শিরোনাম

কবিগুরু আজ মিথ্যাকথা প্রমান হয়ে গিয়েছে আমার বাঙালি আজ মানুষ-১০ জানুয়ারী

সর্বশেষ আপডেটঃ ০১:৪৫:৫৭ পূর্বাহ্ণ - ১০ জানুয়ারি ২০১৯ | ১৪৭

নিউজ জনতার প্রতিদিনঃ ১০শে জানুয়ারী ১৯৭২ সারাদেশ উদ্বেগ এ অধির হয়ে আছেন তাদের নেতা ফিরে আসছেন। নেতা ফিরে আসছেন,শহর-গ্রাম-বন্দরে শুধু ছড়িয়ে পড়েছে একই গুঞ্জন নেতা আসছেন,নেতা আসছেন।স্বাধীন বাংলার নতুন সূর্যলোকে,সূর্যের মত চির ভাস্কর,উজ্জ্বল,মহান নেতা আসছেন তার প্রান প্রিয় স্বদেশ ভূমিতে।তাকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশের মাটিকে স্পর্শ করে ঘোষণা করলো সেই মহানায়কের আগমন বার্তা।
সদ্য স্বাধীন বাংলায় পা রেখে কিংবদন্তী এই নায়ক শিশুর মত আবেগে আকুল হলেন। আনন্দ বেদনার অশ্রুধারা নামলো তার দু-চোখের কোল বেয়ে।প্রিয় নেতাকে ফিরে পেয়ে এদেশের মানুষ ও সেদিন হয়েছিলো অশ্রু সজল। লক্ষ-কোটি জনতার কণ্ঠে সেদিন জয় বাংলা,জয় বঙ্গবন্ধু ধ্বনিতে প্রকম্পিত হয়েছে বাংলার আকাশ বাতাস। লক্ষ জনতার সামনে কথা বলতে গিয়ে সেদিন পিতা বারে বারে হৃদয়ের রুদ্ধ আবেগে অধির হয়ে পড়ছিলেন।তারপর সেই চির চেনা কণ্ঠে ভেসে এলো প্রিয় নেতার ধ্রুপদী বাণী।

আমি প্রথমে স্মরণ করি আমার বাংলাদেশের ছাত্র,শ্রমিক,কৃষক,বুদ্ধিজীবি জনগণকে হিন্দু মুসলমানকে হত্যা করা হয়েছে আমি তাদের আত্নার মঙ্গল কামনা করি।

আমি আপনাদের কাছে দু-এক কথা বলতে চাই।আমার বাংলাদেশ আজ স্বাধীন হয়েছে,আমার জীবনের সাধ আজ পূর্ণ হয়েছে,আমার বাংলার মানুষ আজ মুক্ত হয়েছে।আমি আজ ব্যক্তিতা করতে পারবো না বাংলার ছেলেরা বাংলার মায়েরা বাংলার কৃষক বাংলার শ্রমিক বাংলার বদ্ধিজীবি যে ভাবে সংগ্রাম করেছে আমি কারাগারে বন্ধি ছিলাম ফাঁসি কাষ্ঠে যাবার জন্য প্রস্তুত ছিলাম কিন্তু আমি জানতাম আমার বাঙালি কে দাবায় রাখতে পারবে না। আমি আমার সেই যেই ভাইয়েরা জীবন দিয়েছে তাদের আমি শ্রদ্ধা নিবেদন করি তাদের আত্নার মাগফেরাত কামনা করি।

আজ প্রায় ৩০ লক্ষ মানুষ কে মেরে ফেলা হয়ে হয়েছে ২য় বিশ্ব যুদ্ধে ১ম বিশ্ব যুদ্ধেও এত মানুষ এত সাধারন জনগণকে ম্নৃত্যু বরণ করে নাই শহীদ হয় নাই যা আমার ৭ কোটির বাংলায় করা হয়েছে।আমি জানতাম না আমি আপনাদের কাছে ফিরে আসবো আমি খালি একটা কথা বলেছিলাম,তোমারা যদি আমাকে মেরে ফেলে দাও কোন আপত্তি নাই মৃত্যুর পরে তোমরা আমার লাশটা আমার বাঙ্গালির কাছে দিয়ে দিও এই একটা অনুরোধ তোমাদের কাছে।

