শিরোনাম

অবৈধ সম্পদের মামলায় ডিআইজি মিজানকে গ্রেফতার করলো পুলিশ

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৪:৫৮:১০ পূর্বাহ্ণ - ০২ জুলাই ২০১৯ | ৪২

অবৈধ সম্পদের মামলায় সাময়িক বরখাস্ত ডিআইজি মিজানুর রহমানের আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চে সোমবার শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।

আদালতের এমন আদেশের পর সোমবার বিকেলে মিজানুর রহমানকে গ্রেফতার করে শাহবাগ থানা পুলিশ।

ডিএমপির রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার মারুফ হোসেন সরদার বলেন, ‘আমরা আদালতের নির্দেশ পালন করছি।

এর আগে হাইকোর্ট বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারক বলেন, তিনি পুলিশের ভাবমূর্তি পুরোপুরি নষ্ট করেছেন। আমরা টিভিতে দেখেছি, (দুদকের একজন পরিচালককে) ঘুষ দেওয়ার ব্যাপারে সে ডেসপারেট বক্তব্য দিয়েছে।

আদালত বলেন, মিজানুর রহমান প্রকাশ্যে ঘুষ লেনদেনের বিষয়ে টেলিভিশনে সাক্ষাৎকার দিয়ে পুলিশ বিভাগের ইমেজ ধ্বংস করেছেন। যেটা পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে কাম্য নয়।

এরপর আদালত মিজানকে গ্রেফতারের নির্দেশ ও মামলার আসামি তার ভাগিনাকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন।

প্রসঙ্গত, মরিয়ম আক্তার ইকো নামে এক তরুণীকে তুলে নিয়ে জোরপূর্বক বিয়ে করার অভিযোগ রয়েছে ডিআইজি মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে। ঘটনার সময় তিনি ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। বিষয়টি ফাঁস করে দেওয়ায় ওই তরুণীকে মামলা দিয়ে ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে গ্রেফতার করান তিনি।

এ ছাড়া এক সংবাদ পাঠিকাকে নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। তোলপাড় শুরু হলে দুটি তদন্ত কমিটি করে পুলিশ সদর দপ্তর। দুটি কমিটিই ডিআইজি মিজানের কর্মকাণ্ডকে ‘অসদাচরণ ও নৈতিক স্খলন’ হিসেবে উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার সুপারিশ করে। গত বছরের শুরুতে দাখিল করা তদন্ত প্রতিবেদনে পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিযোগও আনা হয় তার বিরুদ্ধে।

এদিকে গত বছরই মিজানের অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধানে নামে দুদক। গত ৮ জুন গণমাধ্যমে অডিও প্রকাশ করে মিজান দাবি করেন, তার কাছ থেকে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন দুদক কর্মকর্তা এনামুল বাছির।

ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে পুলিশের উচ্চপদে থেকে তদবির, নিয়োগ, বদলিসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের অনুসন্ধান শুরু হয় ২০১৮ সালের ৪ জানুয়ারি। প্রায় দেড় বছর অনুসন্ধান করে দুদক অভিযোগের সত্যতা পায়। স্থাবর-অস্থাবর বিভিন্ন সম্পদ ডিআইজি মিজানের মালিকানা, নিয়ন্ত্রণ ও ভোগদখলে রয়েছে; যা তার বৈধ আয়ের সঙ্গে মিল খুঁজে পাওয়া যায়নি। তার সেই সম্পদ জব্দ করে দুদক।

সর্বশেষ দুদক পরিচালক মঞ্জুর মোর্শেদের নেতৃত্বে তিন সদস্যের টিম মিজানের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধান করে। এর আগে, বিষয়টির অনুসন্ধান করেন সাময়িক বরখাস্ত হওয়া দুদক পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছির। তার আগে ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ অনুসন্ধান করেন উপপরিচালক ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারী।

ডিআইজি মিজানের অবৈধ সম্পদ অনুসন্ধানের দায়িত্বে থাকা দুদক পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছির (সাময়িক বরখাস্ত) অনুসন্ধান করতে গিয়ে ডিআইজি মিজানের কাছ থেকে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন বলে দাবি করেন। তিনি এ সংক্রান্ত তিনটি অডিও রেকর্ড প্রকাশ করেন। এরপরই ডিআইজি দুদক এনামুল বাছিরকে সাময়িক বরখাস্ত করে। আর মিজান-বাছির ঘুষ কেলেঙ্কারির বিষয়টি অনুসন্ধানে পৃথক একটি কমিটি করে দুদক।

সর্বশেষ