শিরোনাম

আনন্দ মোহন কলেজে এইচ এসসি পরীক্ষার ‘প্রশ্নপত্র’ এবং অনৈতিক কেন্দ্র সুবিধার ‘ফি মাত্র “৫০০৳”

সর্বশেষ আপডেটঃ ০১:৫৯:০৪ পূর্বাহ্ণ - ০২ এপ্রিল ২০১৯ | ২০১

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার প্রতিদিনঃ আনন্দ মোহন কলেজে এইচ এসসি পরীক্ষার ‘প্রশ্নপত্র’ এবং অনৈতিক কেন্দ্র সুবিধার ‘ফি মাত্র “৫০০৳” ময়মনসিংহে আনন্দ মোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্রলীগের তিন যুগ্ন আহ্বায়ক শেখ সজল,ও মাহফুজুল আলম ফাহাদসহ আরো কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতাদের বিরুদ্ধে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে কৌশলে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।

আনন্দ মোহন কলেজ ছাত্রলীগের দুই যুগ্ন আহ্বায়ক কৌশলে নগরীর শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম কলেজের মানবিক শাখার পরীক্ষার্থীদের টেস্ট পরীক্ষায় উর্ওীণ না হওয়া দুইজনকে শিক্ষা বোর্ডের অসৎ কর্মকর্তার মাধ্যমে সিট পরিবর্তন করে ফরম পূরণ করে প্রবেশপত্র দিয়ে পরীক্ষা দেওয়ানোর কথা বলে দু’জনের কাছ থেকে ফরম পূরণের টাকা নিয়ে তা আত্মসাৎ করার অভিযোগ করেছে পরীক্ষার্থীর অভিভাবক মো: আব্দুস সাত্তার।

 

ওই দুই ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ থেকে জানা যায়, আনন্দ মোহন কলেজ ছাত্রলীগের নেতাদের প্রতারণার ফাঁদে পড়ায় ওই কলেজের দুই পরীক্ষার্থী এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি। তাদের কাছ থেকে পরীক্ষার ফরম পূরণ বাবদ প্রায় ৫০ হাজার টাকা নিয়ে সটকে পড়েন ওই দু’ নেতা।

 

পরীক্ষা দিতে না পারা মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বলেন, ‘পরীক্ষার ফরম পূরণ করে দেয়ার কথা বলে কলেজ শাখা ছাত্রলীগের নেতারা আমার কাছ থেকে দুই দফায় ৩০ হাজার টাকা নিয়েছে। কিন্তু তারা আমার ফরম পূরণ না করে সব টাকা মেরে দিয়েছে।’

 

একই অভিযোগ করে তানিম বলেন, ‘আমাদের দুই বন্ধুর কাছ থেকে তারা প্রায় ৫০ হাজারের মতো টাকা নিয়েছে। ফরম পূরণের সব কাগজপত্রও তারা নিয়েছে। কিন্তু আমাদের কোনো প্রবেশপত্র আসেনি। গত দুই দিন ধরে তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।’

 

শুধু তাই নয়, শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম কলেজের পরীক্ষার্থীদের আনন্দ মোহনে সিট পড়ায় ওই কলেজের মানবিক শাখার পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা হলে অনৈতিকভাবে বিভিন্ন সুবিধা দেয়ার কথা বলে ২৮ জন পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে জনপ্রতি ৫’শত করে টাকা ছাত্রলীগের নেতারা কলেজ অধ্যক্ষ ও শিক্ষক পরিষদ নেতাদের নামে হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন পরীক্ষার্থীরা।

 

এ বিষয়ে কলেজ ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মাহমুদুল হাসান সবুজ বলেন, আমি ভুক্তভোগি ছাত্রদের অভিযোগ শুনে জানতে পারলাম মূল ঘটনা! এবং এই ঘটানার সত্যতা প্রমাণের ভিত্তিতে দোষী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমে অপরাধীদের সংগঠন থেকে আজীবন বহিষ্কারের জন্য বাংলাদেশ ছাত্রলীগের শীর্ষ নেত্রীবৃন্দের বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

এ বিষয়ে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রকিবুল ইসলাম রকিব জানান, আনন্দমোহন কলেজে আমি ছাত্রলীগের নেতৃত্ব দিয়েছি। ছাত্রলীগ কখনো অনৈতিক কর্মকান্ডকে সর্মথন করেনা। এ ঘটনায় যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে সংগঠনের সাধারন সম্পাদকের সাথে কথা বলে সাংগঠনিক ব্যবস্হা গ্রহন করা হবে।

 

জেলা ছাত্রলীগ সাধারন সম্পাদক সরকার মো: সব্যসাচী বলেন, প্যাসিফিকভাবে এমন ঘটনার স্বীকার হয়েছে এমন কারো নাম এখনও জানি না। তবে আমি শুনেছি ছাত্রলীগের নাম ব্যবহার করে কলেজের হোস্টেলে ও পরীক্ষার্থীদের সাথে এমন কাজ করে চাঁদা আদায় করে যাচ্ছে। যদি এরকম কোন ঘটনায় ছাত্রলীগের পদধারী কেউ জড়িত থাকে তাহলে আমি বলবো ছাত্রলীগে এমন অপরাধীদের কোন জায়গা নেই বা হবে না। সাংগঠনিকভাবে তাদের ব্যবস্হা নেয়া হবে।

 

এমন ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে আনন্দ মোহন কলেজের অধ্যক্ষ নারায়ণ চন্দ্র ভৌমিক জানান, এভাবে অর্থ গ্রহণ বড় ধরনের অপরাধ বলে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা আইনি ব্যবস্থা নেব। পাশাপাশি তাদের সমুদয় অর্থ অভিযুক্তদের কাছ থেকে আদায় করে ফেরতের ব্যবস্থা নেব। এই ঘটনার সঙ্গে কলেজে কর্মরত কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর থেকে কলেজ ছাত্রলীগের অভিযুক্ত নেতাদের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া পাওয়া যায়নি।

সর্বশেষ