আমি মোবারকবাদ জানাই ভারত বর্ষের প্রধানমন্ত্রী শ্মরীমতি ইন্দিরা গান্ধী কে,আমি মোবারকবাদ জানাই ভারতবর্ষের জনগণকে আমি মোবারকবাদ জানাই ভারতবর্ষের সামরিক বাহিনীকে,আমি মোবারকবাদ জানাই রাশিয়াকে জনগণকে,আমি মোবারকবাদ জানাই জার্মানি,ব্রিটিশ,ফ্রান্স সব জায়গার জনগণকে তাদের আমি মোবারকবাদ জানাই যারা আমাকে সমর্থন করেছে।

আমি মোবারকবাদ জানাই আমেরিকার জনসাধারণ কে,মোবারকবাদ জানাই সারা বিশ্বের মজলুম জনগণকে যারা আমার এই মুক্ত সংগ্রাম কে সাহায্য করেছে।আমার বলতে হয় ১ কোটি লোক এই বাংলাদেশ থেকে ঘর বাড়ি ছেড়ে ভারতবর্ষে আশ্রয় নিয়েছিলো ভারতের জনসাধারণ মিসেস ইন্দিরা গান্ধী তাদের আশ্রয় দিয়েছেন তাদের আমি মোবারকবাদ না দিয়ে পারি না।যারা অন্যরা সাহায্য করেছেন তাদেরামার মোবারকবাদ দিতে হয়।

তবে মনে রাখা উচিত বাংলাদেশ স্বাধীন রাষ্ট্র।বাংলাদেশ স্বাধীন থাকবে বাংলাদেশকে কেউ দমাতে পারবে না।বাংলাদেশকে নিয়ে ষড়যন্ত্র করে লাভ নাই। আমি যাবার আগে বলেছিলাম ও বাঙালি এবার তোমাদের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম আমি বলেছিলাম ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোল তোমরা ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তুলে সংগ্রাম করছো আমি আমার সহকর্মীদের মোবারক বাদ জানাই।আমার বহু ভাই বহু কর্মী আমার বহু মা-বোন আজ দুনিয়ায় নাই তাদের আমি দেখবো না।

আমি আজ বাংলার মানুষ কে দেখলাম,বাংলার মাটি কে দেখলাম,বাংলার আকাশ কে দেখলাম বাংলার আবওহাওয়া কে অনুভব করলাম।বাংলাকে আমি সালাম জানাই আমার সোনার বাংলা তোমায় আমি বড় ভালোবাসি বোধয় তারজন্নই আমায় ডেকে নিয়ে এসেছে।

আমি আশা করি দুনিয়ার সব রাষ্ট্রের কাছে আমার আবেদন আমার রাস্তা নাই আমার ঘাট নাই আমার খাবার নাই আমার জনগণ গৃহহারা সর্বহারা,আমার মানুষ পথের ভিখারী।তোমরা আমার মানুষ কে সাহায্য করো মানবতার খাতিরে তোমদের কাছে আমি সাহায্য চাই।দুনিয়ার সকল রাষ্ট্র এর কাছে আমি সাহায্য চাই।তোমারা আমার বাংলাদেশকে তোমরা রিকোগনাইজ করো।জাতিসংঘের ত্রাণ দাও দিতে হবে উপায় নাই দিতে হবে।আমি আমরা হার মানবো না আমরা হার মানতে জানি না। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন-

সাত কোটি বাঙ্গালির হে বঙ্গ জননী, রেখেছ বাঙ্গালি করে মানুষ করনি।’ 

