শিরোনাম

অগ্নিঝরা ৪ মার্চ-১৯৭১

সর্বশেষ আপডেটঃ ১২:৩২:৩৭ পূর্বাহ্ণ - ০৪ মার্চ ২০১৯ | ৪৪

অগ্নিঝরা ৪ মার্চ-১৯৭১,আজকের এই দিনে।

১৯৭১-এর মার্চের চার তারিখে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন, ‘বিশ্ববাসী দেখুক, বাংলাদেশের নিরস্ত্র ছাত্র-শ্রমিক-জনতা বুলেটের মুখেও কী দুর্দান্ত সহাস ও দৃঢ়তার সঙ্গে নিজেদের অধিকার হরণের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে।’ এদিন সারাদেশ ছিল হরতালে স্তব্ধ। প্রতিবাদ বিক্ষোভে তপ্ত। সারাদেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে গায়েবানা জানাজা। সভা-সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলে বীর বাঙালী নিয়েছে স্বাধীনতার শপথ ।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে কোন মূল্যে সংগ্রাম চালিয়ে যাবার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বেশ কিছু নির্দেশ জারী করেন।

সরাদেশে চলছিল হরতাল। ওষুধের দোকান, হাসপাতাল, এ্যামবুলেন্স, চিকিৎসক ও সাংবাদিকদের গাড়ি, পানি-বিদ্যুত-গ্যাস সরবরাহ, স্থানীয় টেলিফোন ও বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় টেলিফোন যোগাযোগ, দমকল ও আবর্জনার গাড়ি হরতালের আওতায় আসবে না বলে জানান। পূর্ব পাকিস্তানের টেলিফোন কর্মীরা পশ্চিম পাকিস্তানে ট্রাঙ্কল বুক ও টেলিগ্রাম প্রেরণ থেকে বিরত থাকেন।

গবর্নরের বেসামরিক দায়িত্বে নিয়োজিত মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী কিছু প্রস্তাব নিয়ে গিয়েছিলেন রাতে বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে। তাঁর সেই প্রস্তাবের জবাবে বঙ্গবন্ধু বাঙালীরা কিভাবে মারা যাচ্ছে তার বর্ণনা দেন এবং দৃঢ়তার সঙ্গে তাঁর দাবী মেনে নেয়ার কথা বলেন। এমন সময় সেখানে তাজউদ্দীন আহমদ উপস্থিত হয়ে বলেন এখন আর এক ছাদের নিচে আমাদের অবস্থান সম্ভব নয়। এরপর আর সেই আলোচনা এগোয়নি। অন্যদিকে এদিনে রাজারবাগ পুলিশ লাইন ও পিলখানা থেকে ইপিআর-এর বাংলাদেশী জওয়ানরা রাজপথে মিছিলকারীদের সঙ্গে একাত্ততা ঘোষণা করে জয়বাংলা সে­াগান দিতে থাকে। এবং পূর্বপাকিস্তান সাংবাদিক ইউনিয়ন আন্দোলনের সঙ্গে একাত্ততা ঘোষণা করে সামরিক শাসন প্রত্যাহারের দাবী জানায়।

সর্বশেষ