শিরোনাম

আজকের শিশুরাই আগামী দিনের প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী হবে: শেখ হাসিনা

সর্বশেষ আপডেটঃ ১২:০৯:৩৩ অপরাহ্ণ - ২৬ মার্চ ২০১৯ | ৫১

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আজকের শিশুরাই আগামী দিনের প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী হবে। তারাই একদিন দেশের নেতৃত্ব দেবে। তারা দেশ পরিচালনা করবে। এই শিশুরাই একদিন সোনার বাংলা গড়বে। সেভাবেই তাদেরকে গড়ে উঠতে হবে। তাই তিনি মা-বাবা, শিক্ষকদের কথা শুনে, নিয়ম-শৃঙ্খলা মেনে সুন্দর জীবন গড়তে শিশু-কিশোরদের পরামর্শ দিয়েছেন ।

মঙ্গলবার মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ঢাকা জেলা প্রশাসন আয়োজিত জাতীয় শিশু-কিশোর সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

এর আগে সকাল ৮টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় স্টেডিয়ামে উপস্থিত হওয়ার পর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক ও ঢাকা জেলা প্রশাসক আবু সালেহ মোহাম্মদ ফেরদৌস খান তাকে অভিবাদন জানান। এরপর প্রধানমন্ত্রী জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। জাতীয় পতাকা উত্তোলনের সময় জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। এরপর প্যারেড কমান্ডার মৌসুমী আক্তার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সালাম জানান।

বেলুন ও শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে ৪৯তম স্বাধীনতা দিবস ও শিশু কিশোর সমাবেশের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর প্রধানমন্ত্রী মূল মঞ্চ থেকে নেমে হেঁটে হেঁটে সমাবেশ পরিদর্শন করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২৪ বছরের সংগ্রাম এবং ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। দেশের মানুষ উন্নত জীবন পাবে, ক্ষুধা এবং দারিদ্র মুক্ত থাকবে এ লক্ষ্য নিয়েই দেশ স্বাধীন হয়েছিল। এটা ছিল জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন। বাংলাদেশ আজ উন্নয়নশীল দেশ। ২০২০ সালে জাতির পিতার জন্মশত বার্ষিকী আমরা উদযাপন করবো। ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী। আমরা ২০২০ থেকে ২০২১ সালকে ‘মুজিব বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছি। আমরা এই সময়টাকে এমনভাবে কাজে লাগাতে চাই যেন বাংলাদেশ ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্রমুক্ত সোনার বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে ওঠে।

তিনি আরো বলেন, আমরা দারিদ্রের হার কমিয়েছি। শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার কমিয়েছি। আমরা প্রিপ্রাইমেরি শিক্ষা ব্যবস্থা শুরু করেছি, শিক্ষা নীতিমালা গ্রহণ করেছি। এই শিক্ষার মধ্য দিয়ে আমরা জাতিকে গড়ে তুলতে চাই। তাই আমরা বিনা পয়সায় মাধ্যমিক পর্যন্ত বই দিয়ে যাচ্ছি এবং আমরা বৃত্তি দিচ্ছি। উচ্চ শিক্ষা পর্যন্ত বৃত্তি দিচ্ছি। যাতে আমাদের দরিদ্র শিশুরাও শিক্ষার সুযোগ পায়। আমরা শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করেছি।

শিশু-কিশোরদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, তোমরা মা-বাবার কথা শুনবে। শিক্ষকদের কথা শুনবে। নিয়ম-শৃঙ্খলা মেনে চলবে। সুন্দরভাবে জীবন যাপন করবে। সেটাই আমরা কামনা করি। শুধু শিক্ষা গ্রহণ করলেই হবে না। এর সাথে খেলাধুলা, শরীর চর্চা, সাংস্কৃতিক চর্চা এগুলো অপরিহার্য। আমার ছেলেমেয়েরা সুস্বাস্থের অধিকারি হবে। তাদের মেধা, মনন বিকশিত হবে। তারা সুন্দরভাবে বাঁচবে। সেটাই আমাদের লক্ষ্য। আর সেই লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের সন্তানরা যেন এগিয়ে যেতে পারে, সেদিকে লক্ষ্য রেখেই কাজ করে যাচ্ছি।

অভিভাবক, শিক্ষক, মসজিদের ইমাম, মাদ্রাসা শিক্ষক ও ধর্মীয় গুরুদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদের কুফল সম্পর্কে আমাদের শিশুদের জানাতে হবে এবং এর হাত থেকে শিশুদের রক্ষা করতে হবে। অভিভাবকদের সব সময় খেয়াল রাখতে হবে যে- সন্তান কোথায় যায়, কি করে? আজকের শিশুরাই আগামী দিনে দেশকে এগিয়ে নিবে। তাদের এগিয়ে যেতে হবে।

আজকের শিশু আগামী দিনে এদেশের কর্ণধার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের শিশুদের মধ্য থেকে কেউ প্রধানমন্ত্রী হবে, বড় বড় চাকরি করবে, দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। আমরা আমাদের শিশুদের সেভাবে গড়ে তুলতে চাই। দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে, দেশকে ভালোবেসে কাজ করবে।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে তোমাদের। তোমরাই গড়ে তুলবে আগামী দিনের বাংলাদেশ। তোমাদেরকেই গঠন করতে হবে বলিষ্ঠ জাতি। আমরা ৪১ সালে উন্নত বাংলাদেশের যে স্বপ্ন দেখছি সেই বাংলাদেশ তোমরাই পরিচালনা করবে। ইনশাআল্লাহ এই বাংলাদেশ হবে দক্ষিণ এশিয়ার শান্তিপূর্ণ উন্নত সমৃদ্ধ দেশ।

শিশু-কিশোদের উদ্দেশে বক্তব্যের পর প্রধানমন্ত্রী জাতীয় পর্যায়ে শুদ্ধ সুরে জাতীয় সঙ্গীত প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন। প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক এই তিন ক্যাটাগরিতে বিজয়ী ৯০ জনকে পুরস্কৃত করা হয়।

পুরস্কার বিতরণের পর সারাদেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিশু-কিশোর সংগঠন মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজ পরিবেশন করে।

কুচকাওয়াজের পর শিশু-কিশোর সমাবেশে এবারের থিম সং ‘নোঙর তোল তোল সময় যে হল হল’ গানটি পরিবেশন করা হয়। গানটির সুরের দোলায় স্টেডিয়াম মাঠ অতিক্রম করে দৃষ্টিনন্দন নৌকা। নৌকার পেছনে বর্ণাঢ্য গাড়ি বহরের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন-অগ্রগতি তুলে ধরা হয়।

সবশেষে শিশু-কিশোর সমাবেশের সবচেয়ে আকর্ষণ পরিবেশনা দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিশু-কিশোর সংগঠনের ‘মনোমুগ্ধকর ডিসপ্লে’।

সর্বশেষ