শিরোনাম

আমরা স্বাধীন, হে পরাধীন

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৬:৫৬:৫৪ অপরাহ্ণ - ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭ | ৫২

আমরা স্বাধীন, হে পরাধীন
সালেম সুলেরী

‘অহিংসা যার পরম ধর্ম’- ওল্টালো কে বাণী?
শাক্যরাজ্যে খুন খেলে যায় ব্রতভাঙ্গা বিষ-রাণী।
বারহামা ডাক বার্মা হয়েছে, অথবা মায়ানমার,
আরাকানদের রাখাইন রাজ্যে- এ কি রূপ হায়েনার!
মহামুসলিম, হিন্দু নিধন, উৎখাত ভূমি, গেহ-
আগুন-ঝলসে, কাবাব বানিয়ে চিবিয়েছে হাড়, দেহ।
রোহিঙ্গা জাত, বাঙালিও তারা, বৈধ রাজ্যবাসী,
উৎখাতে আজ বিশ্বকসাই- নাসাকা’র সন্ত্রাসী।
গণহত্যায় চীবর-গেরুয়া, এ কোন স্বরাজ, কিং-
ধর্মের নামে বুনোবার্মার ‘এথনিক ক্লিনজিং’।
বাম হাতে শ্বেত-শান্তি-নোবেল, ডানটিই ডাকু, কানা,
পাশেই দ্ব্যর্থ বীর-বাঙালির শান্তির সামিয়ানা।

শান্তিপদক, হয়তো ফেরত, বিজয়ের কতো লাভ?
আনতেই হবে ভূমির বিজয়, যার বুকে অভিশাপ।
রাখাইন রাজ্য রোহিঙ্গাদের, মগ-কে তাড়াও, দখল-
জন্মভূমি, মাতৃভূমি, দাও স্বাধীনের সকল-
প্রাণ-অধিকার- বাঁচতে দাও
সুখ-পরিবার- সাজতে দাও,
জয়-পতাকা হস্তে ভরা কোদাল-কলম কাস্তে দাও।

লাশের বদল লাশ-
দাও উপহার ফাঁস,
যেমন করে বাংলা বিজয়, পাক বাহিনীর নাশ,
তেমন করেই নাৎসী সু’চির ঘটুক সর্বনাশ।
খেলুক এবার রোহিঙ্গারা স্বাধীন বসবাস,
রক্তভূমি আরাকানে ফের সবুজাভ ঘাস।
প্রধান মাদক মিয়ানমারে খাদক সেনার ধড়,
গেরুয়া রং হিংস্র ভিখু’র ধ্বংসে অস্ত্র ধর।

নাফ নদীকে উজাড় করে দেবো দ্রোহের জল,
বঙ্গ-উপ-সাগর আমার আকাশ ভূমি-তল,
জলে-স্থলে অন্তরীক্ষে–
জাগাও অস্ত্র, কঠিন মিগ-কে,
সাবমেরিনের ঠাপ-কে জাগাও,
কোথায় সৈন্য যুদ্ধে লাগাও।
জাগো বাংলা, জাগো মুসলিম
হিন্দু-খৃষ্ট-বৌদ্ধপ্রতিম-
ডাকো মিত্র ডাকো বিশ্ব
বাংলাদেশ কি হতাশ, নিঃস্ব?
ডাকো টাইগার, জাগো ভক্ত
খেলো খুন আজ, খেলো ভক্ত।

আরাকান আজ স্টেডিয়াম
আজ আর নয় ধৈর্য, সিয়াম-
আজকে বদর, একাত্তুরও
নম্র-নীরব, নয়তো মূঢ়।
যেমন তেমন মরার চে’
হয়তো শহীদ পরার্থে।
কেনো উচ্ছেদ বারংবার,
পাল্টা আঘাত মারদাঙার,
জিঘাংসা আজ চিতায় দহন!
আর কতো লাশ নীরব বহন!
এগিয়ে আসছে হত্যাকারী
বাড়াচ্ছে নীল নজরদারি,
নজর তাদের বাংলাদেশও!
ইতিহাসের কি বিদ্বেষও
মগ-রাণীদের হাতছানিদিন,
মগমুল্লুগ, প্রাণহানি ঋণ,
ঠেকাও তমসা ঠেকাও,
ঐক্যবদ্ধ শক্তি-সাহস- খুনীকে খড়্গ দেখাও।

শান্তির রাণী অশান্ত আজ, মরাকাষ্ঠায় মত্ত,
রক্তশাসনে বোমা ও চিতায় ফেরাবোই আনুগত্য।
নরক দিয়েছো, পরখ এবার- শান্তি ফেরাবো রক্তে,
নোবেল ঠেকিয়ে নোবেল আনবো, যুদ্ধজয়ের তখ্তে।
তখ্ত তাউসে ফের আরাকান
ফের আলাওল, প্রসিদ্ধ-প্রাণ,
পদ্মাবতীর বীর প্রজাতির পরিত্রাহি’র পরিত্রাণ।
ভয়-ভীতি নয় প্রতিবেশী,
শিশু ও নারীর ক্ষতি বেশি।
নেই প্রকৃত বুদ্ধ…
নৃশংসতায় ক্রুদ্ধ,
শুন্য মিনিট আলটিমেটাম, মগ্-সেনা অবরুদ্ধ…
যুদ্ধ দিয়েই রোহিঙ্গা-লাল ভূমি হোক পরিশুদ্ধ।

মহা-ঐক্যের উক্তি,
বিকৃতিনাশ, স্বীকৃতিবাস, রক্তশপথ চুক্তি-
আমরা স্বাধীন, হে পরাধীন, নাও পতাকা, মুক্তি।

সর্বশেষ