শিরোনাম

একজন সাদা মনের মানুষ সিয়াম বম দিদি

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৪:৩৬:২৪ অপরাহ্ণ - ২৬ এপ্রিল ২০১৭ | ৫৬

ডেস্ক: কোন কারণে বগা লেক গিয়ে আপনি থাকার জায়গা পাচ্ছেন না? চিন্তা করবেন না। সোজা সিয়াম দিদির কাছে চলে যাবেন। উনি যে ভাবেই হোক আপনার থাকার ব্যবস্থা করে দিবে। কোন কারণে বগালেক গিয়ে আপনার সব টাকা শেষ। ঢাকা ফিরতে পারছেন না? সোজা সিয়াম দিদির কাছে চলে যাবেন। উনি বিনা বাক্যে আপনাকে টাকা দিয়ে দিবে।

কোন পাহাড়ী ছেলে-মেয়ে টাকার অভাবে পড়ালেখা করতে পারছে না? চিন্তা নাই। সিয়াম দিদি সেই বাচ্চার সমস্ত পড়ালেখার খরচ বহন করবে। সিয়াম দিদি কাউকে কখনও খালি হাতে ফেরান না।

ঘটনা ৯৮ সালেরও আগের। বগালেকে তখন ‘নাগরিক’ সমাজের মানুষের পা পড়েনি। দুর্গম পাহাড়ে তখন থেকেই ‘আলোকবর্তিকা’ একজন শিক্ষক, নাম সিয়াম বম। সবার কাছে যিনি ‘সিয়াম দিদি’ নামে পরিচিত।

জীবিকার তাগিদে নিয়মিত রুমা বাজারে আসা-যাওয়া করতে হতো তাকে। সে সময় বাজারে আসা লোকজনের কৌতুহলি প্রশ্ন, কোথায় যান; আমরাও যাবো। এরপর থেকে বগালেকে শুরু হয় সাধারণ মানুষের পদচারণা।

শিক্ষক থেকে পর্যটনের অগ্রদূত সিয়াম বম দিদি। ১৯৯৮ সালে প্রথম বগালেকে মানুষজন আসা শুরু করেন। তখন যারা আসতেন তাদের থাকার জন্য আলাদা কোনো ব্যবস্থা ছিল না। সিয়াম দিদির ভাতিজা লারাম প্রথম ট্যুরিস্ট নিয়ে আসেন।

সিয়াম দিদিকে ৯৯ সালের দিকে ট্যুরিস্টদের একজন প্রথম এখানে পর্যটকদের জন্য কটেজ বানানোর পরামর্শ দেন। এজন্য তিনি ২০ হাজার টাকাও দেন সিয়াম দিদিকে।

শুরুর দিকে দিনে কটেজের ভাড়া ছিল ২০ টাকা। ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ধাপে ধাপে তা ৩০, ৫০, ৭০ টাকায় করা হয়। বর্তমানে একশ’ টাকায় থাকা যায় কটেজে।

বগালেকের পর্যটন বিকাশের অগ্রদূত সিয়াম দিদি ৯৮ সালের আগে বাচ্চাদের পড়াশোনা করাতেন। আশপাশের ৩০-৪০ শিশু নিয়মিত তার স্কুলে পড়াশোনা করতো।

বগালেকে প্রথম বাঙালি নারী হিসেবে মোনালিসা নামে এক নারীর নাম জানান সিয়াম দিদি। তবে প্রথম কোনো পুরুষ এ পথ মাড়িয়েছেন তা স্পষ্ট মনে নাই দিদির।

ডিগ্রি পাস সচেতন এ অগ্রদূত শুধু নিজের নন, বদলে দিয়েছেন পুরো বগালেক এলাকার মানুষের জীবনমান। তার হাত ধরে সবাই এখন আয়ের উৎস পেয়েছে।

লিখেছেন,
দীপ বিশ্বাস,
অ্যাডভোকেট, সুপ্রীম কোর্ট অব বাংলাদেশ ।

সর্বশেষ