কবিগুরু আজ মিথ্যাকথা প্রমান হয়ে গিয়েছে আমার বাঙালি আজ মানুষ।আমার বাঙালি আজ দেখিয়ে দিয়েছে দুনিয়ার ইতিহাসে এত লোক আত্নহতি এত লোক জান দেয় নাই। তাই আমি বলি আমায় দাবায় রাখতে পারবা না।

আজ থেকে আমার অনুরোধ, আজ থেকে আমার আদেশ, আজ থেকে আমার হুকুম, ভাই হিসেবে নেতা হিসেবে নয়, প্রধান্মন্ত্রী হিসেবে নয়, প্রেসিডেন্ট হিসেবে নয়,আমি তোমাদের ভাই তোমরা আমার ভাই।

এ স্বাধীনতা আমার পূর্ণ হবে না যদি বাংলার মানুষ পেট ভরে ভাত না পায়,এ স্বাধীনতা আমার পূর্ণ হবে না যদি বাংলার মা-বোনেরা কাপড় না পায়,এ স্বাধীনতা আমার পূর্ণ হবে না যদি এদেশের যুবক যারা আছে তারা চাকরি না পায়। মুক্তিবাহিনী,ছাত্র সমাজ তোমাদের মোবারকবাদ জানাই তোমরা গেরিলা হয়েছো তোমরা রক্ত দিয়েছো,রক্ত বৃথা যাবে না,রক্ত বৃথা যায় নাই।

একটা কথা একটা কথা আজ থেকে বাংলায় যেন আর চুরি ডাকাতি না হয়।বাংলায় যেন আর লুঠ-তরাজ না হয়।বাংলায় যারা অন্য লোক আছে অন্য দেশের লোক,পশ্চিম পাকিস্তানের লোক বাংলায় কথা বলে না তাদের বলছি তোমরা বাঙালি হয়ে যাও।আর আমি আমার ভাইদের বলছি তাদের উপর হাত তুলো না আমরা মানুষ ,মানুষ ভালোবাসি।

তবে যারা দালালি করছে যারা আমার লোকদের ঘরে ঢুকে হত্যা করছে তাদের বিচার হবে এবং শাস্তি হবে। তাদের বাংলার স্বাধীন সরকারের হাতে ছেড়ে দান একজনকেও ক্ষমা করা হবে না।তবে আমি চাই স্বাধীন দেশে স্বাধীন আদালতে বিচার হয়ে এদের শাস্তি হবে। আমি দেখিয়ে দিতে চাই দুনিয়ার কাছে শান্তিপূর্ণ বাঙালি রক্ত দিতে জানে শান্তিপূর্ণ বাঙালি শান্তি বজায় রাখতেও জানে।

আমায় আপনারা পেয়েছেন আমি আসছি।জানতাম না আমার ফাসির হুকুম হয়ে গেছে আমার সেলের পাশে আমার জন্য কবর খোড়া হয়েছিলো।আমি প্রস্তুত হয়েছিলাম,বলেছিলাম আমি বাঙালি আমি মানুষ,আমি মুসলমান একবার মরে ২ বার মরে না।আমি বলেছিলাম আমার মৃত্যু আসে যদি আমি হাসতে হাসতে যাবো আমার বাঙালি জাত কে অপমান করে যাবো না তোমাদের কাছে ক্ষমা চাইবো না।
এবং যাবার সময় বলে যাবো জয় বাংলা,স্বাধীন বাংলা,বাঙ্গালি আমার জাতি,বাংলা আমার ভাষা, বাংলার মাটি আমার স্থান।

ভাইয়েরা আমার যথেষ্ট কাজ পরে রয়েছে আমার সকল জনগণকে দরকার যেখানে রাস্তা ভেঙে গিয়েছে নিজেরা রাস্তা করতে শুরু করে দাও।আমি চাই জমিতে যাও ধান বুনো,কর্মচারীদের বলি একজন ও ঘুষ খাবেন না।মনে রাখবেন তখন সুযোগ ছিলো না,আমি অপরাধ ক্ষমা করবো না।

