ্টা করা যাক দেখি – দেশ রত্ন শেখ হাসিনা আমাদের কতটুকু শিখাতে পেরেছে…….?
আমার মনে হয়, কবি গুরুর তিক্ত কথার ভুল প্রমান করার সুযোগ এসেছে –আমরা বাঙ্গালী জাতি হিসেবে কতটুকু শিখে মানুষ হতে পেরেছি তা নির্ণয় করার?!
আমি বিশ্বাস করি এরই মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি লক্ষ্যচ্যুত হবে না, মুক্ত বুদ্ধিচর্চা ও ব্যক্তি-স্বাধীনতা বিপন্ন হবে না, বরং এমন এক ঐতিহ্য স্থাপিত হবে- যা এই ভূখণ্ডের মানুষকে উত্তরোত্তর আধুনিক জাতিতে রূপান্তরিত করবে ইনশাআল্লাহ।

This may be my last message, from today Bangladesh is independent.

I call upon the people of Bangladesh, wherever you might be and whatever you have, to resist the army of occupation to the last. Your fight must go on until the last soldier of the Pakistan occupation army is expelled from the soil of Bangladesh and final victory is achieved.”

Sheikh Mujibur Rahman
26 March 1971

অর্থঃ

“এটাই হয়তো আমার শেষ বার্তা, আজ থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন। আমি বাংলাদেশের মানুষকে আহবান জানাই, আপনারা যেখানেই থাকুন, আপনাদের সর্বস্ব দিয়ে দখলদার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত প্রতিরোধ চালিয়ে যান। বাংলাদেশের মাটি থেকে সর্বশেষ পাকিস্তানি সৈন্যটিকে উৎখাত করা এবং চূড়ান্ত বিজয় অর্জনের আগ পর্যন্ত আপনাদের যুদ্ধ অব্যাহত থাকুক।”

পিতার এই বার্তাটি আমাদের হৃদয়ে ধারন পূর্বক বাস্তবায়নের প্রত্যাশায়…………

লেখকঃ মোঃ রকিবুল ইসলাম রকিব 

 

       “ভালো থাকবেন” “ভালো রাখবেন”

“জয় বাংলা”     “জয় বঙ্গবন্ধু”                                                           “জয় হোক দেশরত্ন, বিশ্বনেত্রী শেখ হাসিনার”

সর্বশেষ