শিরোনাম

আমার দ্বারা- আমার সংগঠন, আমার দায়িত্ব, আমার ‘মা’ কতটা নিরাপদ-!?

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৯:০১:৫১ পূর্বাহ্ণ - ৩১ আগস্ট ২০১৮ | ১,৬৮৩

লেখকঃ মো:রকিবুল ইসলাম রকিব

সভাপতি, ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগ। 

চারদিক থেকে ধেয়ে আসা শতবিপদ সংকুল পরিবেশে সকল অন্ধকারের ঘনঘটা বুকের একপাশে রেখে, অন্য পাশে আমাদেরকে আগলে রেখেছেন পরম মমতায় আর ভালবাসায়; যে মানুষটি তিনি আমাদের মমতাময়ী ‘মা’ বিশ্বমানবতার বিবেক “দেশরত্ন শেখ হাসিনা”৷

“১৭মে,১৯৮১ সাল” রচিতো হলো “সোনার বাংলার” এক নতুন ইতিহাস, অতঃপর এক “উদয়-উপাখ্যান” সেদিন প্রকৃতিও তীব্র গর্জে অঝোরে কেঁদেছিলো-সব হারানো পিতাহীন এতিম, আজন্ম দুঃখী, আমাদের প্রানপ্রিয় ‘দেশরত্ন’ – “বঙ্গকন্যা শেখ হাসিনার” স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে।

“১৯৭৫ সালের” সেই কলঙ্কিত দূর্যোগ পরবর্তী দীর্ঘ সাড়ে ছয় বছর পর এই দিনটাই ছিলো বাঙালির চরম কাঙ্ক্ষিত,বহুল প্রত্যাশিত “মাহেন্দ্রক্ষণ”!!! তখন বিকেল সাড়ে চার,বাতাসে স্পষ্ট বৈরিতা ছিলো ভীষণ ঝড় বৃষ্টি আঁধার উপেক্ষা করে-হাতে নিয়ে বাঙালির মুক্তির এক “আলোকবর্তিকা” স্বদেশে এই দিনেই প্রথম ‘পা’ রাখলেন “বঙ্গকন্যা শেখ হাসিনা”।

আসমান জমিন প্রকম্পিত করে তীব্র কষ্টে অন্তর দহনে সেদিন “দেশরত্ন” ভীষণ কেঁদেছিলেন অঝোর ধারায়। “বঙ্গ-পিতার” স্বপ্নের “সোনার-বাংলাদেশে” পা রেখে প্রথমেই “বঙ্গকন্যা” নিশ্চন্তে নিরাপদ ভরসায় নিয়েছিলেন পরম “আস্তার-নিঃশ্বাস”।

■ অতঃপর “তিঁনি” উদ্ধত আহ্বানে “কোটি-বাঙালিকে” শোনালেন তাঁর বিশ্বাস আর আশা আকাঙ্ক্ষার অমর সেই কথাগুলি —– “আমি সব হারিয়ে আপনাদের কাছে এসেছি” তিনি আরো বলেন—

“আমি আওয়ামী লীগের নেত্রী হওয়ার জন্য আসিনি। আপনাদের বোন হিসাবে,মেয়ে হিসাবে,বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী আওয়ামী লীগের কর্মী হিসাবে আমি আপনাদের পাশে থাকতে চাই।”

“বাঙালি” বিশ্বাস রাখলো কার্যত পরম আশ্বস্ত হলো। অবশেষে “বাংলাদেশ”-“শেখ হাসিনাকে” প্রচন্ড গর্বে আর অহংকারে তাঁর “মাতৃগর্ভে” ধারন করলো। প্রকৃতপক্ষে “বাংলাদেশ ও বাঙালি” কিছুটা হলেও সুযোগ পেলো ইতিহাসের কলঙ্কিত ঘৃনিত“১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টের” প্রচন্ড পাপ আর অভিশাপ মোচনের।

“কিছু হত্যা শুধু হত্যাই করতে পারে কখনো বিনাশ করতে পারেনা-রেখে যায় “কষ্ট-স্মৃতি” আর বিপ্লবী রক্ত।কিছু “মৃত্যু” থাকে যা আমৃত্যু লাখো কোটি হৃদয়ে অবিনশ্বর “চির-স্মরণে”।পাশাপাশি সে “অযাচিত-মৃত্যু” ভবিষ্যতের তীর্যক “গণ-বিদ্রোহের” ইঙ্গিত দেয় এবং কাম্য ফলাফল প্রকাশ করে। দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রকারীরা পুরো পরিবারটি কেড়ে নিয়েই ক্লান্ত হয়নি- বারবার নির্যাতন,নিপীড়ন,বঞ্চনায় আর আক্রমনে নিঃশ্চিহ্ন করার ষড়যন্ত্রে আজও জাগ্রত! ভাষাহীন আর সীমাহীন আঘাতেও মমতাময়ী ‘মা’ দেশ-দেশের মানুষকে রেখেছেন নিজের জীবনের উর্ধ্বে৷ 

ত্রিশ লক্ষ শহীদের আত্মত্যাগ, দুই লক্ষেরও অধিক মা, বনের সম্ভ্রমের ও হাজার বছরের লাঞ্ছিত, বঞ্চিত, অত্যাচারিত, অসহায় বাঙ্গালীর মনের আর্তনাদে-আল্লহর অশেষ রহমতের দরুন – “২১” বার মৃত্যুর দ্বারপ্রান্ত থেকেও এমন স্বজন হারানোর মর্মান্তিক দৃশ্য বুকে ধারণ করেও এ সবকিছুই স্মৃতি স্মৃতিপটে রেখে-

আমাদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও শান্তিতে বসবাস করার যুগোপযোগী এক বাংলাদেশ নির্মাণে ক্লান্তিহীন কাজ করে যাচ্ছেন। একজন মহিলা মানুষ হয়েও যে ভাবে’ আমাদের দেশকে পৃথিবীর বুকে একটি উন্নত মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে ইতিমধ্যে প্রমান করতে সক্ষম হয়েছেন। আর বর্তমান বাংলাদেশের এমন দ্রুত অগ্রগতি দেখে পূর্বের ন্যায়ে বিশ্বের তথাকথিত সাম্রাজ্জবাদীরা রীতিমত ঈর্ষান্বিত হয়ে; দেশীয় একাত্তর ও পঁচাত্তরের কুশীলব তথা এদের পরবর্তী প্রজন্ম কর্তৃক আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অনভিপ্রেত পরিকল্পিত সংকটে আরোপন করতে চাচ্ছে !! শুধু তাই নয় বিদেশের মানুষের কাছে আমাদের দেশকে বারবার প্রশ্নবিদ্ধ করছে! 

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণতন্ত্রের চালিকাশক্তি ও হৃদপিণ্ড। নিরাপদ এক বাংলাদেশ নির্মাণে আপোষহীন ভূমিকায় তিনি আজ মানবিক বিশ্বের নেতা৷ নিজের দৈনন্দিন জীবনের কিয়াংশ রেখে পুরো সময়টা দেশের তরে আমাদের তরে উদাত্ত মানসিকতায় তিনি আজ নিদ্রাহীন৷

আর আমরা-

• আমাদের পরিচয় শুধুই কি ছাত্রলীগ, যুবলীগ,

• আওয়ামীলীগ বা সংশ্লীষ্ট কোন শাখা? মাত্র?

• আমার দ্বারা কতটা নিরাপদ আমার সংগঠন-আমার দায়িত্ব?

• চলার পথে কতটুকু বাস্তবায়ন করছি জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ?

• খেয়াল রাখছি কি- কোথাও কোন ষড়যন্ত্র হচ্ছে কি না?

• দলের চেয়ে আমাকেই আমি বেশি মূল্যায়ন করছি কি?

• আদর্শিক ভাবনাধারার সম্পর্ক প্রাধন্য না দিয়ে নিজের সিদ্ধান্তকেই প্রাধান্য দিচ্ছি?

• আমার সমাজ বা মহল্লায় দলের জন্য কতটুকু সমর্থন আদায় করতে সক্ষম হয়েছি? এমন কিছু কথার উত্তর বের করুন৷

• ভিতর থেকেই বেরিয়ে আসবে আপনি মমতাময়ী মা দেশ রত্ন শেখ হাসিনার কতটুকু যোগ্য সন্তান?

আসছে জাতীয় সংসদ নির্বাচন তা সর্বদাই খেয়ালে রেখে আমাদের প্রতিটা কর্ম, চলাচল, বাঁচনভঙ্গি, আচরনের কারনে যাতে আমাদের মায়ের মতন নিস্পাপ ‘মমতাময়ী মা’ যেন প্রশ্নবিদ্ধ না হয়! যদি আপনার ‘মা’ আপনার কাছে অনিরাপদ হয় তবে উভয় জগতে আপনার ধ্বংস অনিবার্য৷

শুধু কলা খাবেন, গাছ লাগানোর চিন্তা করবেন না, এভাবে কলা খাওয়ার দিন শেষ৷ খাবারের উপরের অংশ চুষে ফেলে দেওয়া অংশের সাথে আপনাকেও ফেলে দেওয়া হবে৷ মনে রাখবেন, সৃষ্টি কর্তার দৃষ্টির বাহিরে আপনি আমি কেউই নয়৷ প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তিতে সব হিসেব পেয়ে যাবেন শীঘ্রই৷

মমতাময়ী মায়ের হাতে আজ যেমন নিরাপদ, বাংলাদেশ তেমনি নিরাপদ থাকে যেন আমাদের মা জননেত্রী শেখ হাসিনা৷

■ আচ্ছা একটু ভাবুনতো, এই মুহূর্তে বাংলাদেশের ওপর থেকে কোনো কারণে যদি শেখ হাসিনার কর্মক্ষম ও স্নেহময় হাত উঠে যায় তবে উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের পথে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা মুখ থুবড়ে পড়বে, বাংলাদেশকে আবার পাকিস্তানে পরিণত করার যে স্বপ্ন এখনো বিএনপি-জামাত দেখে চলেছে তাও বাস্তবে পরিণত হবে।

এ কথা অনস্বীকার্য, শেখ হাসিনাই বাংলাদেশকে উন্নয়নের মহাসড়কে তুলে দিয়েছেন। শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের কাতারে নাম লিখিয়েছে। উন্নয়নের পথে বাংলাদেশের এই অগ্রযাত্রাকে জারি রাখতে হলে শেখ হাসিনার হাতকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। শেখ হাসিনার দীর্ঘায়ু ও সুস্থতা বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য খুবই প্রয়োজন। উন্নয়নের যে উদ্দীপনা, যে আশা-আকাঙ্ক্ষা জনগণের মধ্যে শেখ হাসিনা সৃষ্টি করতে পেরেছেন তা টিকিয়ে রাখতে হলে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পুরো জাতিকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে হবে।

আরাধনায় তোমার- একজন “কর্মী-রকিব” বারেবার!

সর্বশেষ
জনপ্রিয় খবর