ভাইয়েরা আমার যাওয়ার সময় আমাকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। তাজউদ্দীন, নুজ্রুলেরা আমাকে ছেড়ে যায়,আমি বলেছিলাম ৭ কোটি বাঙালির সাথে মরতে আমার ডেকো না।আমি আশীর্বাদ করছি ওরা কাঁদছিল আমি বলি তোরা চলে যা আমার আস্তা রইলো আমি এই বাড়িতে মরতে চাই। এটাই হবে বাংলায় জায়গা এখানেই আমি মরতে চাই ওদের কাছে মাথানত করে আমি পারবো না।

ডাঃ কামাল কে নিয়ে ৩ মাস জেরা করছে আমার বিরুদ্ধে সাক্ষী দাও কয়েকজন বাঙালি আমার বিরুদ্ধে সাক্ষী দিয়েছে তাদের আমরা জানি চিনি এবং তাদের বিচার ও হবে। আপনারা বুঝতে পারেন-

“নম নম নম সুন্দরী মম জননী জম্নভুমি গঙ্গার তীর সিন্ধ সুমীর জীবনও জুড়ালে তুমি”

আজ আমি যখন এখানে নামছি আমি আমার চোখের পানি ধরে রাখতে পারি নাই।যে মাটিকে আমি এত ভালোবাসি,যে মানুষ কে আমি এত ভালোবাসি,যে জাত কে আমি এত ভালোবাসি,আমি জানতাম না সে বাংলায় আমি যেতে পারবো কিনা।আজ আমি বাংলায় ফিরে এসেছি বাংলার ভাইয়েদের কাছে,মায়েদের কাছে,বোনদের কাছে।বাংলা আমার স্বাধীন,বাংলাদেশ আজ স্বাধীন।

পশ্চিম পাকিস্তানের ভাইদের বলি তোমরা সুখে থাকো। তোমার সামরিক বাহিনীর লোকেরা যা করেছে আমার মা বোন্দের রেপ করেছে,আমার ৩০লক্ষ লোককে মেরে ফেলে দিয়েছে,যাও সুখে থাকো।তোমাদের সাথে আর না শেষ হয়ে গেছে তোমরা স্বাধীন থাকো,আমিও স্বাধীন থাকি।
তোমাদের সাথে স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে বন্ধু হতে পারে তাছাড়া বন্ধু হতে পারেনা। তবে যারা অন্যায় ভাবে অন্যায় করেছে তাদের বিরুদ্ধে যথেষ্ট ব্যবস্থা করা হবে।আপনাদের কাছে আমি ক্ষমা চাই আমি আরেকদিন ব্যক্তিতা করবো একটু সুস্থ হয়ে লই।আপনারা চেয়ে দেখেন আমি সেই মুজুবুর রহমান আর নাই।আমার বাংলার দিকে চেয়ে দেখেন সমান হয়ে গেছে জায়গা,গ্রাম এর পর গ্রাম পুড়ে গেছে এমন কোন পরিবার নাই যার মধ্যে আমার লোক কে হত্যা করা হয় নাই।

কতবড় কাপুরুষ যে নিরপরাধ লোক কে এভাবে হত্যা করে এভাবে সামরিক বাহিনীর লোকেরা,আর তারা বলে কি আমরা পাকিস্তানের মুসলমান সামরিক বাহিনী ঘৃণা করা উচিত জানানো উচিত দুনিয়ার মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার পরে বাংলাদেশই ২য় মুস্লিম দেশ,ভারত ৩য়, পাকিস্তান ৪র্থ।
আমরা মুসলমান,মুসলমান মা বোনদের রেপ করে। আমার রাষ্ট্রে হবে সমাজতন্ত্র ব্যবস্থা।এই বাংলাদেশে হবে গণতন্ত্র এই বাংলাদেশে হবে ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র।যারা জানতে চান আমি বলে দিবার চাই আসার সময় দিল্লিতে শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধীর সাথে কথা হয়েছে আমি আপনাদের বলতে পারি তাকে জানি আমি তাকে আমি শ্রদ্ধা করি সে পন্ডিত নেহেরুর কন্যা সে মতিলাল নেহেরুর ছেলের মেয়ে। তারা রাজনীতি করেছে ত্যাগ করেছে তারা আজকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হয়েছে যেদিন আমি বলবো সেদিন ভারতের সৈন্য বাংলার মাটি ছেড়ে চলে যাবে এবং তিনি আস্তে আস্তে কিছু সরিয়ে নিচ্ছেন।

যে সাহায্য তিনি করেছেন আমি আমার ৭কোটি বাঙালির পক্ষ থেকে তাকে,তার সরকার কে ভারতের জনগণকে শ্রদ্ধা অন্ত্রের অন্তস্থল থেকে মোবারকবাদ জানাই।
ব্যক্তিগতভাবে এমন কোন রাষ্ট্র প্রধান নাই যার কাছে তিনি আপিল করেন নাই শেখ মুজিব কে ছেড়ে দিতে। তিনি নিজে ব্যক্তিগত ভাবে দুনিয়ার সকল রাষ্ট্রে কাছে বলেছেন তোমরা ইয়াইয়া খান কে বল শেখ মুজিব কে ছেড়ে দিতে একটা রাজনৈতিক সমাধান করতে।১কোটি লোক নিজের মাতৃভূমি ছেড়ে অন্য দেশে চলে গেছে?এমন অনেক দেশ আছে যেখানে লোক সংখ্যা ১০ লাখ,১৫লাখ,২০লাখ,৩০লাখ,৪০লাখ,৫০লাখ।শতকরা ৬০ভাগ দেশে লোক্সংখ্যা ১ কোটির কম আর আমার বাংলা থেকে ১ কোটি লোক মাতৃভূমির মায়া ত্যাগ করে ভারতে স্থান নিয়েছিলো কত অসুস্থ হয়ে মারা গেছে,কত না খেয়ে কষ্ট পেয়েছে,কত ঘর বাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছে এই পাষাণদের দল।
ক্ষমা কর আমার ভাইয়েরা ক্ষ্মা কর আজ আমার কারো বিরুদ্ধে প্রতিহিংসা নাই একটা মানুষকে তোমরা কিছু বলো না অন্যায় যে করেছে তাকে সাজা দিবো আইন নিজের হাতে তুলে নিও না।মুক্তিবাহিনীর ছেলেরা তোমরা আমার সালাম গ্রহন করো,ছাত্রসমাজ তোমরা আমার সালাম গ্রহন করো,শ্রমিক্সমাজ তোমরা আমার সালাম গ্রহন করো, বাংলার হতভাগ্য হিন্দু-মুসল্মামান আমার সালাম গ্রহন করো।

আর আমার কর্মচারী পুলিশ,ইপিআর যাদের উপর মেশিনগান চালিয়ে দেয়া হয়েছে,যারা মা বোন ত্যাগ করে পালিয়ে গিয়েছে তার স্ত্রীদের ধরে কুলমিটোলা নিয়ে যাওয়া হয়েছে তোমাদের আমি সালাম জানাই,তোমাদেরকে আমি শ্রদ্ধা জানাই।

নতুন করে গড়ে উঠবে এই বাংলা,বাংলার মানুষ হাসবে বাংলার মানুষ খেলবে বাংলার মানুষ মুক্ত হয়ে বাস করবে বাংলার মানুষ পেট ভরে ভাত খাবে এই আমার সাধনা এই আমার জীবনের কাম্য আমি যেন এই কথা চিন্তা করেই মরতে পারি এই আশীর্বাদ এই দোয়া আপনার আমাকে করবেন।এই কথা বলে আপনাদের কাছে থেকে বিদায় নিবার চাই।আমার সহকর্মী দের আমি ধন্যবাদ জানাই যাদের আমি যে কথা বলে গিয়েছিলাম তারা সকলে একজন একজন করে প্রমাণ করে দিয়ে গেছে মুজিব ভাই বলে গিয়েছে তোমরা সংগ্রাম করো,তোমরা স্বাধীন করো,তোম্রা জান দাও বাংলার মানুষ কে মুক্ত করো।

আমার কথা চিন্তা করো না আমি চললাম যদি ফিরে আসি আমি জানি আমি ফিরে আসতে পারবো না আজ আল্লাহ আছে তাইআজ আমি আপনাদের কাছে ফিরে এসেছি। তোমাদের আমি মোবারকবাদ জানাই আমি জানি কি কষ্ট তোমরা করছো। আমি কারাগারে ছিলাম ৯ মাস আমাকে কাগজ দেয়া হয় নাই।এ কথা সত্য আসার সময় ভুট্টো আমায় বললেন শেখ সাব দেখেন ২ অংশের কোন একটা বাঁধন রাখা যায় নাকি আমি বললাম আমি বলতে পারি না আমি বলতে পারবো না আমি কোথায় আছি বলেত পারি না আমি বাংলায় গিয়ে বলবো আজ বলছি ভুট্টো সাহেব সুখে থাকো বাঁধন ছিঁড়ে গেছে আর না। তুমি যদি কোন বিশেষ শক্তির সাথে গোপন করে আমার বাংলার স্বাধীনতা হরণ করতে চাও মনে রেখ দলের নেতৃত্ব দিবে শেখ মুজিবুর রহমান মরে যাব স্বাধীনতা হারাতে দিবো না।

ভাইয়েরা আমার,আমার ৪লক্ষ বাঙালি আছে পাকিস্তানে আমি অনুরোধ করবো তবে একটা জিনিস আমি বলতে চাই ইন্টারন্যাশনাল ফোরামে জাতিসংঘের মাধ্যমে অথবা ওয়ার্ল্ড জুরির পক্ষ থেকে ১টা ইনকোয়ারি হতে হবে কি পাশবিক অত্যাচার কিভাবে হত্যা করা হয়েছে আমার লোকেদের এ সত্য দুনিয়ার মানুষকে জানতে হবে।আমি দাবী করবো বাংলাদেশ জাতিসংঘ কে বাংলাদেশ কে আসন দাও এবং ইনকোয়ারি করো। ভাইয়েরা আমার যদি কেউ চেষ্টা করেন ভুল করবেন আমি জানি ষড়যন্ত্র শেষ হয় নাই সাবধান বাঙালিরা ষড়যন্ত্র শেষ হয় নাই।

একদিন বলেছিলাম ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তুলো,একদিন বলেছিলাম যার যা কিছু আছে তা নিয়ে যুদ্ধ করো,বলেছিলাম এ সংগ্রাম সাব্ধিনতার সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম এ জায়গায় ৭ মার্চ। আজ বলছি তোমরা ঠিক থাকো একতাবদ্ধ থাকো,কারো কথা শুনো না।

ইনশাল্লাহ স্বাধীন যখন হয়েছি স্বাধীন থাকবো একজন মানুষ এই বাংলাদেশে বেঁচে থাকতে এই সংগ্রাম চলবে। আজ আমি আর ব্যক্তিতা করতে পারছি না একটু সুস্থ হলে আবার ব্যক্তিতা করবো।আপনারা আমাকে মাফ করে দেন আপনারা আমাকে দোয়া করেন আপনারা আমার সাথে সকলে একটা মুনাজাত করেন।
সমস্ত মাঠ জুড়ে মানুষ মুনাজাত করছেন।অসংখ্য সাংবাদিক দেশি বিদেশি সাংবাদিক তাদের ক্যামেরা নিয়ে ব্যস্ত।মুনাজাত শেষে বঙ্গবন্ধু জনতার কে বলেন আপনারা

বনঙ্গবন্ধুঃ জয় বাংলা
জনতাঃজয় বাংলা

সর্বশেষ